োভাক জকোভিচ চতুর্থ রাউন্ডে জিততেই জন ম্যাকেনরো বলে ফেললেন,“নোভাক জকোভিচ কি ১৬তম কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল? এখনই বলে দিচ্ছি, এই লোকটার কাছে কখনও এটা পুরোন হবে না। অনেকবার তার হাতে ব্যাপারটা তুলে দিতে হবে। আসলে কী জানেন, প্রথম সেটটা জকোভিচ তার খেলোয়াড় জীবনে সবচেয়ে বাজে ম্যাচ খেলেছিল। পরে নিজেই সেরা শটগুলো নির্বাচিত করে ম্যাচটা শেষ করে গেল। কথায় বলে শুরুটা কীভাবে করলেন তা বড় কথা নয়। বড় কথা হল শেষটা কীভাবে করলেন সেটাই।”
দীর্ঘ টেনশন আর উত্্কন্ঠার মধ্যে কেটে গেল উইম্বলডনের অষ্টম দিন। নোভাক জকোভিচ যখন শুরু করলেন খেলা তখন সকলে ধরে নিয়েছিলেন এবারে প্রথম তিনটে ম্যাচ যেমন তূরীয় মেজাজে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছেন, নিশ্চয় এবারও তাই হবে। ধাক্কা খেয়ে বসলেন শুরুতেই। সবকিছু তালগোল পাকিয়ে গেল। তারচেয়ে বড় কথা, জকোভিচ যা খেললেন সব ভুলে ভরা। দ্বিতীয় সেট থেকে আবার নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করলেন জকোভিচ। যেন ঘুম ভেঙে জেগে উঠলেন তিনি। ব্যাস, তারপর যা হওয়ার তাই হল। অ্যালেক্স ডি মিনোরকে ধরাশায়ী করে পৌছে গেলেন প্রি-কোয়ার্টারে। বুঝিয়ে দিলেন, সামান্য ভুলের মাশুল তিনি প্রথম সেটে দিয়েছেন। বাকিগুলো আর ভুল করতে রাজি নন। তাই খেলার শেষে মিনোর হারলেন ৬-১, ৪-৬, ৪-৬ ও ৪-৬ সেটে। সোমবার রজার ফেডেরার এসেছিলেন ম্যাচ দেখতে। তঁার সামনে কোর্টে সাক্ষাতকার দিয়ে গেলেন নোভাক জকোভিচ।

উইম্বলডনে হাজির হয়ে গেলেন রজার ফেডেরার।
বিশ্বের ছয় নম্বর খেলোয়াড় জকোভিচ সেন্টার কোর্টে দঁাড়িয়ে বলেন, “কেমন অনুভূতি লাগছে সত্যি বলতে কী বুঝিয়ে এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আমার সত্যি জানা নেই। আমি এখন বুঝবার চেষ্টা করছি, কোর্টে কী ঘটেছিল, ম্যাচ পুরো কেমন হল। মানতে দ্বিধা করব না, শুরুটা মোটেই আমার ভালো হয়নি। দারুন শুরু করেছিল অ্যালেক্স িড মিনোর।” জকোভিচের প্রথম সেটে তিনবার সার্ভিস ভাঙেন মিনোর। সেই সময় বাতাস বইছিল খুব জোরে। জকোভিচ সেই সময় বুঝে উঠতে পারেননি কীভাবে মিনোরকে মোকাবিলা করবেন। দ্বিতীয় সেট থেকে তিনি যে ঘুরে দঁাড়ান তা স্বীকার করে নিয়ে জকোভিচকে বলতে শোনা যায়, “দ্বিতীয় সেট থেকে নিজে ধীরে ধীরে থিতু হতে শুরু করি। দ্বিতীয় সেট শেষ করাটা আমার কাছে খুব কঠিন ছিল। সেই সময় নিজেকে ফিরে পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল ধীরে ধীরে হলেও ম্যাচে আমি ফিরছি। সেই সময় যেন বিড়াল-ইদুঁরের খেলা চলছিল। আমার দেখা মিনোর হল একজন দ্রুততম খেলোয়াড়।”
ঘাসের মাঠে খেলা যে সহজ নয় তা স্বীকার করে নিয়ে জকোভিচকে বলতে শোনা যায়, “ঘাসের মাঠে খেলা মোটেই সহজ নয়। যখন বল খুব নীচুতে লাফিয়ে ওঠে সেই সময় যদি ভালভাবে লক্ষ্য না রাখেন তাহলে খেলা চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন। সেই সময় প্রতিপক্ষ চেষ্টা করবে আপনাকে বারবার সেই ভুল করাতে। ভাললাগছে শক্তভাবে লড়াই করে এই ম্যাচ আমি জিততে পেরেছি। নিঃসন্দেহে আমার কাছে এটা একটা খুশির দিন।”







