বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট। তার আগে ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক জানিয়ে দিলেন, লর্ডসের পিচ বোলারদের সাহায্য করার পাল্লা ভারি। তবে এই ব্যাপারে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার ফের পিচে ঘাস কাটা হবে। সেই ঘাস কাটার পর তঁাদের কাছে পিচের চরিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
“লর্ডসের পিচ সম্ভবত বোলারদের সাহায্য করবে এমন বানানো হচ্ছে। বুধবার ঘাস কাটা হলে ছবিটা পরিষ্কার হবে। ব্যাটসম্যানদের কাছে পিচের চরিত্রটা সম্ভবত কঠিন হতে চলেছে।” সীতাংশু কোটাক কথাগুলো বলেছেন। এজবাস্টনে ভারত ৩৩৬ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। এতবড় ব্যবধানে জয় ভারত কখনও বিদেশের মাটিতে পায়নি। এই জয় সিরিজে পিছিয়ে থাকা ভারতকে নিয়ে এসেছে ১-১ ড্র করার জায়গায়। পিচে সবুজের পরিমাণ বেশি থাকার অর্থ ব্যাটসম্যানদের কাছে কাজটা কঠিন হয়ে পড়া। তবু ব্যাটিং কোচ জানিয়ে দিলেন, দলের ব্যাটসম্যানরা এরজন্য প্রস্তুত। “ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সামনে যে পিচই দেওয়া হোক না তারজন্য তারা খেলতে প্রস্তুত। অতিরিক্ত কিছু না করেই চারের ঘরে সকলে রান করছে। তাই আমরা যেকোন পিচে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।” জানিয়ে দিয়েছেন ব্যাটিং কোচ। ব্যাটসম্যানদের এভাবে দারুন পারফরম্যান্স দেখানো, বিদেশের মাটিতে এসে রানের পাহাড় গড়ে তোলা, এসবের জন্য অবশ্যই ব্যাটিং কোচের কৃতিত্বকে বড় করে দেখা উচিত। কিন্তু সীতাংশু কোটাক তারমধ্যে ঢুকতেই চাননা। তঁার মতে, “ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্বকে বড় করে দেখা উচিত। আমি এরজন্য কৃতিত্ব নিতে চাইনা। মানছি, এই উইকেট খুব চ্যালেঞ্জিং হবে। তারজন্য আমরা খুব একটা ভাবছি না।”

লর্ডসের পিচ বোলারদের সাহায্য করলেও গিলকে নিয়ে চিন্তামগ্ন ইংল্যান্ড
এজবাস্টনে ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড শিবির থেকে দাবি তোলা হয়েছিল, উপমহাদেশের মতো পিচ বানানো হয়েছে। তাই স্টোকস বাহিনি সেভাবে খেলতে পারেননি। এই অভিযোগ সম্পূর্ন উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের ব্যাটিং কোচ। তঁার ধারণা, “কে কী বলেছে সেই সবের দিকে নজর দিতে আমরা মোটেই রাজি নই। শুধু এটুকু বলতে পারি, এজবাস্টনের পিচকে ভালভাবে ব্যবহার করতে পেরেছে ভারতীয় বোলাররা। আমাদের বোলাররা যখন বল করেছে তখন সেই বল বেশি নড়াচড়া করেছে। উপ-মহাদেশের মতো পিচ ছিল কথাটার মধ্যে কোনও সত্যতা নেই।” স্বভাবতই উঠে এসেছে শুভমন গিলের প্রসঙ্গ। বিশেষ করে এজবাস্টনের মাটিতে প্রথম ইনিংসে তিনি ২৬৯ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১৬১ রান। গিল বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি শুধু দলের নেতা নন, প্রকৃত ব্যাটসম্যান। যিনি কিনা বিপদের সময় দলের প্রধান কান্ডারি হয়ে উঠতে পারেন। সীতাংশু কোটাক মনে করছেন, গিলের মানসিকতা ও টেকনিকের কোনও তুলনা হতে পারে না। “অধিনায়ক হওয়ার পরেও তার খেলায় কোনও ছাপ পড়েনি। মানসিকতা আগের মতোই রয়েছে। অযথা ঝঁুকি নিতে চাইছে না। বাইরের বল অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারছে। সময় নিয়ে খেলছে। তাছাড়া ব্যাটিংয়ে কিছু কিছু টেকনিকে পরিবর্তন এনেছে। সব মিলিয়ে গিল এখন একজন পরিণত ক্রিকেটার।”বলেন ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে সীতাংশু কোটাক মনে করছেন, ভারত এখন যে মনোবল ফিরে পেয়েছে সেখানে ইংল্যান্ডকে চাপ সৃষ্টি করতে হলে অনেক কিছু করতে হবে। যা এককথায় অসম্ভব। কিন্তু ইংল্যান্ড এবার যে মরিয়া হয়ে নামবে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।







