ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামের মাঠকে নিয়ে উঠে এলো কিছু প্রশ্ন। যারমধ্যে প্রাক্তন ফুটবলাররা মনে করছেন, বৃষ্টির দিনে ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামের মাঠ ফুটবলারদের কাছে সাক্ষাত যম। এখানে বেশিরভাগ ফুটবলার চোট পেয়ে দীর্ঘদিন খেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, অনেকের ফুটবল জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হল, রেলওয়ে এফসির তারক হেমব্রম। সোমবার মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে যেভাবে চোট পেয়েছেন তাতে মাঠ নিয়ে শোনা যাচ্ছে কঠোর সমালোচনা। প্রাক্তন ফুটবলার স্বপন সেনগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামের মাঠে ফুটবলারদের চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে খুব বেশি। এই মাঠে বৃষ্টির দিনে একদম খেলা দেওয়া উচিত নয়।
আসলে ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামের মাঠে বালির পরিমাণ অনেক বেশি। বৃষ্টি হলে সেই মাঠ প্রচন্ড ভারি হয়ে যায়। ফুটবলারদের নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়ে থাকে। বল নিয়ে একটু স্কিল দেখালেই হঁাটুতে চাপ পড়ে। সেই সময় যদি কোনওভাবে কেউ একটু টাফ ট্যাকেল করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ফুটবলার চোট পেতে বাধ্য। রেলওয়ে এফসির চোট পাওয়া ফুটবলার তারক হেমব্রম নিজেই জানিয়ে দিলেন ব্যারাকপুরের মাঠের জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। “ব্যারাকপুরের মাঠে বালির পরিমাণ অনেক বেশি। তাই বৃষ্টি হলে মাঠটা খুব ভারি হয়ে যায়। সেই কারণে বৃষ্টির দিনে ব্যারাকপুরে খেলতে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।” তারকের দুঃখটা অন্য জায়গায়। এমনিতেই না খেলার একটা কষ্ট তো আছেই। তারউপর শারীরিক কষ্ট। সেই সঙ্গে রেলের চাকরি পাকা। দু-একদিনের মধ্যে মেডিকেল টেস্ট হওয়ার কথা ছিল। সেই জায়গায় এমন চোট পেয়ে বসায় মনের কষ্ট আরও বেড়ে গিয়েছে। চাকরি যেখানে দুয়ারে কড়া নাড়ছে সেখানে বিছানায় শুয়ে থাকার মধ্যে যে কতটা মানসিক যন্ত্রণা হতে পারে তা উল্লেখ করে তারক বলছিলেন, “খুব খারাপ লাগছে। এমনিতেই কতদিন খেলতে পারব না জানিনা। যদিও এমআরআই রিপোর্ট বলছে বিশেষ কিছুই হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। যদি তাই হয় তাহলেই ভালো। যাইহোক না কেন, কিছু ম্যাচ খেলা তো সম্ভব হবে না। না খেলতে পারলে এমনিতেই ভাললাগে না। বাড়িতে বসে থাকতে কার আর ভাললাগে।” এমআরআই রিপোর্ট আসার পর ঢাকুরিয়ার নার্সিংহোম থেকে ছেড়ে দিচ্ছে তারককে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ফিরে যাচ্ছেন হুগলি ব্যান্ডেলের বাড়িতে। একদিক দিয়ে যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ছেন তা জানিয়ে দিলেন তারক। “সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার পায়ের অবস্থা অনেকটা ভাল। নড়াচড়া করাতে না পারলেও পায়ের ব্যাথা অনেকটা কমেছে। তারউপর এমআরআই রিপোর্ট শোনার পর মনে একটু স্বস্তি পেলাম। এখন যেন খোলা মনে নিঃশ্বাস নিতে পারছি।” বলছিলেন তারক।

সোমবার ম্যাচ শুরুর আগের মুহূর্ত। রেলওয়ে এফসি দলের সঙ্গে দঁাড়িয়ে তারক হেমব্রম।
ইউনাইটেড স্পোর্টস তথা উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ক্রীড়া সংস্থার সচিব নবাব ভট্টাচার্য হলেন তারকের উত্থানের প্রধান কারিগর। অনেকে বলেন তিনি নাকি তারকের গডফাদার। সেই নবাব যদি সোমবার না থাকতেন তাহলে তারকার হাল আরও খারাপ হত। এমনিতেই চোট পাওয়ার পর মানবিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন দেখিয়ে এগিয়ে আসেন মোহনবাগানের ডাক্তার। ব্যাথার একটা ইনজেকশন সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ার পর অনেকটা কষ্ট লাঘব হয় তারকের। তবু অঝোরে কেঁদেই যাচ্ছিলেন। সেই সময় তঁার সামনে হাজির হন নবাব। তঁাকে দেখেই যেন সাক্ষাত ভগবান দর্শনের পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। নবাব বলছিলেন, “আমার ব্যারাকপুর মাঠে যাওয়ার কথা ছিল না। সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ঠিক করি একবার ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়ব। যখন ঢুকি সেই সময় তারক চোট পেয়ে বসে। তারক যে চোট পেয়েছে দূর থেকে তা বুঝতেই পারিনি। আমি আপন খেয়ালে চোট পাওয়া ফুটবলারকে দেখতে ছুটে যাই। দেখি তারককে। অঝোরে কেঁদে চলেছে। তারপর তাকে নিয়ে যা যা করা দরকার তাই করেছি।” বাড়তি অ্যাম্বুলেন্স মাঠে আনা, নার্সিং হোমে নিয়ে যাওয়া, চিকিত্্সার ব্যবস্থা করা, সবই হয়েছে নবাবের সৌজন্যে। প্রশ্ন ওঠে এখানেই, কেন আইএফএ-র কাউকে দেখা গেল না? যে কোনও মাঠে খেলা হলে, আইএফএ-র উচিত তাদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠানো। যদি প্রতিনিধি থেকে থাকেন তাহলে তিনি কী করছিলেন? ছাতা বঁাধা নিয়ে যেভাবে সমালোচনা হচ্ছে তাকে এককথায় উড়িয়ে দিলেন চোট পাওয়া তারক। বলেই দিলেন, “নার্সিংহোমে আমায় ছাতা বঁাধা অবস্থায় পায়ে ব্যান্ডেজ দেখে ডাক্তারবাবু খুব ভাল বলেছেন। তিনি এমনও বললেন, এই ছাতা না বঁাধলে পায়ের অবস্থা আরও নাকি খারাপ হত। তাই আমি তঁার কাছে কৃতজ্ঞ যিনি আমাকে এভাবে বেঁধে পাঠিয়ে ছিলেন নার্সিংহোমে।” তবে আইএফএ এবার ভাবুক, বৃষ্টির দিনে ব্যারাকপুর মাঠে খেলা দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত হবে।







