অবিশ্বাস্য এক কঠিন লড়াই লড়ে জিততে হল বিশ্ব ক্রমতালিকায় মেয়েদের বিভাগে শীর্ষে থাকা আরিনা সাবালেঙ্কাকে। ২ ঘন্টা ৫৪ মিনিটের শেষে বেলারুশিয়ান জিতলেও একটা সময় ভেবে নিয়েছিলেন, তঁার পক্ষে মনে হয়না এই ম্যাচ বের করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। শেষ অবধি উইম্বলডনের সেমিফাইনালে পৌছে গেলেন সাবালেঙ্কা। হারালেন ৩৭ বছরের জার্মান লরা সিগেমুন্ডকে। ফল সাবালেঙ্কার পক্ষে ৪-৬, ৬-২, ৬-৪।
এবার উইম্বলডনে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আরিনা সাবালেঙ্কা সকলের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার উপর একাধিক ক্রম তালিকা ভুক্ত মহিলা খেলোয়াড়রা হেরে বিদায় নিয়েছেন। বেলারুশিয়ানকে এখন সকলে ধরছেন, নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। সেই সাবালেঙ্কা সেমিফাইনালে উঠতে গিয়ে হিমসিম খেলেন। লরা সিগেমুন্ড সাধারণত ডাবলসে খেলেন। সিঙ্গলসে কখনও তিনি টেনিসের বড় আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা পেরোতে পারেননি। ডাবলসে তিনি একজন শক্ত প্রতিপক্ষ। এবার সিঙ্গলসে দারুন ফর্মে ছিলেন তিনি। গত তিনটে গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে ওঠা সাবালেঙ্কাকে শুধু কঠিন চ্যালেঞ্জ ছঁুড়ে দেননি, ফেলে দিয়েছিলেন কঠিন লড়াইয়ের সামনে। তঁার স্লাইস, দুরন্ত রিটার্নিং ও ধীর গতিতে খেলে বারবার সাবালেঙ্কাকে বিভ্রান্ত করে দেন। তবু বেলারুশিয়ান অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়চেতা মনোভাব নিয়ে ম্যাচ বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। শেষ অবধি তঁাদের লড়াই থামে ২ ঘন্টা ৫৪ মিনিটের শেষে।
“প্রথম সেটের শেষে আমি বক্সের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, ফ্লাইটের টিকিট বুকে করে ফেলা উচিত। আমাকে এখান থেকে চলে যেতেই হবে।” ম্যাচের শেষে সাবালেঙ্কা বলছিলেন। তিনি যে চাপে পড়ে গিয়েছিলেন শুধু তাই নয়, একটা অজানা আশঙ্কা এসে গিয়েছিল ২৭ বছরের মহিলা খেলোয়াড়ের মনে। “আমি শুধু মনে মনে ভাবছিলাম, কোনওভাবে তার উপর বিরক্ত হলে চলবে না। যাই খেলিনা কেন, তাকে আর মাথার উপর চড়তে দেওয়া উচিত নয়। চাপে ফেলতেই হবে।” সেমিফাইনালে সাবালেঙ্কা মুখোমুখি হবেন ১৩তম বাছাই আমান্ডা আনিসিমোভা কিংবা রাশিয়ান আনাস্তাসিয়া পাভলিউচেনকোভার। সাবালেঙ্কা এক একটা পয়েন্ট নষ্ট করেছেন, পরমুহূর্তে তিনি ফেটে পড়েছেন হতাশায়। মাঝে মাঝে প্রবল চিত্্কার করছিলেন। এটাও ঘটনা, সাবালেঙ্কা কখনও হাল ছেড়ে দেননি। সাবালেঙ্কার খেলা দেখে প্রাক্তন ব্রিটিশ নাম্বার ওয়ান অ্যানাবেল ক্রফট বলেছেন, “আমার মনে হয়, সাবালেঙ্কা টেনিস জীবনে সবচেয়ে বাজে একটা ম্যাচ খেললো। এমন অস্বস্তিকর ও বেদনাদায়ক ম্যাচ মনে হয়না কবে খেলেছে। আসলে সিগেমুন্ড এত ভাল খেলেছে যে সাবালেঙ্কা বাধ্য হয় এতটা খারাপ খেলতে। তার টেনিস ক্যারিয়ারে এই ম্যাচটা কোনওদিন ভুলতে পারবে না সাবালেঙ্কা।”







