সুদীপ পাকড়াশীঃ
মহম্মদ শেখ আসলাম। এখনও, খেলা ছাড়ার তিন দশক পরও বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে আছেন! ১৭৭টি গোল করেছেন ক্লাবের হয়ে। ১৯৯১-এ লাল-হলুদ জার্সিতে কলকাতা লিগে জর্জ টেলিগ্রাফের বিরুদ্ধে মাঠায় গুরুতর চোট না পেলে ইস্টবেঙ্গলও তাকে স্বমহিমায় পেত।
সেই ৬৭ বছরের তরুণ মুগ্ধ এক ২৫ বছরের মিডফিল্ডারের খেলায়। মিগুয়েল ফিগুয়েরা। ব্রাজিলের যে মিডফিল্ডার এক মরশুম বাংলাদেশের প্রমিয়ার লিগের দল বসুন্ধরা কিংসে কাটিয়ে রবিবার কলকাতায় পৌঁছলেন লাল-হলুদ জার্সিতে খেলার জন্য।
মিডফিল্ডার হলেও গত মরশুমে বসুন্ধরার হয়ে মিগুয়েলের পরিসংখ্যান বেশ ঈর্ষণীয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ৯টা ম্যাচে ৫টা গোল আর ৬টা অ্যাসিস্ট! এছাড়া দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচেও তার গোল ছিল।
আসলাম এখনও ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখেন। সোমবার ঢাকা থেকে ফোনে প্যারালাল স্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলার সময় ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে তার বিশ্লেষণ, “আমার মনে হয়েছে ওদের খেলায় সমস্যা মূলত দুটো। মাঝমাঠে বল ‘হোল্ড’ করে গোলের পাস বাড়ানোর জন্য দক্ষ মিডফিল্ডার আর একজন ভাল জাতের স্ট্রাইকারের অভাব। মিগুয়েলকে পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ওর সঙ্গে প্রয়োজন একজন দক্ষ স্ট্রাইকারের।”
দেশের হয়ে ১৫ বছর খেলা এই প্রাক্তন স্ট্রাইকার বলছেন, “মিগুয়েলের খেলা গত মরশুমে দেখেছি। জাতের মিডফিল্ডার। বল হোল্ড করতে পারে, গোলের ঠিকানা লিখে পাস বাড়াতে পারে। ইস্টবেঙ্গলের স্ট্রাইকিং –লাইন যদি শক্তিশালী হয় তাহলে এই মরশুমে লাল-হলুদে কিন্তু ফুল ফুটবে।”

বসুন্ধরা কিংসে তার সঙ্গে গত মরশুমে খেলা ডিফেন্ডার বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবলার মহম্মদ সাদ উদ্দিনও যথেষ্ট আশাবাদী মিগুয়েলকে নিয়ে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে মিগুয়েলের প্রাক্তন সতীর্থ বলেছেন, “মিগুয়েল ফর্মে খেললে এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের দুঃসময় কেটে যাবে। দলের প্রয়োজন শুধু একজন ভাল মানের স্ট্রাইকার। কারণ মিগুয়েলের নিখুঁত পাস বাড়ানোর ক্ষমতা অসাধারণ। যে কোনও মুহূর্তে একাই বদলে দিতে পারে ম্যাচের রং।”
সাদ আরও বলেছেন, “বসুন্ধরার হয়ে খেলার সময়ে এমন নিখুঁত পাস বাড়াত যে গোল না করাটাই ছিল লজ্জার ব্যাপার। ইস্টবেঙ্গলেও একই কাজ করবে বলে মনে করি। ভাল মানের স্ট্রাইকার থাকলে মিগুয়েলের পাস থেকে গোল হবেই।”







