কল্যাণী স্টেডিয়ামে শনিবার ম্যাচের শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে একটি ফ্লাডলাইটের আলো নিভে গেল। দুধে চোনা পড়ে যাওয়ার মত। না হলে এদিন দুপুর থেকেই স্টেডিয়াম জুড়ে শুধুই আলোর ঝলকানি। গ্যালারি পূর্ণ দু’দলের সমর্থকে। কাছা পরেও খেলা দেখতে এসেছিলেন এক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। সদ্য প্রয়াত হয়েছেন তার বাবা। জানালেন, বাবাই ছিলেন কট্টর ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। ঐতিহ্যের ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচকে ঘিরে আবেগের অন্য দিকে সবুজ-মেরুণ জার্সি পরে গ্যালারিতে হাজির এক ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ সমর্থক। সব মিলিয়ে মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বি শুরু হওয়ার আগেই শনিবারের কল্যাণী স্টেডিয়াম রঙীন!
ম্যাচটাও যে বিরতির পর ভীষভাবে রঙীন হয়ে উঠবে সে আর কে ভাবেছিল। ৯ মিনিটে জেসিন টিকে, তারপর ৪৬ মিনিটে সায়ন ব্যানার্জির গোলে এগিয়ে লাল-হলুদ। মাঠ জুড়ে তাদেরই আধিপত্য। উল্টোদিকে দুই তারকা ফরোয়ার্ড, সুহেল ভাট আর কিয়ান নাসিরি। কিন্তু প্রভাত লাখরার নেতৃত্বে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স এতটাই জমাট যে, গোলের সূযোগ তৈরি করতে পারছে না মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস।
বিরতির পর, ৫৫ মিনিটে লিয়ান কাস্তানহা যখন প্রথম গোল করে মোহনবাগানকে ম্যাচে ফেরালেন, তারপরই যেন ফিরে এল ইলিশ-চিংড়ির ট্র্যাডিশনাল লড়াইয়ের উত্তেজনা। ম্যাচটা সমানে-সমানে হয়ে উঠছে। দুটো উইং দিয়ে দু’দলই আক্রমণ শানাচ্ছে। মাঝমাঠে তৈরি হচ্ছে আক্রমণের উৎস। আইএসএলে-র সাম্প্রতিক কলকাতা ডার্বির মত মোহনবাগানের পক্ষে এক তরফা ম্যাচ নয়। দু’দলই পজেশন তৈরি করছে এবং গোলের মুখ পর্যন্তও চলে যাচ্ছে। ৬৭ মিনিটে এই লড়াইয়েরই প্রতিফলন। কিয়ান নাসিরি-র গোলে স্কোরলাইন ২-২।

ইস্টবেঙ্গল তারপরই ১০ জনে হয়ে গেল। আমন সিকে দুটো হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে। তাতেও তাদের খেলার স্টাইল বিশেষ বদলায়নি। ৬৯ মিনিটে শেষ হাসি ডেভিডের এবং লাল-হলুদের।
উত্তেজনার ম্যাচে ৩-২ গোলে জয় কী বাকি মরশুমে ইস্টবেঙ্গলকে আত্মবিশ্বাস দিয়ে গেল? সময়ই শেষ কথা বলবে।







