বুধবারও কোচিং করিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই মারা গেলেন মামণি পাঠচক্র ইউনাইটেডের কোচ পার্থ সেন! ভাইপো অরিজিৎ সেন জানাচ্ছেন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চা খাবেন বলে নিজের খাটে বসে ছিলেন। সেই অবস্থায় ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক তাকে বিছানায় আবার শুইয়ে দেয়। চিকিৎসক আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। আনুমানিক ৫৫ বছর বয়স হয়েছিল। বিয়ে করেননি। দাদা, ভাইপো আর বউদির সঙ্গে থাকতেন।
ভাইপো বললেন, “গত সপ্তাহেই কিছুটা জোর করে কাকার ইসিজি, ইকো পরীক্ষা করানো হল। রিপোর্ট একদম ঠিক হিল। এত ফিট থাকা একটা মানুষ এখন নেই, বিশ্বাস করতে পারছি না।”
বিশ্বাস করতে পারছেন না ইউনাইটেড স্পোর্টসের ডিরেক্টর নবাব ভট্টাচার্যও। ফোনে কথা বলার সময় তার গলা ধরে আসছিল। ধরারই কথা। ২০১০ থেকে ইউনাইটেড স্পোর্টসের ইউথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অন্যতম কোচের নাম পার্থ সেন। মাঝে এক মরশুমের জন্য, ২০২৩-২৪-এ বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমিতে কাজ করছিলেন। চলতি মরশুমে আবার ফিরেছিলেন ইউনাইটেড স্পোর্টসেরই আর একটি দল পাঠচক্রের চিফ কোচ হয়ে। কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের টেবিলটা দেখুন। নিজেদের গ্রুপে দু’নম্বরে রয়েছে পাঠচক্র।
এছাড়া? এই বছর দায়িত্ব নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ দলকে এআইএফএফের ইউথ লীগ এর ফাইনাল রাউন্ডে কোয়ালিফাই করিয়েছেন তাও রাজ্যের বাইরের আইএসএল এ যুব দল গুলি কে হারিয়ে। ইউনাইটেডের অনূর্ধ্ব-১৩-র দলকেও মূলপর্বে তোলার কারিগর ছিলেন পার্থ সেন।

নবাব বলছেন, “পাঠচক্রকেও আজ প্রিমিয়ার লিগে তুলে আনা এবং চলতি মরশুমের এই রেজাল্ট দেওয়ার মূল কারিগর পার্থ সেন। কিন্তু আমার বার বার মনে হচ্ছে, পার্থর আর একটা অসাধারন গুণ ছিল ফুটবলার চেনার চোখ। প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনার ক্ষেত্রে ওর জুড়ি ছিল না। আর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আমি ওর সঙ্গে খুঁটিয়ে খুটিঁয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম কোন বাচ্চা ছেলেটাকে নেব, কাকে এখনই নেব না। একজন প্রকৃত ‘জহুরি’ চলে গেল।”







