হরিণের মত ছোটা লিস্টন কোলাসোর প্রান্তিক দৌড়গুলো কে থামাচ্ছিলেন? মহম্মদ রাকিপ। ইস্টবেঙ্গলের কোন তিন ফুটবলারের ঝাঁঝে বেসামাল হয়ে পড়ছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসের রক্ষণভাগ। নাওরেম মহেশ শিং, অভিজ্ঞ বিপিন সিং আর এডমুন্ড লালরিন ডিকা। কোন ফুটবলারদের জমাট পারফরম্যান্সে সবুজ-মেরুণের মাঝমাঠের সঙ্গে ফরোয়ার্ডদের যোগাযোগ প্রায়ই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল? বিশেষত, জেমি ম্যাকলারেনের মাঝমাঠ দিয়ে অফ-দ্য-বল বিষাক্ত দৌড়গুলো দিশাহীন কারা করে দিচ্ছিল? রাকিপ, আনোয়ার আলি, লালচুননুঙ্গা।
ইস্টবেঙ্গলের এই রক্ষণকে অবশ্যই দুর্দান্তভাবে সঙ্গত করেছেন আর্জেন্তিনা থেকে আসা প্রথমবার যুবভারতীতে খেলা কেভিন সিবিল। ম্যাচের ফল মোহনবাগানের পক্ষে ৫৮ মিনিটেই ১-২ হয়ে যেত। যদি না জেসন কামিংসের ফ্লিকটা গোললাইনে দাঁড়িয়ে ঠাণ্ডা মাথায় সেভ করে দিতেন সিবিলে!
কিন্তু রবিবার ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বির রং লাল-হলুদ করে দেওয়ার পেছনে মূখ্য ভূমিকা কারা নিলেন? ভারতীয় ফুটবলারাই। বহুবছর ধরেই ভারতীয় ফুটবলের বড় ক্লাবগুলোর কাছে হারজিতের মাপকাঠি তৈরি হয়েছে বিদেশি ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের ওপর।
রবিবারের যুবভারতী মনে রাখবে অন্তত একটা ম্যাচে, ট্র্যাডিশনাল ডার্বির উত্তেজনা প্রশমিত হল ভারতীয় ফুটবলারদের ৯০ মিনিটের ধারাবাহিকতায়! শুধু ইস্টবেঙ্গল কেন? ৭২ মিনিট পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের জমাট ফুটবলের চাপে অস্বস্তিতে থাকা মোহনবাগানকেও লড়াইয়ে রাখার আশ্বাস যারা দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন তারাও তো ভারতীয়ই! অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন কোলাসো, আপুইয়া, আশিষ রাই। নিউমেরিক্যাল আডভান্টটেজে ইস্টবেঙ্গল তখন মাঝমাঠের আধিপত্য নিয়ে নিয়েছে। দলের গোলদাতা, পূরোপুরি একজন বক্স স্ট্রাইকার, সেই দিয়ামান্তাকোসকেও চমৎকারভাবে দেখা যাচ্ছে ওপর থেকে নিচে নেমে যেতে! মিডফিল্ডারদের সহায়তা করার জন্য! তখনও কিন্তু সাহাল আবদুল সামাদ আর থাপা চেষ্টা করছেন অফ-দ্য-বল ফুটবলে ফাঁকা জায়গা তৈরি করার।

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসকে ২-১ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের শেষ চারে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। ৩৮ এবং ৫২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করলেন দিয়ামান্তাকোস। মোহনবাগানের হয়ে ৬৮ মিনিটে গোল করে ব্যবধান কমান অনিরুদ্ধ থাপা।
ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের সিদ্ধান্তটা আগেই নেওয়া ছিল। ম্যাচ জিতে তারা জয় উৎসর্গ করলেন তাদেরই প্যালেস্তানের ফুটবলার মহম্মদ রশিদকে। বাবা প্রয়াত হওয়ায় রশিদ শুক্রবার রাতে দেশে ফিরে গিয়েছেন।
উত্তেজনার ম্যাচে শেষ কয়েকটা মিনিট কাটল দু’দলের ফুটবলারদের ঝগড়া আর হাতাহাতিতে! সউল ক্রেসপোকে করা দীপক টাংরির ফাউলের পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠেন পেত্রাতস আর লালচুন নুঙ্গা। দু’জনকে হেড-বাট করতে দেখা যায়।







