সুদীপ পাকড়াশী:
ইউনাইটেড স্পোর্টসের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলার তিনি। সম্পর্কের কথা বললে, ক্লাবের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছরের সম্পর্ক। কোচ লালকমল ভৌমিক সম্পর্কেও গভীর শ্রদ্ধা তার। বলতে দ্বিধা করেন না ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলার, “চারটে আইএসএল ক্লাবে খেলেছি। ইউনাইটেড স্পোর্টসেও দেখছি লাল-দার কোচিং স্টাইলও ততটাই আধুনিক। তার ওপর দুর্দান্ত ম্যান-ম্যানেজমেন্ট স্কিল।”
সেই মহম্মদ রফিকের কাছে ২২ সেপ্টেম্বরের মহারণে অন্যতম ভরসা কোচ লালকমল ভৌমিকের মস্তিষ্ক। ২২ সেপ্টেম্বর এই মরশুমের কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ খেলতে নামছে ইউনাইটেড স্পোর্টস। ৯৮ বছরের জার্নিতে প্রথমবার ইউনাইটেড স্পোর্টসের সামনে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ জয়ের হাতছানি। সুপার-সিক্স পর্বে ৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা ইউনাইটেড স্পোর্টসের মুখোমুখি ৬ পয়েন্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচটা জিততেই হবে ইউনাইটেড স্পোর্টসকে। ড্র হলেও এবারের কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল।
১২ বছর আগে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই তো আইএফএ শিল্ড জিতেছিল ইউনাইটেড। সোমবার কি দু-দশক আগের সেই ছবির অ্যাকশন-রিপ্লে হবে? ভীষণ নির্লিপ্ত মনে হচ্ছে ইউনাইটেড স্পোর্টসের ডিরেক্টর নবাব ভট্টাচার্যকে। “আমরা তো আন্ডারডগ। ওদের ওপরই মানসিক চাপটা থাক,” আর কিছু বললেন না নবাব ভট্টাচার্য। কোচ লালকমল ভৌমিক? তার কথাতেও তো কোনও বাড়তি উত্তেজনা নেই। এমনকী ইতিহাস গড়ার প্রসঙ্গেও তিনি খুব স্বাভাবিক। “ইস্টবেঙ্গলের শক্তি নিয়ে কিছু বলার নেই। এটুকু বলতে পারি, আমরা লড়াই করব,” কোচের মন্তব্য।
আর রফিক? ইস্টবেঙ্গল তার আবেগ। এত ক্লাবের জার্সিতে খেলার পরও রফিক বলেন, জার্সিটা পরলেই অনুভূতি বদলে যায়। নিজের সেরাটা বেরিয়ে আসে। সোমবার সেই মাঠে তিনি নামবেন প্রায় আট বছর পর। কিন্তু এবার বিপক্ষের ফুটবলার হিসেবে।

খাতায়-কলমে ইস্টবেঙ্গল অনেক এগিয়ে। শৌভিক চক্রবর্তী, ডেভিড, পিভি বিষ্ণু, প্রভাত লাখরা, জেসিন টিকে-র মত অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উপস্থিতিতে দলের ব্যালান্স ও শক্তি বেড়েছে।
উল্টোদিকে ইউনাইটেড স্পোর্টস হয়ত তাদের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার সাহিল হরিজনকে সেই ম্যাচে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের হয়ে খেলা সাহিলের উত্তোরণ হছে ক্লাব ফুটবলে। আগামি ট্রান্সফার উইন্ডো-তে-ই। ২২ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ খেললে, সেই উত্তোরণ টেকনিক্যালি আটকে যেতে পারে। একটা ম্যাচ খেলিয়ে সাহিলের ফুটবল জীবনের অগ্রগতিকে থামাতে চায় না ক্লাব।
তাতেও অসুবিধে নেই! রফিক বলছেন, “২২ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে আমাদের দুটো সুবিধা। প্রথমত, আমাদের ছেলেরা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। ওদের বন্ডিং, বোঝাপড়া খুব ভাল। দ্বিতীয় সুবিধা, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে আমাদের কিছু হারানোর নেই।”

সেই মন্ত্রই বৃহস্পতিবার সুরুচি সঙ্ঘের সঙ্গে ড্রয়ের পর ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে রফিক দিয়েছেন। “দেখলাম ছেলেরা মন খারাপ করে বসে আছে। তখন বললাম, তোমাদের তো হারানোর কিছু নেই। সম্পূর্ণ চাপমুক্ত অবস্থায় তোমরা খেলতে পারবে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। মাঠে নেমে ৯০টা মিনিট শুধু উপভোগ কোর। জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ওই ৯০টা মিনিট,” রফিকের এই মন্ত্র দারুণভাবে উজ্জ্বীবিত করবে কি না তা সোমবারই দেখা যাবে।







