মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে দারুন সম্পর্ক ঋষভ পন্থের। নানা সময় তাঁদের একসঙ্গে গল্প করতে দেখা যায়। অনুষ্ঠান বাড়িতেও দেখা যায়। তাই কি ধোনির মানসিকতাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান পন্থ! আইপিএলে সিএসকের হয়ে এবার ধোনিকে কখনও সাতে, কখনও বা আবার নয় নম্বরে ব্যাট করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি ফিনিশার। খেলাকে ছোট করে শেষপর্যন্ত তিনি উইকেটে থেকে বোলারদের উপর রোলার চালাবার চেষ্টা করছেন। উল্টোদিকে লখনউ সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক ঋষভ পন্থ নিজের ফর্মে না থাকায় নিজেকে ফিনিশারের ভূমিকায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে একানা স্টেডিয়ামে তিনি ব্যাট করতে নামলেন সাত নম্বরে। কিন্তু করলেন কি! তিনি যখন ব্যাট করতে নামলেন, তখন ইনিংসের মাত্র দুবল বাকি ছিল। রান করতে পারলেন না। মুকেশের শেষ বলে তিনি বোল্ড হলেন। ভাঁড়ারের খাতা শূন্য। এমন ঋষভ পন্থকে কে আর দেখতে চান। এমন সিদ্ধান্তে অবাক জাতীয় দলে তাঁর প্রাক্তন পার্টনার চেতেশ্ব পুজারা। এক চ্যানেলে ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পন্থকে পরামর্শ দিতে গিয়ে বললেন, ধোনিকে নকল করতে যেও না। ওটা তোমার কাজ নয়। আর এটাও ভেব না যে তুমি ফিনিশার। তোমার কাজ ইনিংসকে তৈরি করা। সামনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া। সেখানে সাত নম্বরে ব্যাট করার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না। নিজেকে শুধরে নাও।
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে লখনউ সুপার জায়ান্টসের টিম ম্যানেজমেন্ট দলের ব্যাটিং অর্ডারে বদল আনে। ওপেনে আসেন মার্করান ও মার্শ। তারপর একে একে নিকোলাস পুরান, আবদুল সামাদ, ডেভিড মিলার, আয়ুষ বাদোনি। সাত নম্বরে ঋষভ পন্থ। এই ব্যাটিং অর্ডারকে মেনে নিতে পারছেন না পুজারা। বলছেন, এট কী করে হল! পন্থ কেন এত নিচে ব্যাট করবে! মানছি, এবার ওর ব্যাটে রান পাচ্ছে না লখনউ। তাই বলে এতটা নিচে নেমে আসবে। রান পেতে উপরেই ব্যাট করতে হবে। বেশি বল খেলার সুযোগ পাবে। নিচে নামলে বলের সংখ্যা কমে যাবে। তখন সব বল মারতে হবে। যা এখনই ওর পক্ষে সম্ভব নয়। আমার মতে, পাঁচ নম্বরে পন্থের ব্যাট করতে নামা উচিত। এর নিচে কিছুতেই নয়।
আয়ুষ বাদোনিকে পাঁচ নম্বরে নিয়ে আসা হয়েছে। দিল্লির ক্রিকেটারটিকে ২০২২ সালে ২০ লাখ টাকায় কিনেছিল দিল্লি। তারপর লখনউয়ের মেন্টর হিসেবে গৌতম গম্ভীর কজ শুরু করার সময় বাদোনি চলে আসেন তাঁর দলে। এবার তাঁকে চার কোটি টাকায় দলে রেখেছে লখনউ। গম্ভীর খেলাতেন ছয় নম্বরে। সেখানে নেমে নজর কেড়েছিলেন বাদোনি। রানও পেয়েছিলেন। তাঁকে সুযোগ দিতে এবার উপরে ব্যাট করতে পাঠানো হচ্ছে। তাই বলে আবদুল সামাদ কেন আগে ব্যাট রতে যাবে। দরকার হলে সেই জায়গায় ( পাঁচ নম্বরে) পন্থ যেতে পারতেন। কিন্তু সেটা লখনউকে করতে দেখা গেল না। তা হলে পন্থকে দলে এনে লাভ কি হল লখনউয়ের। শুধু কিপিংয়ের জন্য তো পন্থকে দলে আনা হয়নি। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে বলেই অকশনে লখনউ ২৭ কোটি টাকায় পন্থকে কিনে নেয়। সেই ক্রিকেটার রান পাচ্ছেন না। তাঁকে সময় দেওয়া হোক। রান করলে পন্থ পাঁচে নেমেই করবেন। তার জন্য সাত নম্বরে নামিয়ে আনার কোনও যুক্তি নেই। পুজারা সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন। ধোনি জাতীয় দলে শেষদিকে সতে এসে ফিনিশারের কাজ করতেন। এখন পন্থের সেই সময় আসেনি। পুজারা ঠিকই বলেছেন। তিনি তো ফিনিশার নন। তাঁর খেলা হবে দলের ইনিসকে সামনে টেনে নিয়ে যাওয়া। তা না করে দলকে চাপে ফেলে দিচ্ছেন। এ নিয়ে কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও বোলিং কোচ জাহির খানের ভাবা উচিত। সঙ্গে ঋষভেরও। না হলে তিনি কিন্তু হারিয়ে যাবেন। জাতীয় দলে টি২০ ক্রিকেটে তাঁর জায়গা চলে যাবে। তিনি নিশ্চয় সেটা চান না।







