এতো ট্রেলার। পিকচার আভি বাকি হ্যায়। কথাগুলো আকাশদীপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তেমনই মনে করছেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কোচ অরুণলাল। যঁার হাত ধরে ধরিত্রীর বুকে সবিস্তারে মেলে ধরে ছিলেন দুটো হাতের ডানা। সেই আকাশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে অরুণলাল যা বলেছেন, তা এককথায় রোমহর্ষক কাহিনি। তঁার জীবনী নিয়ে অনায়াসে চিত্র পরিচালকরা ছবি বানাতে পারেন। ভবিষ্যতে নিশ্চয় সেই জায়গায় পৌছে যাবেন ২৮ বছরের বিহারীবাবু। যারা ব্যতিক্রমী হন তাদের কিছু কিছু প্রতিভা জন্মগত হয়ে থাকে। সেইসব প্রতিভা দেখেই অরুণলালের মনে হয়েছিল। “গতি যেমন ছিল, ছিল প্রচন্ড সহনশীলতা। শক্তি ছিল অসাধারণ। সবচেয়ে ভাললাগতো কখনও কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানাতো না। অজুহাত খাড়া করত না।” বললেন অরুণলাল।
২০১৯-২০ মরশুমে বাংলা রঞ্জি ট্রফিতে রানার্স হয়। সেবার বাংলার এই সাফল্যের পেছনে ছিল আকাশদীপের অভূতপূর্ব সাহায্য। তঁার উত্থানের মূলে লুকিয়ে আছে চরম ত্যাগ ও যাবতীয় কষ্টকে সহ্য করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। অরুণলাল বলছিলেন, “কলকাতায় এসে প্রথমে সিএবির ছাত্রাবাসে থাকত। যা ছিল একটা নরকগহ্বর। এখন হয়তো ভালো হয়েছে। কোনওদিন ছাত্রাবাস নিয়ে কোনও অভিযোগ তার মুখ থেকে শুনিনি। কাছ থেকে তিন-চার বছর ওকে পেয়েছিলাম। কোনওদিন বলেনি, অমুক নেই, তমুক অসুবিধে হচ্ছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। আমার কাছে পরে অবিশ্বাস্য ঠেকেছিল।” পরে একদিন ছাত্রাবাস দেখে চমকে উঠেছিলেন অরুণলাল। তখন তঁার মনে হয়েছিল, এখানে থাকলে এমনিতেই মানুষ মারা যাবে। “সরজমিনে ছাত্রাবাস দেখার পর অবাক না হয়ে পারিনি। এখানে আর যাইহোক থাকা যায় না। দেখে আতঁকে উঠি। আমার মনে হয়েছিল, সেখানে থাকলেই মানুষ মারা যাবে।” বলছিলেন অরুণলাল। বাংলার প্রাক্তন কোচকে মুগ্ধ করেছিল আকাশের শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা দেখে। তিনি এও মনে করেন অন্যান্যদের তুলনায় আকাশের শারীরিক শক্তি অনেক বেশি। তাছাড়া সদা সর্বদা চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসতেন। তাই তো অরুণলাল বলছিলেন, “অনেক বেশি শারীরিক শক্তি ছিল। দলে তারমধ্যে যে শারীরিক শক্তি দেখেছি অন্যান্যদের মধ্যে তা দেখিনি। এখনও একইরকম আছে। তার কাজের নীতি ছিল অবিশ্বাস্য। প্রায়শই বাড়ি গেলে আমাকে দৌড়নোর ভিডিও পাঠাতো। দেখতাম গ্রামের কাছে থাকা পাহাড়ে প্রচন্ড গতির সঙ্গে দৌড়ে ওঠা-নামা করছে। কাজের গতি অবিশ্বাস্য। গ্রামের পাহাড়ে সে দৌড়তো কিনা তার ভিডিও আমাকে পাঠিয়ে দিত।” অরুণলাল কৃতিত্ব দিচ্ছেন সিএবি বা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলকে। য়ারা এই সমস্ত প্রতিভাকে গ্রাম থেকে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছিল।

এজবাস্টনে ম্যাচের পর ইংল্যান্ড অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন আকাশদীপ।
অরুণলাল মনে করছেন, এখনও সেরাটা দেননি আকাশদীপ। তারমধ্যে যা দেখেছেন তিনি তাতে তঁার মনে হয়েছে, এরচেয়ে অনেক ভাল খেলার ক্ষমতা ধরেন আকাশদীপ। “তার পারফরম্যান্সের লেখচিত্রের দিকে যদি একবার তাকান তাহলে বুঝতে পারবেন, যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গিয়েছে। তাই বলছি, এখনও উন্নতি করার যথেষ্ট সময় রয়েছে। এখন অনেক পরিণত হয়েছে। খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে লাইন অ্যান্ডে লেংথে বল করছে। যেমন গতিতে বল করতে পারে, আবার উইকেট নেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে প্রচুর। সবচেয়ে বড় কথা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। এই জায়গায় ও পিছিয়ে ছিল। যদি একবার সে বিশ্বাস করতে পারে, তার অনেক ক্ষমতা রয়েছে। তাহলে জানবেন উইকেট নেওযার দৌড়ে সকলকে ছাপিয়ে যাবে।”
পরমুহূর্তে অরুণলাল মনে করিয়ে দেন, অশোক দিন্দার জায়গায় তঁাকে নেওয়া হয়েছিল। “মনে রাখবেন, আকাশকে বাংলা দলে নেওয়া হয়েছিল অশোক দিন্দার জায়গায়। বাংলা ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তী ছিল অশোক দিন্দা। সেই সময় অশোক যদি ছিটকে না যেত তাহলে আকাশ কোনওদিন বাংলা দলে আসতে পারে না। তাই বাংলার ক্রিকেটের কাছে অাকাশ ছিল একজন অনাহুূত। অথচ দলে আসার পর আর তাকে নিয়ে অসুবিধে হয়নি।” জানিয়ে দিলেন অরুণলাল।







