তার ক্যাবিনেটে সাজানো ভারতীয় ফুটবলের একাধিক অমূল্য খেতাব। আইএসএল, ডুরান্ড, রোভার্সের মত ঐতিহ্যবাহী ট্রফি। আইএসএলে গোল্ডেন গ্লাভসও পেয়েছেন তিনি। এমনকী, সুখবিন্দর সিংয়ের কোচিংয়ে জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে গড়া যে ভারতীয় দল সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারও সদস্য ছিলেন তিনি। তারপরও সেই অরিন্দম ভট্টাচার্য বলছেন ইন্টার কাশির হয়ে ২০২৪-২৫-এর আই লিগ তার জীবনের সেরা ট্রফি!
তার বক্তব্যে কারণও রয়েছে। প্যারালাল স্পোর্টসকে ফোনে শুক্রবার বললেন, “তিন মাস পর সত্যের জয় হল। আমরা আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হলাম। এই তিন মাস আমাদের কারও রাতে ভাল করে ঘুম হয়নি। প্রত্যেক দিন অপেক্ষা করেছি ক্যাসের রায়ের জন্য। ভারতীয় ফুটবল জগতের প্রায় সবাই আমাদের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল। ফেডারেশন থেকে শুরু করে ক্লাবগুলো-সোশ্যাল মিডিয়ায় তিন মাস ধরে দেখেছি কীভাবে আমাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিকভাবে’ ফুটবলার খেলানোর অভিযোগ করে যাওয়া হয়েছে। আর আমরা শুধু দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করে গিয়েছি।”
ভারতীয় ফুটবলের মূলস্রোতে এখন বাঙালি গোলকিপার নেই বললেই চলে। প্রদীপের মত জ্বলছেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। প্রসঙ্গ তুলতে তার বিশ্লেষণ, “আমরাও কিছুটা দায়ী। ভবিষ্যত প্রজন্মের গোলকিপার তৈরি করার ক্ষেত্রে আমাদের উদ্যোগটাও নিশ্চয় যথাযথ নেই। প্রতিভাবান কিন্তু লম্বা গোলকিপার খুঁজে বার করতে হবে। তারপর তাদের যথাযথ ট্রেনিং দেওয়ার কাজটা করতে হবে। তবে সন্দীপ নন্দী, শুভাশিষ রায়চৌধুরী, অভিজিৎ মণ্ডলরা কিন্তু কাজ করছে এবং যথেষ্ঠ যত্ন নিয়েই করছে। আশা করা যায় ওদের হাত থেকে ভবিষ্যতে আর্ন্তজাতিক মানের বাঙালি গোলকিপার পাওয়া যাবে।”

আইএসএলে খেলবে ইন্টার কাশি। তার জন্য কি নিজেকে মোটিভট করা শুরু করে দিয়েছেন? অরিন্দমের সহাস্য জবাব, “একবার আইএসএল জিতেছি। দ্বিতীয়বার জিততে পারলে তো ভালই লাগবে। কিন্তু তার চেয়েও মনে হয় মোটিভেশনের বড় উপাদানটা হচ্ছে তরুণদের সঙ্গে লড়াই করে নিজের জায়গাটা এই বয়সেও নিশ্চিত করতে পারা।”
ফুটবল ছাড়ার পর কোচিং করবেন? অরিন্দম বলছেন না। “সারাজীবন ফুটবলের জন্য পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। তাই খেলা ছাড়ার পর আর কোচিংয়ে আসব না। তবে ফুটবলকে ঘিরেই কিছু একটা করব,” বললেন অরিন্দম।







