বন্ধ হয়ে যাওয়া আইপিএল কবে থেকে শুরু হবে কেউ জানেনা। বা যুদ্ধ বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সত্ত্বেও ফের পাকিস্তান আক্রমণ করেছে। ফলে আদৌ আইপিএল হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় তুঙ্গে। এমন আবহের মধ্যে যখন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দঁাড়িয়ে তখন নতুন করে সমস্যা দেখা দিল। কি সমস্যা? অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা মনে হয়না আর বন্ধ হওয়া আইপিএলে যোগ দেবেন। শনিবার ভারত থেকে বিমানে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার জন্য ক্রিকেটাররা রওনা দিয়েছেন। এখনও ১৬টা ম্যাচ বাকি। ২৫ মে ফাইনালের তারিখ নির্ধারিত ছিল। এখন খেলা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খেলা পিছিয়ে গেলে তার প্রভাব গিয়ে পড়বে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। ১১ জুন যা শুরু হবে। যেখানে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা। তাছাড়া চেন্নাই সুপার কিংস, রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ প্লে-অফ থেকে ছিটকে গিয়েছে। তিনটে দলে থাকা অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটাররা তাই আর ফিরে আসার জন্য আগ্রহ দেখাতে চাইছে না। এমনিতেই মনের মধ্যে একটা ভয় আছে, তার উপর দল ছিটকে যাওয়ায় কেউ আর ফিরে আসার তাগিদ দেখাতে নারাজ। সেইজন্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা মনে হয়না বন্ধ আইপিএলে আর যোগ দেবেন।
ক্রিকেটারদের মনে ভয় ধরতে শুরু করে ধর্মশালা ম্যাচ মাঝপথে বন্ধ হওয়ার পর থেকে। দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংসের খেলা মাঝপথে বন্ধ করে দিয়ে দর্শকদের ধরমশালা স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হয়। ক্রিকেটারদের শহর থেকে স্পেশাল ট্রেনে করে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন থেকেই সমস্ত ক্রিকেটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে বোর্ড সরকারিভাবে জানিয়ে দেয়, সাত দিনের জন্য আইপিএল বন্ধ। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় কেউ আর আইপিএল বা পিএসএল খেলার ঝঁুকি নিতে চায়নি। সকলে যে যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ভারতীয় বোর্ড রবিবার বসেই হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে, আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলোর বিষয়ে। কবে কোথায় কীভাবে হবে তা হয়তো জানিয়ে দেওয়া হবে। আসলে সরকারের কাছে যেমন আইপিএল চালু করা একটা চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। অন্যদিকে বোর্ড চাইছে, ক্ষতিপূরণ থেকে রেহাই পেতে। এক একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি বিশাল অর্থ ক্ষতির সম্মুখে পড়তে চলেছে। বোর্ডও তাই। সব মিলিয়ে বোর্ড চাইছে যেভাবে হোক আইপিএল শেষ করতে। তাই বোর্ড ম্যানেজমেন্ট বাকি ১৬টা ম্যাচ শেষ করার জন্য মরিয়া। যারজন্য বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদের মতো শহরগুলোর কথা ভাবতে শুরু করেছে। যেখানে পাকিস্তান সীমানা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। কোনও কারণে যদি পাকিস্তান যুদ্ধ প্রস্তাব খারিজ করে ফের মনোভাব পাল্টায় তাহলে এতদূর শহরগুলিতে আক্রমণ করতে আসা সহজ হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে দুটো দেশ যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান পরে তা অগ্রাহ্য করার চেষ্টা চালায়। যথারীতি পাকিস্তান সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলগুলোতে গোলাবর্ষণ করেছে। সেইজন্য ভারত চাইছে এমন জায়গায় খেলাগুলো করতে যেখানে নতুন করে কোনও সমস্যায় ফেলতে পারবে না পাকিস্তান। তাই তিনটে শহরকে সামনে রেখে আইপিএল করার কথা ভাবছে বোর্ড।
অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের সিইও টড গ্রিনবার্গ জানিয়ে দিয়েছেন, তঁারা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের এই মুহূর্তে ভারত বা পাকিস্তানে যেতে দিতে নারাজ। এক সাক্ষাতকারে নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে টড গ্রিনবার্গ বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়া বোর্ড সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে ক্রিকেটার ও কর্মীদের নিরাপত্তা। তাদের কল্যাণ কামনার জন্য সবসময় প্রাধান্য দিই। তবে ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সখ্যতা যথেষ্ট। সুতরাং তাদের যাবতীয় সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি।” পরমুহূর্তে তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়া সরকার সবসময় যোগাযোগ রেখে চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে। দুটো দেশে খেলতে যাওয়া ক্রিকেটার ও ক্রিকেট কর্মীদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ ভাবে রয়েছে। এই উদ্বিগ্নতার মধ্যে আমরা চাইবো না ফের দুটো দেশে এই মুহূর্তে ক্রিকেটাররা পুনরায় খেলতে যান।”
অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, ট্র্যাভিস হেড-সহ একাধিক উল্লেখযোগ্য ক্রিকেটার যোগ দিয়েছিলেন আইপিএলে। তাছাড়াও ছিলেন মার্কাস স্টোইনিস, জশ ইংলিশ, মিচ মার্শ, নাথান এলিস, অ্যারন হার্ডি, জেভিয়ার বার্টলেট-সহ অনেকে এসেছিলেন খেলতে। রিকি পন্টিংয়ের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারও যোগ দিয়েছেন। সুতরাং অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড আর চাইছে না ক্রিকেটাদের এভাবে সমস্যার মধ্যে ফেলতে। সরকার অনমনীয় মনোভাব নাকি দেখাতে শুরু করেছে। ফলে মনে হয়না অস্ট্রেলিয়ানরা আর বন্ধ হওয়া আইপিএলে যোগ দেবেন।

পদপিষ্ট হওয়া ১১ সমর্থকের জন্য আজীবন আসন সংরক্ষন RCB-র
Shareগতবছরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এই প্রথমবার আইপিএলের(IPL) ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। কিন্তু এই মাঠে ম্যাচে নামার






