ব্রাজিলের ক্লাবগুলো একের পর এক অঘটন ঘটানোর সাক্ষী থাকছিল। ক্লাব বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলা যত এগিয়ে আসছে ততই দেখা যাচ্ছে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর দাপট। শনিবার তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালো চেলসি। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাসকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌছে গেল চেলসি। প্রথমে গোল করে ইংল্যান্ডের ক্লাবকে এগিয়ে দিয়েছিলেন কোল পালমার। বিরতির পর সেই গোল শোধ করে দেন ব্রাজিল দলের এস্তেভাও। ৮৩ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসেন পালমেইরাসের অগাস্তিন গিয়াই। সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। অতীতকে এই ম্যাচের ফল ফের মনে করিয়ে দিল। ২০২২ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল চেলসি-পালমেইরাস। সেই ম্যাচেও চেলসি ২-১ গোলে জিতে যায়। এই ম্যাচ জিতে একটা পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে দুই দেশ এক সারিতে এসে দঁাড়িয়ে গিয়েছে। ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলের ক্লাবগুলো ৫টা করে ম্যাচ জিতলো।
লিংকন স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের শুরুতে স্মরণ করা হয় প্রয়াত দিয়েগো জোটা ও তঁার ভাই আন্দ্রে সিলভাকে। চেলসি দলের পর্তুগিজ ফুটবলার পেদ্রো নেতো দুই ভাইয়ের নামে বিশেষ জার্সি নিয়ে মাঠে ঢোকেন। তঁাদের নীরবতা পালনের মধ্যে দিয়ে স্মরণ করা হয়। তবে পালমেইরাসকে নিয়ে বিশ্ব ফুটবল প্রেমীরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। হবে না কেন ? লিওনেল মেসির দল ইন্টার মায়ামিকে পেছনে ফেলে গ্রুপ শীর্ষে চলে যাওয়া। স্বদেশি দল বোতাফোগোকে হারিয়ে শেষ আটে ঢুকে পড়া। চেলসিকে নিঃসন্দেহে বেগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে পালমেইরাস-সকলের মনে এই বিশ্বাস এসে গিয়েছিল। তার প্রতিফলন যে ম্যাচে ঘটেনি তা নয়। পালমেইরাস ৮২ মিনিট অব্দি চেলসিকে রুখে দেয়। পরে আত্মঘাতী গোল খেয়ে স্বপ্নভঙ্গ ঘটে। খেলার শুরুতে ১৬ মিনিটের মাথায় দুরন্ত এক গোল করে চেলসিকে এগিয়ে দেন কোল পালমার। ফাইনাল পাশ বাড়িয়ে ছিলেন ট্রেভো চ্যালাবার। সেই সময় ব্রাজিল দলের ডিফেন্ডাররা তঁাকে ছেঁকে ধরেন। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের কোনও সুযোগ না দিয়ে গোল করে যান পালমার। বিরতির আগে অব্দি প্রচুর সুযোগ পেয়েছিল চেলসি। গোল করতে ব্যর্থ হয়। বিরতির পর খেলা শুরু হলে পালমেইরাসের পক্ষে গোল দিয়ে দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন এস্তেভাও। আগামী মরশুমে চেলসিতে খেলতে যাবেন এস্তেভাও। তার আগে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যেভাবে গোল করে গেলেন তা এককথায় অসাধারণ। যখন সকলে ধরে নিয়েছেন ম্যাচ গড়াচ্ছে অতিরিক্ত সময়ে তখনই দলের সর্বনাশ ডেকে আনেন অগাস্তিন গিয়াই। মালো গুস্তোর শট রুখতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন। সেমিফাইনালে আর এক ব্রাজিলিয়ান দল ফ্লুমিনিজের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে চেলসি।

চেলসির বিপক্ষে গোল করে এভাবেই খুশিতে ভরে উঠলেন পালমেইরাসের এস্তেভাও।
পালমেইরাসকে হারিয়ে চেলসি যত না খুশি তারচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে এস্তেভাও গোল করায়। বিরতির পর পালমেইরাসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন এস্তেভাও। দুরূহ কোণ থেকে যেভাবে গোল করে গিয়েছেন এস্তেভাও তাতে চেলসি সমর্থকরা মুগ্ধ। যেহেতু ক্লাব বিশ্বকাপ শেষ হলেই তিনি চেলসিতে এসে যেোগ দেবেন। ভবিষ্যতের তারকাকে এভাবে চাক্ষুষ করবেন তঁারা তা ভাবতে পারেননি। ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ১৮ বছরের এস্তেভাওকে সই করিয়েছে চেলসি। বায়ার্ন মিউনিখ, পিএসজি, ম্যাঞ্চেস্টার সিটির দৌড়কে থামিয়ে তুলে নেয় ব্লু জার্সিধারীরা। তাই তো চেলসি কোচ এঞ্জো মারেস্কা খেলার শেষে এস্তেভাওকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে বলেছেন, “একদিকে আমরা জিতেছি। অন্যদিকে এস্তেভাও গোল করেছে। সব মিলিয়ে আমি দারুন খুশি। একটা মায়াবী রাতের সাক্ষী থাকলাম।” এস্তেভাও কেমন ভাবে নতুন জায়গায় এসে মানিয়ে নেবেন তাই নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তায় রয়েছেন মারেস্কা। “বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে এসে মানিয়ে নেওয়া সহজ কথা নয়। আমরা চেষ্টা করব এস্তেভাও যাতে সবকিছু মানিয়ে নিতে পারে। বিশেষ করে খেলাকে যাতে উপভোগ করতে পারে তারজন্য দলের সকলে চেষ্টা চালাবে। আগামী দিনে চেলসির জন্য একজন গুরুত্বপূর্ন ফুটবলার হতে চলেছে।” চেলসির বক্সে একাই ত্রাস ছড়ানোর ভূমিকায় ছিলেন এস্তেভাও। বারবার বক্সে ঢুকে এসে চেলসি ডিফেন্ডারদের সমস্যায় ফেলে দেন। খেলার শেষে দেখা যায় ব্লুজ মিডফিল্ডার কোল পালমারের সঙ্গে তঁাকে কথা বলতে। পালমেইরাসের কোচ অ্যাবেল ফেরেইরাকে দেখা যায় সাংবাদিক সম্মেলনে এসে কঁাদছেন। দলের হারার জন্য যতটা তারচেয়ে বেশি এস্তেভাওকে আর কাছে পাবেন না ভেবে। “মারেস্কাকে একটা কথা বলেছি, তুমি একজন অসাধারণ ফুটবলারকে পেয়ে গেলে। তারচেয়ে বড় ব্যাপার হল, একজন দারুন মানুষকেও পাশে পেলে। একটু যত্নে রেখে। শুরুতে যদি ভুল করে তাহলেও মোহভঙ্গ যেন না ঘটে। কী দক্ষতা আছে ম্যাচেই প্রমাণ করে দিয়েছে। একাই একটা দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার ক্ষমতা রাখে।” খেলার পর বলেন ফেরেইরা।







