সুদীপ পাকড়াশীঃ
রবিবার সকালে তাইল্যান্ডে তাকে ফোনে যখন ধরা গেল তিনি বিমানবন্দরে। নয়াদিল্লির ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায়। কয়েকটা মিনিট মাত্র! তার মধ্যেই ক্রিসপিন ছেত্রীর তিনটি বাক্য, “আমরা জানতাম আমরা পারব। ভারতে মেয়েদের ফুটবলে নতুন দিগন্ত খুলে গেল।” আর তিন নম্বর কথাটা বোধহয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, “আইডব্লিউ-এর সমৃদ্ধি হওয়া উচিত এই সাফল্যের পর।”
রবিবারই সকালে সিনিয়র জাতীয় মহিলা দলের এই কোচ ইনস্টাগ্রামে এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা করেছেন। “২০০৩-এর ২২ বছর পর সিনিয়র মহিলা দল এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। তাও তখন কোয়ালিফায়ার হত না। সুতরাং সাফল্য তো বলতেই হবে। কিন্তু সাফল্য শুধু জাতীয় দলের নয়।”
কোচের সংযোজন, “ভারতে এখন মেয়ের যে পেশাদার ফুটবল লীগ হয়, সেই লিগেও লাগবে এই সাফল্যের ছোঁয়া। যারা দল গড়ে, বিশেষত, যে কর্পোরেট বা প্রাইভেট সংস্থারা এগিয়ে এসেছে মেয়েদের ফুটবলে, তারা উৎসাহিত হবে। আরও শক্তিশালী দল গড়ার লক্ষ্যে বিনিয়োগের পরিমাণ তারা বাড়াতে পারেন। তাতে লিগের ওজন বাড়বে, আরো অভিজ্ঞ এবং দক্ষ বিদেশি ফুটবলারদের এই লিগে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। আর আইডব্লিউ-এর মান বাড়লে জাতীয় দলের শক্তিও বাড়বে।”

ফেডারেশনের শীর্ষকর্তারাও আবেগে ভাসছেন মেয়েদের সাফল্যে। তাদের মনে হচ্ছে মেয়েদের সফল হওয়ার পেছনের মূল কারণ দুটি। এক, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শিবির আর শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। ছেত্রীর কোচিংয়ে এই মেয়েরা বেঙ্গালুরুতে ক্যাম্প করেছিল ৫০ দিনের। আর রাশিয়া, কোরিয়া রিপাবলিক, উজবেকিস্তানের মত শক্তিশালী দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল। ম্যাচগুলো মেয়েরা হেরেছিল। কিন্তু লাভ? এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে ইরাক বা তাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে রিম্পা, সঙ্গীতা বাসফোরদের খেলায় আত্মবিশ্বাস এবং বোঝাপড়া দেখে বোঝা গিয়েছে হেরে যাওয়া প্রস্তুতি ম্যাচগুলো থেকে এরা কি অর্জন করেছিলেন।
তাই আগামি বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপে খেলতে যাওয়ার আগেও ফেডারেশনের পরিকল্পনা একইরকম হওয়ার সম্ভাবনা। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শিবির আর অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এক্সপোজার। এবং ক্রিসপিন ছেত্রীকে কোচ রেখে!







