বুধবার যুবভারতীতে ডুরান্ডের সেমিফাইনালের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ডায়মন্ড হারবারের কাছে ১-২ গোলে হেরে গেল ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। কী আশ্চর্য! ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একসময় খেলা দুই ফুটবলারের হাতেই লাল-হলুদের স্বপ্নভঙ্গ হল! প্রথমজন মিরচাদ মিচু, ডায়মন্ড হারবারের গোলকিপার। ইস্টবেঙ্গলে ছিলেন ২০১৭ থেকে ২০২১। পাঁচ মরশুমে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ১১টি ম্যাচ। আর জবি জাস্টিন। ডুরান্ড অভিষেকেই ডায়মন্ড হারবার এফসি-র এই ঐতিহাসিক জয়ে এই দু’জন ছাড়াও আরও এক নায়ক আছেন। তিনি দলের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মিকেল কোর্তাজার।
৬৬ মিনিটে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের যুব দল থেকে উঠে আসা এই ফরওয়ার্ডের বক্সের দুরূহ কোণ থেকে নিখুঁত বাইসাইকেলে করা প্রথম গোলেই এগিয়ে গিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি। এক মিনিটের মধ্যে আনোয়ার আলির দুর্দান্ত দুরপাল্লার শটে খেলায় সমতা ফেরে। ৮৩ মিনিটে, বক্সের সামনের জটলা থেকে সুযোগসন্ধানী জবি জাস্টিনের জয়সূচক গোলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন কিবু ভিকুনার ছেলেরা।

কিন্তু মিকেল শুধু গোলই করেননি। দ্বিতীয়ার্ধ্বের শেষভাগে ইস্টবেঙ্গলের প্রবল আক্রমণে নিজেদের অর্ধ্বে কোণঠাসা ডায়মন্ড হারবার এফসি-র রক্ষণভাগকে নেমে এসে সহায়তার কাজটাও করেছেন মিকেল। মাঝমাঠে ইস্টবেঙ্গলের একাধিক আক্রমণকে প্রতিহত করার কাজে মিকেলের ভূমিকাও অনস্বীকার্য ছিল।
আর মিচু। ৬৭ মিনিটে গোলটি খাওয়া ছাড়া বুধবার তিনি ছিলেন প্রায় অপ্রতিরোধ্য। বলা যায় মিচুর কাছেই হেরে গেল ইস্টবেঙ্গল! ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ডায়মন্ড হারবারের সামনে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি।
এদিন ৭২ মিনিটে সল ক্রেসপোর জায়গায় মাঠে নামেন রশিদ। পিতৃবিয়োগের কারণে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। ডার্বি খেলতে পারেননি। কিন্তু ভারতে ফিরেই সেমিফাইনালে নেমে পড়লেন তিনি। গোটা মাঠ উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে কুর্নিশ জানায়। ৭৯ মিনিটে তার বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শট পোস্টেও লেগে প্রতিহত হয়।







