নোভাক জকোভিচ জিতে গেলেন ৬-৩, ৬-২ ও ৬-০ পয়েন্টে। স্ট্রেট সেটে তিনি হারিয়ে দিলেন ডান ইভান্সকে। কোনও বাধা সৃষ্টি করতে পারেননি ইভান্স। প্রাথমিক রাউন্ডের খেলায় জকোভিচ শারীরিক সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। পেটের ব্যাথা চাগাড় দেওয়ায় সাময়িক মেডিকেল ট্রিটমেন্ট নেওয়ার জন্য খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাই প্রথম রাউন্ডের খেলায় চার সেট অব্দি ম্যাচ গড়িয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার অল ইংল্যান্ড টেনিস কোর্টে একপ্রকার দঁাড়াতেই দিলেন না ইভান্সকে। জকোভিচের বাচ্চা মেয়ে বক্স অফিসে বসে খেলা দেখছিল। ম্যাচের শেষে তাই জকোভিচকে দেখা যায় মেয়ের জন্য কোর্টে দঁাড়িয়ে নাচের ভঙ্গিমা দেখাচ্ছেন। হবে না কেন, এভাবে অনায়াসে তৃতীয় রাউন্ডে উঠবেন অনেকেই তা বিশ্বাস করতে পারেননি।
প্রাক্তন ব্রিটিশ তারকা টিম হেনম্যান খেলা দেখে জকোভিচ সম্পর্কে জানিয়ে দিয়ে গেলেন, “অসাধারণ। টেনিসের বেশ কিছু মুহূর্ত তুলে ধরল জকোভিচ যা এককথায় দুর্দান্ত। ইভান্সকে বিন্দুমাত্র সুযোগ দেয়নি। বারবার চেষ্টা করছিল ইভান্স। কোন সময়ের জন্য তাকে ফিরে আসার সুযোগ দিল না। আশাকরি অসাধারণ একটা ম্যাচ খেলে নিশ্চয় হাসি-খুশিতে থাকবে।” জকোভিচ দেখিয়ে দিলেন, ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের জন্য কতটা মুখিয়ে রয়েছেন তিনি। সেন্টার কোর্টে তঁার খেলা দেখে স্থানীয় টেনিস মহল ভাবতে শুরু করেছে, সাতের জায়গায় সংখ্যাটা বাড়িয়ে আটে নিয়ে চলে যাবেন। অর্থাত্্ সাতবার উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন জকোভিচ এবার সংখ্যাটাকে আটে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

জিতে অনায়াস ভঙ্গিতে দর্শকদের দিকে হাত নাড়লেন সার্বিয়ান তারকা।
প্রথমবার উইম্বলডন খেলতে জকোভিচ নামেন ২০০৫ সালে। সেই দিনটার কথা মনে পড়ছে কিনা জানতে চাইলে জকোভিচ সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন, তঁার ভাবার সময় নেই। “চিন্তা করার সময় পাব কোথায়। সেই সময় পাইনা। একটা কথা জানবেন, পেশাদার টেনিসে শীর্ষ স্থান ধরে রাখতে গেলে অনেক নিষ্ঠার প্রয়োজন হয়। তাই অতীতে কী করেছি ওসব ভাববার সময় একদম পাইনা।” পরে যোগ করেন জকোভিচ, “আগের মতো ঘন ঘন আমি খেলি না। যখন খেলি না তখন আমার সময় কেটে যায় বাচ্চাদের সঙ্গে খেলে। যা কিছু করেছি তা ভাববার প্রয়োজন নেই।”কখন অতীতকে নিয়ে স্মরণ করবেন তাও জানিয়ে দিয়েছেন ষষ্ঠ বাছাই। “মাঝে মাঝে ভাববার ইচ্ছে হয়না তা নয়। সেইদিন পুরোপুরি ভাববো যেদিন টেনিস রেকেট একপাশে সরিয়ে রাখব। তারপর সমুদ্র সৈকতে মার্গারিটাসকে চুমুক দেব। আর রজার ফেডেরার ও রাফায়েল নাদালের সাথে সমুদ্র সৈকতে বসে সময় কাটাব। তখন কেবল আমাদের মধ্য যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল, লড়াই হয়েছিল, সেইসব নিয়ে জমিয়ে গল্প করা যাবে।”
সেন্টার কোর্টে ডান ইভান্সকে হারানোর পর প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জকোভিচ জানিয়ে দেন, “সেন্টার কোর্টে আবার খেলতে পেরে দারুন লাগছিল। দর্শকরা সকলে জানতেন, পরিবেশটা দারুন হবে। ব্রিটেনের মাটিতে একজন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে খেলা সহজ কাজ নয়। ডান ইভান্সের সঙ্গে খেলতে হলে আপনাকে সব সময় ম্যাচে থাকতে হবে। যদি একবার পদস্খলন ঘটে তাহলে সর্বনাশ। বলতে পারেন সেই পদস্খলন আমার ঘটেনি। শুরু থেকেই ম্যাচের মধ্যে থেকেছি। তাই ম্যাচটা ভালভাবে শেষ করা গিয়েছে। আর একটা কথা মনে রাখবেন, এমন এক একটা দিন আসে, সেদিন যাই করুন না কেন সবকিছু দারুন হয়। নিজের মর্জি মতো চলে।” উইম্বলডনে জকোভিচ জিতে নিলেন ৯৯তম ম্যাচ। আর একটা ম্যাচ জিতলেই শততম ম্যাচের সাক্ষী থাকবেন। জকোভিচ বলছিলেন, “ব্যাপারটা আর কিছুই নয়। দীর্ঘদিন ধরে খেলছি। বিশ্বাস করুন খেলাটাকে এখনও দারুন উপভোগ করি। এটাও তো মানতে হবে, এই খেলা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। বিশেষ করে উইম্বলডন হল আমার হৃদয়ে সবচেয়ে কাছের টুর্নামেন্ট। ছোট বেলায় যেসব টুর্নামেন্ট জেতার স্বপ্ন দেখতাম তারমধ্যে উইম্বলডন ছিল সবার আগে। তাই এই টুর্নামেন্ট আমার কাছে স্পেশাল তো বটেই।”







