তিনি ধন্য। তিনি আপ্লুত। তিনি গর্বিত। তিনি বলতে নোভাক জকোভিচের কথা বলা হচ্ছে। উইম্বলডনের ইতিহাসে জিতে নিয়েছেন ১০০তম ম্যাচ। তাই অল ইংল্যান্ড ক্লাবে এমন অনন্য কীর্তির সাক্ষী থাকতে পেরে সার্বিয়ান তারকা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, এমন সাফল্য তঁাকে কতটা খুশি করেছে।
সাতবারের উইম্বলডন বিজয়ী জকোভিচ তৃতীয় রাউন্ডে অনায়াসে হারিয়ে দেন স্বদেশি কেকমানোভিচকে। খেলার ফল ছিল ৬-৩, ৬-০ ও ৬-৪। মাত্র এক ঘন্টা ৫ মিনিটের মধ্যে খেলায় যবনিকা টেনে দেন তিনি। তবে পুরুষদের বিভাগে আটবারের বিজয়ী রজার ফেডেরার এখানে ১০৫ ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছেন। যদি জকোভিচ এবার চ্যাম্পিয়ন হন তাহলেও তঁার রেকর্ড ভাঙ্গতে পারবেন না। থেকে যাবে ১০৪-এ গিয়ে। চ্যাম্পিয়ন হলে ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড গড়বেন। যাইহোক ম্যাচ জয়ের সেঞ্চুরি করতে পেরে যে তিনি ধন্য তা স্বদেশি কেকমানোভিচকে হারিয়ে জানিয়ে দেন। “উইম্বলডন শুধু আমার কাছে নয়, বহু টেনিস খেলোয়াড়ের কাছে প্রিয় টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার জন্য সকলে মুখিয়ে থাকে।”জকোভিচ আরও যোগ করেন, “বড় হয়ে বেশিরভাগ বাচ্চারা স্বপ্ন দেখে উইম্বলডন ট্রফি হাতে তোলার। সেই স্বপ্ন এখানে একাধিকবার পূরণ করতে পেরে সত্যি আমি খুশি। প্রিয় টুর্নামেন্টে আমি যে ইতিহাস তৈরি করতে পেরেছি তারজন্য আমি ধন্য।”
মাইলফলক উদযাপন করার পর তিনি তঁার মেয়েকে নিয়ে পাম্পিং নৃত্য পরিবেশন করেন। যদিও এবার এই নাচ প্রতিটি ম্যাচ জেতার পর করে আসছেন। জকোভিচকে চতুর্থ রাউন্ডে লড়তে হবে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালোক্স ডি মিনারের সাথে। সেন্টার কোর্টে এই ম্যাচ দেখতে বহু প্রাক্তন তারকা হাজির ছিলেন। তৃতীয় রাউন্ড অব্দে জকোভিচের লড়াই দেখে প্রাক্তনরা মুগ্ধ। এমন বিধ্বংসী মেজাজে খেলছেন যে প্রতিপক্ষরা তঁার সামনে দঁাড়াতেই পারছে না। এখনও অব্দি স্ট্রেট সেটে প্রতিটি ম্যাচ জিতেছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রিটিশ তারকা ডান ইভেন্সের বিরুদ্ধে ৩৮ বছরের যুবার লড়াই দেখে অনেকেই হতবাক। নিখঁুত টেনিস যে খেলেছেন তা সেই ম্যাচ জেতার পর জানিয়ে ছিলেন জকোভিচ। বিশেষ করে তঁার সার্ভিস দুরন্ত হয়ে উঠছে। কেকমানোভিচের বিরুদ্ধে খেলার সময় হাওয়া দিচ্ছিল। ফলে তঁার সার্ভিস ঠিকমতো বুঝতেই পারেননি সার্বিয়ান প্রতিপক্ষ। মাত্র একটা ব্রেক পয়েন্টের সামনে পড়েছেন। আসলে কেকমানোভিচ জানতেন সার্বিয়ান তারকা ঠিক কোথায় তঁাকে আঘাত করতে পারে। একসঙ্গে ডেভিস কাপ খেলার সূত্রে জকোভিচকে তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন। তবু জকোভিচের ফ্রি-হিটিং শট থামাতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন।
শুধু সার্ভিস নয়, সেরা রিটার্নদের মধ্যেও তঁার জুড়ি মেলা ভার। একদিকে তিনি স্থির। তার উপর দ্রুত গতিবিধি সেই সঙ্গে দক্ষতা, দর্শকদের মুগ্ধ করে দেয়। প্রতিপক্ষকে এভাবে ধরাশায়ী করার পর তঁাকে নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন দর্শককূল। খেলার শেষে দেখা যায় সকলে নিজ নিজ আসন ছেড়ে দঁাড়িয়ে তঁাকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে। এবার যদি এখানে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেন তাহলে রজার ফেডেরারের আটবার উইম্বলডন জয়ের সমান ভাগীদার হবেন। এখানে বর্তমান যারা খেলছেন তঁাদের মধ্যে একমাত্র আলকারাজের কাছে হার স্বীকার করেছেন জকোভিচ। তাছাড়া সকলকে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তঁার। তাই দেখার আলকারাজকে এবার ফাইনালে হারাতে পারেন কিনা। যদিও তার আগে সবকিছু ঠিকঠাক চললে সেমিফাইনালে জানিক সিনারের মুখোমুখি হবেন তিনি। সেই লড়াইও কম আকর্ষণীয় হবে না।







