২৬৯ রান করেছেন। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বোচ্চ রান করলেন। অধিনায়ক হিসেবে ভেঙে দিয়েছেন আজহাউদ্দিনের রেকর্ড। সবকিছুর মধ্যে বিজয় কেতন উড়িয়েও আপ্লুত হতে পারছিলেন না। যখন বাবা-মায়ের আবেগঘন বার্তা এলো তখনই যেন উচ্ছ্বাসের মাত্রাকে দ্বিগুণ করে ফেললেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমন গিল। জানিয়ে দিলেন, সবচেয়ে বড় পুরস্কার তঁার পাওয়া হয়ে গিয়েছে।
“শুভমন বেটা তুই খুব ভালো খেলেছিস। তোর আজ ব্যাটিং দেখে দারুন মজা পেলাম। তোর খেলা দেখে হৃদয় ভরে গিয়েছে। গর্ব অনুভব করছি।” খেলার পর শুভমনকে এমনই বার্তা ফোনে দিয়েছেন তঁার বাবা। বাদ যাননি মাও। তিনিও ছেলের গর্বে গর্বিত। মাও তঁার ছেলের কাছে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, “তোর ব্যাটিং দেখে দারুন মজা পেয়েছি। এভাবে্ই তোকে খেলে যেতে হবে। চালিয়ে যাও। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করবেন।” কোনও সন্দেহ নেই, বাবার জন্য প্রকৃত ক্রিকেটার হতে পেরেছেন শুভমন গিল। তিনি না থাকলে হয়তো শুভমন এই জায়গায় আসতেই পারতেন না। গিল আগেই জানিয়ে ছিলেন, বাবার জন্য তঁার ক্রিকেটার হওয়া। এই বার্তা পাওয়ার পর বাবা সম্পর্কে ফের তিনি বলেছেন, “বাবা-মায়ের পাঠানো এই বার্তা আমার কাছে দারুন লেগেছে। এই বার্তা আমার কাছে স্পেশাল। ছোটবেলায় বাবা পাশে থেকে আমাকে ক্রিকেট খেলা শিখিয়েছেন। তঁার জন্য ক্রিকেটার হয়েছি। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমি বরাবর দুজনের কথা মেনে চলি। দুজনের মধ্যে একজন হলেন আমার বাবা, অপরজন আমার এক পরম বন্ধু। তবে আমারও খারাপ লাগছে, ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে পারলাম না। তার আগে আউট হয়ে গেলাম। ট্রিপল সেঞ্চুরি না পাওয়া আমার কাছে খুব দুঃখজনক।”

এজবাস্টনের মাটিতে ইতিহাসের সাক্ষী থেকে খোশমেজাজে রয়েছেন গিল।
গিল পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বরাবর শুতে যাওয়ার আগে একবার ফোনটা চেক করে নেন। দেখে নেন, কারও কাছ থেকে কোনও জরুরী ফোন এসেছিল কিনা। কিংবা কোনও ম্যাসেজ কেউ পাঠিয়েছেন কিনা, এসবরে জন্যই তিনি ঘুমনোর আগে ফোনে সবকিছু যাচাই করে নেন। ২৬৯ রান করার দিনটা তঁার কাছে ব্যতিক্রম হতে পারত। কিন্তু চিরদিনের অভ্যেসকে ত্যাগ করতে পারেননি গিল। এদিন মাঠ থেকে আসার পর চলে গিয়েছিলেন সুইমিং পুলে। মূলত ক্লান্তি কাটানোর জন্য। সেখান থেকে চলে আসেন রুমে। তারপর ডিনার সারেন। শুতে যাওয়ার আগে ফোনে সবকিছু দেখে নেন। “সারা দিনের কাজ শেষ হয়ে গেলে যখন আমি ঘুমোতে যাই তখন আমার ফোন চেক করে নিই। আমার লক্ষ্য থাকে পরিবার ও মূলত বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার থাকলে তা বলে নেওয়া।” বাবা-মায়ের বার্তা যে তঁার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে গিয়েছে তাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তারমধ্যে তঁার দুঃখ একটাই থেকে গেল, ট্রিপল সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হলেন। যদিও ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্টে শতরান করার পরে দ্বিতীয় টেস্টে করে ফেলেছেন ডাবল সেঞ্চুরি। বাকি আছে তিনটে টেস্ট। আশা করা যায়, সামনের তিনটে টেস্টের মধ্যে ট্রিপল সেঞ্চুরি নিশ্চয় তঁার ব্যাট থেকে দেখা যাবে।
দ্বিতীয় টেস্ট যদি ভারতে জিততে পারে তাহলে গিলের অবদানকে কেউ কখনও ভুলতে পারবে না। তঁার অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ভারত তুলতে পেরেছে ৫৮৭ রান। দিনের শেষে প্রচন্ড চাপে পড়ে গিয়েছে ইংল্যান্ড। ২৫ রানের মাথায় ইংল্যান্ডের তিন উইকেট পড়ে গিয়েছিল। পরে জো রুট ও হ্যারি ব্রুকস লড়াই চালিয়ে দিনের শেষে ইংল্যান্ডকে ৩ উইকেটে ৭৭ রানে পৌছে দিয়েছেন। এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড পিছিয়ে আছে ৫১০ রানে।







