আসন্ন এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামা নিয়ে ঘোর আপত্তি হরভজন সিং-এর। এই প্রসঙ্গে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হরভজনের সোজাসাপটা বক্তব্য, ভারত এই ম্যাচ খেললে তা পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানার প্রতিবাদে ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগেরই অসম্মান হবে!
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আগামী মাসে এশিয়া কাপে ফের সম্মুখ সমরে ভারত ও পাকিস্তান। ১৪ সেপ্টেম্বর আমিরশাহীতে গ্রুপ পর্বে খেলবে দুই দল। টুর্নামেন্টে একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এক্ষেত্রে কেন কড়া মনোভাব দেখাতে ব্যর্থ বিশ্বের ‘ধনীতম’ বোর্ড? কার্যত একই সুর এবার হরভজনের গলায়। এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দাবি করেন, ইচ্ছা থাকলে এই ম্যাচ এড়িয়ে যেতেই পারত বিসিসিআই।
ভাজ্জি বলেছেন, “ওদের (বোর্ডের) বোঝা উচিত এই মুহূর্তে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা নয়। আমার কাছে তাঁদের মূল্য অনেক বেশি যাঁরা আমাদের রক্ষা করার জন্য সীমান্তে লড়াই করছেন। নিজেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করারও সুযোগ পান না তাঁরা। কারও কারও তো আর বাড়িই ফেরা হয় না। সেই প্রেক্ষিতে দেখলে একটা ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ। কারণ নিজের দেশের ঊর্ধ্বে কিছুই না।”
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য মনে করিয়ে প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার আরও বলেন, “আমাদের সরকারও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না। একইভাবে সীমান্তে দুই দেশ লড়াই চালিয়ে যাবে, আর অন্যদিকে ম্যাচ হবে, সেটাও হতে পারে না। এই সব সমস্যার সমাধান না হলে মনে হয় না পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া উচিত।”
সম্প্রতি লেজেন্ডস লিগেও মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের প্রাক্তনীদের। কিন্তু সেসময় হরভজন, শিখর ধাওয়ানরা সাফ জানিয়ে দেন, কোনওভাবেই পাক দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন না তাঁরা। গ্রুপ ম্যাচে না খেলার পাশাপাশি সেমিফাইনালেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলেনি ভারতীয় দল। ওয়াকওভার পেয়েই ফাইনালে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। সেবারের মতোই এবারও ভারত-পাক দ্বৈরথ বন্ধ নিয়ে সুর চড়ালেন ভাজ্জি।







