২০২৬ সালের হকি বিশ্বকাপে ভারতের পুরুষদের ‘রিজার্ভ’ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হকি ইন্ডিয়া। হকি ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান গেমসের সময়সূচির মধ্যে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধান। এশিয়ান গেমসই ২০২৮-এর লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের যোগ্যতা নির্ণয় করবে আর সেই কারণেই হকি ইন্ডিয়া গুরুত্ব দিচ্ছে এশিয়ান গেমসকে।
২০২৩-এ চীনের হ্যাংঝাউ-য়ে হওয়া এশিয়ান গেমসে ভারতীয় পুরুষ হকি দল জাপানকে হারিয়ে সোনা জিতে প্যারিস অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। অন্যদিকে, নারী দল তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ পেলেও অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
আগামী বছর আগস্টে বেলজিয়ামের ওয়াভ্রে এবং নেদারল্যান্ডসের অ্যামস্টেলভিন শহরে আয়োজিত হকি বিশ্বকাপের ঠিক ২০ দিন পর জাপানে হচ্ছে এশিয়ান গেমসের হকি ইভেন্ট। হকি ইন্ডিয়া মনে করছে পরপর দুটো বড় টুর্নামেন্টে খেললে খেলোয়াড়রা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, হকি ইন্ডিয়ার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “আমরা চাই না খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ খেলে ক্লান্ত হয়ে পড়ুক। যার প্রতিফলন এশিয়ান গেমসে ওদের পারফরম্যান্সে পড়বে। অলিম্পিক কোয়ালিফায়ারের সুযোগ মিস করলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দল পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপ সফরের প্রো লিগ ম্যাচগুলোতে আমাদের বেঞ্চ স্ট্রেংথ পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা এখন দুইটি শক্তিশালী স্কোয়াড গঠন করতে পারি।”
নারী দলের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা নেই। কোচ সালিমা তেটের নেতৃত্বে মূল নারী দল বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান গেমস— উভয় টুর্নামেন্টেই অংশগ্রহণ করবে, তবে তা নির্ভর করছে তাদের যোগ্যতা অর্জনের ওপর। পুরুষ দল ফেডারেশন র্যাঙ্কিংয়ে ভাল অবস্থানে থাকায় তাদের বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া মোটামুটি নিশ্চিত হলেও, নারী দলের পক্ষে তা কঠিন হতে পারে। আগামী মাসগুলিতে এশিয়া কাপ, অলিম্পিকেযোগ্যতা অর্জন ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে তাদের ভাগ্য।
বিশ্বকাপে পুরুষ ও নারী— উভয় বিভাগের খেলা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ থেকে ৩০ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত। ইউরোপে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এফআইএইচ প্রো লিগে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তবে এ সফর ছিল মূলত খেলোয়াড় যাচাই ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তৈরির মঞ্চ। এতে কোচিং স্টাফ ও ফেডারেশন মূল এবং ‘এ’ দলের সম্ভাব্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।
ভারতীয় হকি সম্প্রতি যে রকম উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার মাঝে এমন পরিকল্পনা অনেকটা কৌশলগত। রিজার্ভ বেঞ্চের কিংবা বিকল্প খেলোয়াড়দের সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা প্রদান করাও এ সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। দ্বিতীয় সারির দল পাঠানো হলেও ভারত চাইছে প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দিতে।







