লিস্টন কোলাসো। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। নামী–দামী বিদেশিদের ভিড়েও তিনি কিন্তু উজ্জ্বল তার প্রান্তিক দৌড়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে দেওয়ার জন্য। দলের বিদেশি তারকারাও কিন্তু অপেক্ষা করেন লিস্টনের দৌড়ের জন্য।
চলতি ডুরান্ড কাপে লিস্টনকে আরও ক্ষুরধার লাগছে। তার কারণ শুধু বিষাক্ত প্রান্তিক দৌড়গুলো নয়। নিজের একটা বড় ‘দোষ’ কমিয়েছেন তিনি। আগে বল পায়ে রাখতেন প্রচুর। ছাড়তে চাইতেন না। নিজেই গোল করতে চাইতেন। এ বার কিন্তু সতীর্থদের পাস বাড়াতে কার্পণ্য করছেন না লিস্টন। রবিবারের ডার্বিতেও লিস্টন কোলাসোর ফুটবলে ম্যাচের ফলাফল লেখা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

রবিবারের যুবভারতীতে ভারতীয় ফুটবলারদের দ্বৈরথে ইস্টবেঙ্গলের তুলনায় মোহবাগান কি একটু এগিয়ে? বহু বড় ম্যাচ জেতানো দীপেন্দু বিশ্বাসের সেরকম মনে হচ্ছে। “ভারতীয় ব্রিগেডে এগিয়ে মোহনবাগান। এরাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবে,” বলেছেন দীপেন্দু। আসলে রবিবারের ডার্বি নিয়ে দীপেন্দুর বিশ্বাস, যেহেতু দু’দলের বিদেশিদের অধিকাংশই এখনও সম্পূর্ণ ম্যাচ-ফিটনেস তৈরি করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন তাই মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। অবশ্য এই ধারণায় ব্যতিক্রম হতে পারেন ইস্টবেঙ্গলের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগুয়েল। ইতিমধ্যেই নিখুঁত ফুটবলে যিনি শুধু দলের সমর্থক নন, দীপেন্দুর মত কলকাতা ফুটবলের প্রাক্তন আন্তর্জাতিকদেরও নজর কেড়ে নিয়েছেন।
সবুজ-মেরুনের সাতজন জাতীয় ফুটবলার। লিস্টন ছাড়াও র্যেছেন বিশাল কাইথ, অনিরুদ্ধ থাপা, আব্দুল সামাদ, দীপক টাংরি, আশিস রাই, অভিষেক সূর্যবংশী, আপুইয়া বা করণ রাই।

ইস্টবেঙ্গলও কিন্তু পিছিয়ে নেই ভারতীয় ফুটবলারদের দ্বৈরথে। মোহনবাগানের লিস্টন কোলাসোর মত ইস্টবেঙ্গলেও আছেন বিপিন সিং। তারও বিষাক্ত প্রান্তিক দৌড়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙা দেখেছে মুম্বই সিটি এফসি। কিন্তু সেই ফর্ম কি তিনি ধরে রাখতে পারবেন? পারলে কিন্তু দ্বৈরথ জমে যাবে। তবে বিপিন ছাড়াও ইস্টবেঙ্গলের ভারতীয় ব্রিগেড খুব পিছিয়ে নেই। রয়েছেন আনোয়ার আলি, রাকিপ, লালচুংনুঙ্গা, নাওরেম মহেশ, প্রভাত লাকরা, রামসাঙ্গারাও। গোলে প্রভসুখন গিলের ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এখন রবিবারের যুবভারতীর অপেক্ষায় কলকাতা!







