পতৌদি ট্রফি বন্ধ করে তেন্ডুলকর-অ্যান্ডারসন ট্রফি চালু হচ্ছে। এই ব্যাপারটা জেনে কিছুটা অদ্ভুত লেগেছে কপিলদেবের। যদিও এই নিয়ে তীব্র সমালোচনার সুর তঁার মুখ থেকে শোনা যায়নি। তিনি শুধু একটা কথাই বলেছেন, তিনি যখন শুনলেন তখন ব্যাপারটা তঁার কাছে কেমন বেখাপ্পা মনে হয়েছে।
আগে ইংল্যান্ড-ভারত টেস্ট সিরিজের জন্য ট্রফির নামকরণ ছিল পতৌদি ট্রফি। যারা সিরিজ জিততেন তঁাদের হাতে তুলে দেওয়া হত পতৌদি নামাঙ্কিত ট্রফি। এতদিন ধরে এটাই চলে আসছিল। কিন্তু এবার ট্রফির নামকরণ পাল্টে দিয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। নতুন নামকরণ হয়েছে তেন্ডুলকর-অ্যান্ডারসন ট্রফি। এই নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা। অনেকে দুটি নাম বেছে নেওয়াকে মানতে পারেননি। অাবার অনেকে মনে করছেন, তেন্ডুলকর ও অ্যান্ডারসন একই যুগের একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিকেটার নন। তাহলে এই ট্রফির নামকরণের পেছনে যৌক্তিকতা কোথায়। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ককে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অকপটে স্বীকার করে নেন, প্রথম শুনে তঁার কাছে কেমন একটা অদ্ভুত লেগেছিল। “ক্রিকেট হল ক্রিকেট। মাঠে যাই ঘটানো হোক তা যেন ভাল হয়। বাকিটা আপনি পরিবর্তন করতেই পারেন। তবে যাই বদল করুন তা যেন ক্রিকেটের পক্ষে ভাল হচ্ছে কিনা আগে দেখতে হবে। আমি যখন প্রথম এই খবরটা শুনি তখন আমার কাছে কেমন একটা অদ্ভুত লেগেছিল। মনে মনে ভাববাল, ব্যাপারটা কেন এমন ঘটলো? তবে এরজন্য বিশাল কিছু হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছি না। ক্রিকেটে এসব চলতেই পারে। সবকিছুই তো চলছে।” সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে একথা বলেছেন কপিলদেব।
১৯৩২ সালে ভারত প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলার ৭৫তম বর্ষ উদযাপনের জন্য ২০০৭ সালে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব কর্তৃক ট্রফিটির উন্মোচন করা হয়। নাম করণ হয় ইফতিখার আলি খান পতৌদির নামে। যিনি ভারত-ইংল্যান্ড দুই দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন। পরবর্তীকালে অধিনায়কত্ব করেন। তঁার ছেলে মনসুর আলি খান ‘টাইগার’ পতৌদি ভারতের একজন কিংবদন্তী ক্রিকেটার ছিলেন। ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই পতৌদির নামাঙ্কিত ট্রফির নাম বদল ঘটাকে কেন্দ্র করে হইচই চলছে।
কপিলদেব জানিয়ে দিলেন, এই ভারতীয় দলের কাছে তঁার বিশাল কোনও প্রত্যাশা নেই। তিনি মনে করছেন খোলা মনে প্রত্যেককে খেলতে দেওয়া উচিত। “সেই হিসেবে যদি দেখি, এই টেস্ট সিরিজে আমার কোনও প্রত্যাশা নেই। ছেলেদের শুধু বলবো তোমরা যাও আর নিজেকে মেলে ধরবার চেষ্টা কর। সেটাই হবে দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” মন্তব্য করেন কপিলদেব। তিনি হলেন তিনজন ভারতীয় অধিনায়কের মধ্যে একজন যিনি ইংল্যান্ডে সিরিজ জিতে এসেছিলেন। ১৯৮৬সালে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। এবার দেখার বিষয় হল, শুভমন গিল কী করেন। রোহিত শর্মা অবসর নেওয়ার পর তঁার হাতে দলের নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয়। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার আগে রবিচন্দ্রন অশ্বিন অবসর নিয়েছিলেন। তাই তরুণদের নিয়ে এবার ইংল্যান্ডে গিয়েছেন গিল। এখন দেখার বিষয় হয়ে রইল, অনভিজ্ঞ ভারতীয় দলকে তিনি কীভাবে নেতৃত্ব দেন।







