গত কয়েকদিন ধরে চলছিল গুঞ্জন। এবার তা আছড়ে পড়ল বাস্তবের মাটিতে। বিরাট কোহলি জানিয়ে দিলেন, তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন। আর কোনওদিন আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে নীল-সাদা জার্সি পরে মাঠে খেলতে দেখা যাবে না। যঁার দীর্ঘতম ক্রিকেট কেরিয়ারে ১২৩টা টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে। গড় রান ৪৬.৮৫। মোট রান করেছেন ৯২৩০।
ইনস্টাগ্রামে নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বিরাট কোহলি জানিয়েছেন, “১৪ বছর আগে আমি ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাগি ব্লু জার্সি গায়ে খেলতে নেমে ছিলাম। সত্যি বলতে কী কখনও ভাবিনি ক্রিকেটের এই ফর্ম্যাট আমাকে এত দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। ক্রিকেটের এই ফর্ম্যাট আমাকে বহুবার পরীক্ষার সামনে এনে বসিয়েছে। ধীরে ধীরে আমাকে তৈরি করেছে। সঙ্গে এমন শিক্ষা দিয়েছে যা সারা জীবন মনে রেখে দেব।” সেই পোস্টে কোহলি এও জানিয়েছেন,“দেখুন টেস্ট ফরম্যাট থেকে সরে আসার ব্যাপারটা মোটেই সহজ ছিল না। আবার এও মনে হচ্ছে, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। ক্রিকেট জীবনে সবকিছু আমি উজাড় করে দিয়েছি এই ফরম্যাটে। আবার এও ঠিক, প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ক্রিকেটের এই ফরম্যাট আমাকে দিয়েছে।” কোহলি এখানে না থেমে তিনি আরও জানিয়েছেন,“কৃতজ্ঞতা ভরা হৃদয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি। খেলার জন্য , যাদের সাথে খেলে মাঠে ভাগ করে নিতাম, যারা আমাকে সঠিক চলার দিকে এগিয়ে দেখিয়েছে, তঁাদের প্রত্যেকের কাছে আমি ঋণী। চিরকৃতজ্ঞ থাকব।” ইনস্টাগ্রামে কোহলি আরও জানিয়েছেন,“যখন আমি টেস্ট কেরিয়ারের দিকে তাকাব তখন হাসিমুখে সবকিছু দেখার চেষ্টা থাকবে। # ২৬৯, সাইন ইন।”
টেস্ট কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। সেই ২০১১ সালে। তিন বছর খেলতে না খেলতে তিনি ভারতীয় দলের নেতৃত্বে চলে আসেন। ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয় বিরাট কোহলির নাম। ভারতের মোট ৬৮ টেস্টে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যারমধ্যে জিতেছিল ৪০টা ম্যাচ। ড্র করেছিল ১১। হেরেছিল মাত্র ১৭টি ম্যাচে। লাল বলের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে সফল বলা যায়। কোহলির অধিনায়কত্বে সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে টেস্ট সিরিজ জিতে আসা। মজার ঘটনা হল, সিডনির মাটিতেও শেষবারের মতো টেস্ট খেলার ঘটনা কোহলির জীবনে থেকে গেল। যেখানে বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির শেষ টেস্ট ছিল সিডনিতে। সেই ম্যাচে ভারত ৬ উইকেটে হেরে যায়। সিরিজ শেষ করে ভারত ফিরেছিল ৩-১ ব্যবধানে হেরে।
বিরাট কোহলির টেস্ট পরিসংখ্যান এইরকম- ম্যাচ: ১২৩, রান: ৯২৩০, সর্বোচ্চ: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অপরাজিত ২৫৪,২০১৯, গড়: ৪৬.৮৫, ১০০: ৩০, ৫০: ৩১।
২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কোহলি ঘোষণা করে দেন তিনি আর টি-২০ ক্রিকেট ভারতের হয়ে খেলবেন না। একইদিনে অবসরের কথা ঘোষণা করেছিলেন রোহিত শর্মাও। টেস্ট ক্রিকেটেও দেখা গেল, কিছুদিন আগে রোহিত সরে দঁাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ছিলেন। এবার কোহলিও সেই একই পথের পথিক হলেন। প্রশ্ন হল, ভারতীয় দলের নেতৃত্বের ভার তাহলে কার উপর বর্তাবে? যশপ্রীত বুমরা, কেএল রাহুল না শুভমন গিল? তিনজনের মধ্যে অবশ্যই এগিয়ে আছেন শুভমন গিল। কিছুদিনের মধ্যে হয়তো তা ঘোষণা করে দেবে বোর্ড। কোহলির সরে যাওয়ার অর্থ গিয়ে দঁাড়াল, আগামী মাসে পঁাচ টেস্ট খেলতে ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ভারত। সেই টেস্ট সিরিজে তঁাকে আর রোহিতকে খেলতে দেখা যাবে না। ১৪ বছরের টেস্ট কেরিয়ারে ভারতীয়দের মধ্যে রান সংগ্রহের তালিকায় উঠে আসেন চতুর্থ স্থানে। বাকি তিনজন হলেন শচীন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড় ও সুনীল গাভাসকার।
অস্বীকার করে কোনও লাভ নেই, সম্প্রতি কোহলি টেস্ট ক্রিকেটে মোটেই সুবিধে করতে পারছিলেন না। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিনি শেষ সফরে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। অথচ এর আগের সফরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোহলি সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিেলন। শেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে তঁার একটা সেঞ্চুরি ছিল। বাকি ৯টা ইনিংসের মধ্যে তঁার সংগৃহীত রান ছিল মাত্র ১৯০। তাই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামিটে নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে কোহলি বুঝিয়ে ছিলেন, কতটা তঁাকে অস্ট্রেলিয়া সফর আঘাত করেছিল। “যদি আমার কাছে জানতে চাওয়া আমাকে ক্রিকেট মাঝে মাঝে কতটা আঘাত করে। তাহলে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফর আমার জীবন সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্রমাগত ব্যর্থতা আমার ক্রিকেট জীবনকে অনেকটা প্রভাব ফেলেছিল।” ইংল্যান্ড সফরে তিনি যে মোটেই স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন না তাও আরসিবির সামিটে বলেছিলেন। সেখানে তঁার বক্তব্য ছিল-২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফর তঁাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত দেয়।







