বিশ্ব তিরন্দাজীতে ভারতের জয়জয়কার। মধুরা ধামানগঁাওকার শনিবার তিরন্দাজ বিশ্বকাপে সোনা তুলে নিয়েছেন। ফাইনালে তিনি হারিয়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রের কারসন ক্রাহেকে। ফল ১৩৯-১৩৮। ব্যক্তিগত বিভাগে এই প্রথম বিশ্বকাপ থেকে সোনা পেলেন মধুরা।
তিন বছর ধরে তিনি আন্তর্জাতিক তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় নামেননি। ফলে বিশ্ব ক্রমতালিকায় চলে গিয়েছিলেন একদম নিচের সারিতে। ফাইনাল ম্যাচে তিনি তৃতীয় রাউন্ডে পিছিয়ে ছিলেন ৮১-৮৫। অসম্ভব চাপকে সহ্য করে ২৪ বছরের মাধুরি দেখালেন কীভাবে আসল সময়ে জ্বলে উঠতে হয়। চতুর্থ রাউন্ডে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান। দুজনে ১১০-এর স্কোরে দঁাড়িয়ে যান। ফাইনাল রাউন্ডে তাই বোঝা যাচ্ছিল না, কে করবেন বাজিমাত। এই সময় মধুরা অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান। ১০ স্কোর করে দুটি তীর ছেঁাড়েন। শেষ স্কোর ছিল ৯। ক্রাহ তাই বাধ্য হয়ে এক পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েন। রোমাঞ্চকর সমাপ্তিতে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে একটা ম্যাচ বের করে নিয়ে যেতে হয় সেটাই দেখালেন মধুরা। তবে এই প্রতিযোগিতা থেকে তিনি তৃতীয় পদক পেলেন। অভিষেক ভার্মার সাথে মহিলা দলগত ইভেন্টে তিনি রুপো পেয়েছিলেন। কম্পাউন্ড বিভাগের দলগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পান। তিন বছর পর ফের আন্তর্জাতিক স্তরে স্বমহিমায় ফিরলেন মধুরা। “আগের তুলনায় আমি অনেক উন্নতি করেছি। একদিকে যেমন মানসিক শক্তি বাড়াতে পেরেছি। অন্যদিকে দক্ষতাও অনেকটা বেড়েছে।” সোনা জেতার পর একথা বলেন মধুরা।
মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর বাসিন্দা মধুরার মধ্যে যে বিশাল ট্যালেন্ট রয়েছে তা বুঝতে পেরেছিলেন তঁার ব্যাক্তিগত কোচ প্রবীণ সাওয়ান্ত। ছাত্রীর সাফল্যের পর মিডিয়াকে নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রবীণ বলেন, “দু-বছর আগে আমাদের অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়েছিল। তার খেলা দেখে বুঝেছিলাম, মেয়েটা অনেকদূর যাবে। তখনই বুঝে যাই মধুরার প্রযুক্তিগত, সরঞ্জাম ও মানসিক দিকগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। সামনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, অলিম্পিক আসছে। বড় বড় সব ইভেন্ট। দীর্ঘ পথ তাকে পাড়ি দিতে হবে। সেইমতো এগনোর চেষ্টা করেছি।” শনিবার ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেজ-২ দলগত বিভাগে একটা করে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ জিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ভারতের তীরন্দাজরা। বিশেষ করে অভিষেক ভার্মা, ওজস দেওতালে, ঋষভ যাদব পুরুষ দলের হয়ে সোনা জিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই মুহুর্তে ভারত কতটা বিশ্ব তীরন্দাজিতে শক্তিশালী। ফাইনালে এঁরা হারিয়ে দেন ২৩২-২২৮ ব্যবধানে মেক্সিকোকে। প্রথম রাউন্ডে ভারত ৫৯-৫৭ পয়েন্টে এগিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা জমে ওঠে। একটা সময় মেক্সিকো করে ৫৮। ৫৬ করে ভারত। তবে মাঝামাঝি জায়গায় এসে দুই দেশ দঁাড়িয়ে যায় ১১৫-১১৫তে। তৃতীয় রাউন্ডে ফের ভারত এগিয়ে যায় এক পয়েন্টে (৫৮-৫৭)। শেষমেশ ভারতের কাছে আর রুখে দঁাড়াতে পারেনি মেক্সিকো। হার স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু মেয়েদের দল হেরে বসে সেই মেক্সিকোর কাছে। মেয়েদের কম্পাউন্ড বিভাগে শক্তিশালী মেক্সিকো যেখানে করে ২৩৪। সেখানে ভারত করে ২২১। ভারতীয় মহিলা দলে ছিলেন জে্যাতি সুরেখা ভেন্নাম, মধুরা ধামানগঁাওকর ও চিকিথা তানিপার্থি। মেক্সিকান মহিলা তিরন্দাজরা অনেক ভাল পারফর্ম করেছেন।
তবে ২৪ বছরের মধুরা কোনওদিন ব্যাক্তিগত বিভাগে বিশ্বকাপ থেকে সোনার পদক জেতেননি। তিন বছর পর তিনি আন্তর্জাতিক কোনও প্রতিযোগিতায় নামলেন। আর নেমেই করে দেখালেন অসাধারণ পারফরম্যান্স। শেষবার তিনি নেমেছিলেন ২০২২ সালে। মেডেলিনে বিশ্বকাপ-৪ স্টেজে। তবে এই রেজাল্ট বিশ্ব তীরন্দাজির কম্পাউন্ড বিভাগ সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিল, এবার থেকে ভারতকে সমীহ না করে উপায় নেই। পরবর্তী অলিম্পিক হবে লস অ্যাঞ্জেলসে। ২০২৮ সালের অলিম্পিকে কম্পাউন্ড তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় অভিষেক হতে চলেছে। যেখানে একটা মাত্র ইভেন্ট থাকবে,তাহল কম্পাউন্ড দলগত বিভাগের খেলা। তাই ধরে নেওয়া যায়, এই ইভেন্টে ভারতের দিকে সকলের নজর থাকতে বাধ্য। হয়তো অভিষেকে ভারত তুলে নিতে পারবে অলিম্পিক পদক।

একাধিক রেকর্ড গড়ে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে বিরাট জয় ভারতের
Shareব্যাট, বল হাতে দুরন্ত হার্দিক পান্ডিয়া। সেইসঙ্গে অকুণ জেটলি স্টেডিয়ামে একাধিক রেকর্ড গড়ে নামিবিয়ার বিরদ্ধে বিরাট জয় তুলে নিল ভারত।






