অনিল কুম্বলে ভাঙা চোয়াল নিয়ে খেলেছিলেন। ঋষভ পন্থ খেললেন ডান পায়ের ভাঙা পাতা নিয়ে! দোতলার সাজঘর থেকে সিঁড়ি ভেঙে নামতে কষ্টই হচ্ছিল তার। কিন্তু সঙ্গী ছিল হার না মানা এক লড়াই। রেলিং ধরে ধীরে ধীরে সাবধানে নামলেন। তখন মাঠে তার অপেক্ষায় শার্দূল ঠাকুর। বাউন্ডারি লাইনের ধারে এগিয়ে যান পন্থকে স্বাগত জানাতে। কিন্ত হাতটা ধরেননি পন্থ! হয়ত নিজেকে বলছিলেন, ‘দু-বছর আগের ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা থেকে তুমি মাঠে ফিরে এসেছ। এবারই বা পারবে না কেন!’
মাঠে ঢুকে পিচ ছুঁয়ে প্রণাম একবার সাজঘরের দিকে তাকানো। তারপরই আকাশের দিকে তাকিয়ে একবার নমষ্কার করে উইকেটে স্টান্স নেওয়া। এই পুরো সময়টা ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারি জুড়ে মুগ্ধতা। পন্থকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিচ্ছেন দর্শকরা। শেষ বিকেলে ভারতকে অসহায় করে দেওয়া বেন স্টোকসরাও তখন হাততালি দিচ্ছেন পন্থের উইকেটের দিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসাকে। শার্দূল আউট হওয়ার পর থেকে পন্থের গার্ড নেওয়া পর্যন্ত ২ মিনিটের বেশি অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। চাইলে ‘টাইমড আউট’র আবেদন করতে পারতেন স্টোকস। করেননি।
ম্যাঞ্চেস্টারে পন্থ আবার ব্যাট করতে পারবেন, এতটা ভাবা যায়নি। যিনি দাঁড়াতেই পারছেন না, তিনি খেলবেন কী করে! ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও জানিয়ে দিয়েছিল, পন্থের পক্ষে ম্যাঞ্চেস্টারে উইকেট রক্ষা করা সম্ভব নয়। শুভমন গিলদের কি তবে ১০ জনে খেলতে হবে? সিরিজ়ে পিছিয়ে থাকা দল অসম লড়াইয়ের মুখে পড়ে গেল? এমন নানা প্রশ্নের আড়ালে পন্থ ছিলেন অকুতোভয়। বিকাল ৫টা ০৩ মিনিটে শার্দূল আউট হওয়ার পর টেলিভিশনের ক্যামেরা ঘুরে যায় ভারতীয় সাজঘরের দিকে। সকলকে অবাক করে নামলেন পন্থ। দলের জন্য। দেশের জন্য। প্রায় অসম হয়ে যাওয়া লড়াইয়ে প্রাণ ফেরালেন।
ঋষভের লড়াই শুধু লর্ডস নয়, আইপিএলে তার ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের মনও ছুঁয়ে গেল! গত আইপিএলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়শই সঞ্জীব গোয়েঙ্কা আর অধিনায়ক ঋষভ পন্থের তিক্ততার ছবি দেখা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই ছবিকে দূরে সরিয়ে রেখেই গোয়েঙ্কার টুইট, ‘এটা কোনও প্রতিভাবানের গল্প নয়। এটা এক চরিত্রের গল্প। সেই চরিত্রকে স্যালুট।’







