পাঞ্জাব কিংস: ৫ উইকেটে ২১৯ (২০ ওভার)
রাজস্থান রয়্যালস: ৭ উইকেটে ২০৯ (২০ ওভার)
রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন টস করতে এসে জনিয়েছিলেন, বৈভবকে ওপেনার ছাড়া অন্য কিছুতে তাঁরা ভাবছেন না। বৈভব এত ভাল খেলছে যে ওকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে রাজি নই। তাই আমি ওপেন থেকে তিনে নেমে আসব। যে ভাল খেলছে তাকে সন্মান জানাতেই হবে। এখানে বয়স ব্যাপার নয়। যে ভাল খেলছে, তার সম্পর্কে এর বেশি কিছু বলার দরকার নেই।
পাঞ্জাবের বড় ইনিংসে (৫ উইকেটে ২১৯) জবাব দিতে নেমে শুরুটা অবশ্য বৈভব করেননি। অর্শদীপকে মেরে রান তোলার দিকে বেশি নজর দেন যশ্বসী। প্রথম ওভারে আসে ২২ রান। তারপর উল্টোদিকে থাকা বৈভব হাল ধরেন। তিনিও কম যাননি। বড় ইনিংসকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে এমন মারকাটারি ইনিংস খেলার দরকার পড়ে। সেটাই রাজস্থানের দুই ওপেনার শুরু থেকে করতে থাকেন। মানসিক দিকে থেকে যশ্বসী অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তুলনায় বৈভব কিছুটা হলেও পিছিয়ে। কিন্তু সেটা মাঠে আর দেখা যাচ্ছে কোথায়! মাত্র১৫বল খেলে ৪০ রান করে আউট হলেন বৈভব।এর মধ্যে ছিল ৪টি বাউন্ডারি ও ৪টি ওভার বাউন্ডারি। সব থেকে বড় কথা এই ফরম্যাটে সবাই স্ট্রাইক রেটের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বৈভবের ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ২৬৬.৬৬।
ভাবা যায়! ১৪ বছরের বৈভবের হাতে মার খেতে দেখা গেল এই ফরম্যাটে ভয়ঙ্কর অর্শদীপকেও। তিনি ২ ওভারের দেন ৩৮ রান। পাওয়ার প্লে -তে রাজস্থান তোলে ১ উইকেটে ৮০ রান। ব্যক্তিগত ৪০ রানে ব্রা-র কাছে হার মানেন বৈভব। আউট হয়ে কিছুক্ষণ উইকেটে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এভাবে তাঁকে আউট হয়ে ফিরতে হবে। ৭৯ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর জয়পুরের মানুষ ভেবেছিলেন পাঞ্জাবের রান টপকে ম্যাচ বের করে নেবেন স্যামসনরা। প্লে অফ খেলার জায়গায় তাঁরা নেই। কিন্তু ম্যাচে জিতে আইপিএল শেষ করতে পারলে মানসিক দিক থেকে তো চাঙ্গা থাকা যায়। সেটা হলে দলের অন্দরমহলের চেহারা বদলে যায়।
কিন্তু বৈভব আউট হওয়ার পর যশ্বসী দলের রানকে সেভাবে টেনে নিয়ে যেতে পারেননি। জয়পুরের প্রচন্ড গরমে কাহিল হয়ে পড়েছিলেন। তারপর উল্টোদিকের উইকেটে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন, একটার পর একটা উইকেট চলে যাচ্ছে। স্যামসন, পরাগ কেউ দাঁড়াতে পারলেন না। মাঝে ধ্রুব জুরলে (৫৩) দলকে টানলেন। তিন্তু দলকে জেতানোর জন্য সেই রান যথেষ্ট ছিল না। অনেকটা এগিয়েও শেষ রক্ষ হল না। রাজস্থান ২০৯ রানে আটকে গেল। পাঞ্জাব দশ রানে ম্যাচ জিতে প্লে অফের দিকে এক পা সামনে ফেলল।
এই মরশুমে রাজস্থান বিরাট কিছু করতে পারেনি। লিগ টেবিলের দিকে তাকালে সেটা মনে হবে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে যে তারা চারটি ম্যাচে দশ বা তার কম রানে ম্যাচ হেরেছে। একটি ম্যাচ হেরেছে সুপার ওভারে। সেই ম্যাচের রেজাল্ট উল্টো হলে বলা য়ায় না রাজস্থান প্লে অফ খেললেও খেলতে পারত। সেটা হল না বলে তাদের খেলা নিয়ে কথা উঠতেই পারে।
পাঞ্জাব জিতলেও তাদের শুরুটা একদম ভাল হয়নি। দলের ৩৪ রানে মধ্যে তিন উইকেট চলে যায়। মিডলঅর্ডারে এসে নেহাল (৭০) ও অধিনায়ক শ্রেয়স (৩০) ম্যাচ ধরেন। পরে এসে শশাঙ্ক সিং ৩০ বলে ৫৯ রানের একটা ঝোড়ো ইনিংস খেলে দিতে পাঞ্জাব দুশো রানের গন্ডী পার করে। তারপর বোলিংয়ে হরপ্রিত ব্রার (২২ রানে ৩) নজর কেড়ে ম্যাচের সেরা হন। চাহাল উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ব্যাটসম্যানদের আটকে দেন। জিতে পাঞ্জাব ১২ ম্যাচে ১৭ পয়েন্টে দাঁড়াল। রাজস্থান ১৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে ৯ নম্বরে দাঁড়িয়ে।







