খেলার শেষে প্রতিটি কথায় ফুটে উঠছিল আবেগের বাহার। মাত্র সাত দিন আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। অথচ মাত্র কয়েকটা দিনের মধ্যে দলকে পৌছে দিয়েছেন ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে। তঁার উচ্ছ্বাস, আবেগ, আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটাই তো স্বাভাবিক। তাই বলে ফেটে পড়েননি। চেলসির নবাগত ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো খেলার শেষে জানিয়ে গেলেন,“আমার স্বপ্ন ফলপ্রসূ হল। এর চেয়ে ভাল আর কিছু হতে পারত বলে আমার মনে হয়না। দুটো গোলে দল জিতল। আমি সেই দুটো গোল করলাম। এরচেয়ে খুশির খবর আর কিছু হতে পারে না। রবিবারের ফাইনাল নিয়ে এখন আমাদের ভাবতে হবে।”পরে যোগ করেন পেদ্রো, “মানছি, ফ্লুমিনেজের কাছে এই টুর্নামেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ন ছিল। খারাপ লাগছে আমি একজন ব্রাজিলিয়ান হয়ে ব্রাজিলের ক্লাবের বিরুদ্ধেই জোড়া গোল করলাম। এই হল পেশাদারিত্ব জীবন। এখানে এসেছি দলকে জেতাতে, গোল করতে। তারজন্য অর্থ দিচ্ছে। তাই যে দলে খেলছি সেই দলকে জেতাতে পেরে নিঃসন্দেহে খুশি।”
মাত্র সাত িদন আগে যে দলে যোগ দিয়েছেন সেই চেলসিকে এভাবে পেদ্রো ফাইনালে পৌছে দেবেন তা কেউই ভাবতে পারেনি। যোগ দেওয়ার তিন দিন পরে ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাসের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন। সেদিন মাত্র ৩৬ মিনিট মাঠে ছিলেন। কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। বুধবার প্রথম একাদশে সুযোগ পান ২৩ বছরের নায়ক। দ্বিতীয় ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন তঁার জাত। চেলসি ২-০ গোলে জেতার পেছনে গোলদাতা লেখা থাকবে শুধু একজনের নাম, জোয়াও পেদ্রো। ১৮ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে চেলসিকে এগিয়ে দেন তিনি। আক্রমণে ওঠার সময় ফ্লুমিনেজের বঁা প্রান্তে একটা পাশ পেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। দূর থেকে দুরন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ফ্লুমিনেজের গোলকিপার ফাবিও ঝঁাপিয়েও বলের নাগাল পাননি। দ্বিতীয় গোলটি পায় প্রিমিয়ার লিগে খেলা ক্লাব বিরতির পর। ৫৬ মিনিটে ফ্লুমিনিজের কফিনে শেষ পেরেকটি পুতে দেন সেই পেদ্রো। এনজো ফার্নান্দেজ পাশটা বাড়িয়ে ছিলেন। সেই বল ধরে একক প্রচেষ্টায় ঢুকে এসে গোলটা করে যান। তাই বলে ফ্লুমিনেজ গোলের সুযোগ পায়নি তা নয়। প্রথম গোল হওয়ার পর নিশ্চিত গোল খাওয়া থেকে দলকে বঁাচান মার্ক কুকুরেয়া। গোললাইন সেভ করেন। ৩৬ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবকে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। পরে ভারের সাহায্য নিয়ে রেফারি সেই গোল বাতিল করে দেন। দ্বিতীয় গোল খাওয়ার পর আর ঘুরে দঁাড়াতে পারেনি ফ্লুমিনেজ।

ম্যাচের শেষে চেলসি কোচকে ঘিরে টিম ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের উল্লাস।
স্বদেশি দলের বিরুদ্ধে গোল পাওয়ার পর পেদ্রো কিন্তু উচ্ছ্বাসের মধ্যে ভেসে যাননি। এমন কী গোল করার জন্য কোনও উদযাপন করতে দেখা যায়নি। অনেকটা নিষ্পৃহ ছিলেন। বরং তঁার কাছে রবিবারের ম্যাচ খুব ভাইটাল। ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসি মুখোমুখি হবে পিএসজি না রিয়াল মাদ্রিদ তা বুধবার রাতে পরিষ্কার হয়ে যাবে। “আমার কাছে রবিবারের ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। মাত্র সাত দিন আগে যে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছি। যে দলকে ফাইনালে তুলতে পেরেছি। সেই দলকে যদি চ্যাম্পিয়ন করতে পারি তাহলে এরচেয়ে একজন ফুটবলারের কাছে ভাল কিছু হতে পারে না।” খেলার শেষে বলেছেন পেদ্রো। এবার নিয়ে চেলসি ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনবার উঠলো।২০১২ সালে রানার্স হলেও ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়। এবার কী হবে তারজন্য প্রতীক্ষায় থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।







