এই মরশুমে কলকাতা ডার্বি কল্যাণীতে। কেন যুবভারতীতে নয় সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এই মরশুমের কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে ঘটছে। আইএফএ-র কমার্শিয়াল পার্টনার শ্রাচী স্পোর্টসের যে অ্যাপে লিগ দেখানো হচ্ছে, তার লিঙ্কের অবাধ ‘পাইরেসি’ হচ্ছে। প্রচুর ফুটবলপ্রেমীরা অবাধে পাইরেটেড লিঙ্কে কলকাতা লিগ দেখছেন। তারা হয়ত ১৯ জুলাই এই মরশুমের কলকাতা ডার্বিও দেখবেন। এর প্রতিফলন? ফুটবল ব্যবসা ক্রমশ তলানিতে চলে যাচ্ছে।
শ্রাচী স্পোর্টস কিন্তু জানে এই পাইরেসির কথা। তারা দ্রুত পাইরেসি থামানোর জন্য উদ্যোগও নিয়েছে। কর্ণধার রাহুল টোডি প্যারালাল স্পোর্টসকে বললেন, “কিছু হ্যাকার এই কাজটা করছে। আমাদের আগেই এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তবে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। কারণ, পাইরেসি বাড়তে থাকলে আমরা টাকা পাব না আর টাকা না পেলে ভবিষ্যতেও ফুটবলের সঙ্গে থাকা যাবে না। অর্থনৈতিকভাবে ফুটবল মারা যাবে।”
মোহনবাগান ক্লাবের বর্তমান প্রেসিডেন্ট দেবাশিষ দত্তেরও মনে হচ্ছে বাংলার ফুটবলের ইকোনমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে তিনি দায়ী করছেন মুলত অন্য দূটি বিষয়কে।
তার প্রথম অভিযোগ ডার্বি ম্যাচ কল্যাণীতে আয়োজন করা নিয়ে। বলছেন, “ভারতীয় ফুটবলের সেরা বিজ্ঞাপন আজও ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ। সে যে দলই খেলুক না কেন। সেই ম্যাচ যদি কোনও পাড়ার মাঠে খেলানো হয় তাহলে তাকে ঘিরে কতটা উন্মাদনা তৈরি হতে পারে? ফুটবলে আগ্রহী কর্পোরেটও কতটা উৎসাহী হতে পারে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ানোর জন্য?”
প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ, “একটা ডার্বি ম্যাচ হচ্ছে। অথচ, কোনও টিভি চ্যানেলে তার লাইভ টেলিকাস্ট হবে না। শুধু এই ম্যাচটা দেখানোর জন্য কোনও চ্যানেলের সঙ্গে আইএফএ কলকাতা লিগের কমার্শিয়াল পার্টনারের সঙ্গে কথা বলাতে পারত না? কত মানুষ টাকা দিয়ে অ্যাপের সাবসস্ক্রিপশন করবেন?”
মোহনবাগান প্রেসিডেন্ট নিজেই যাবেন না কল্যাণীতে খেলা দেখতে। জানালেন, সচিব সৃঞ্জয় বোসও যাবেন না। কল্যাণীর ডার্বি নিয়ে মোহনবাগান সমর্থকদের মধ্যেও কতটা উৎসাহ, উন্মাদনা তৈরি হয়েছে সেই নিয়েও তার সন্দেহ আছে!
এই অভিযোগের জবাবে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তের প্রতিক্রিয়া, “যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন পাওয়ার চেষ্টাই করিনি। কারণ, কলকাতা লিগে আইএসএলের দল খেলে না। রিজার্ভ দলের খেলা দেখতে যুবভারতী যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ভরে না। সেক্ষেত্রে, নৈশালোকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একটা ম্যাচ আয়োজন করতে হলে যে টাকা খরচ হয় তাতে টিকিটের দাম অনেক বাড়িয়ে দিতে হবে। সেই টাকার টিকিটে কত সমর্থক যুবভারতীতে যাবেন ম্যাচ দেখতে? খেলা হবে প্রায় ফাঁকা স্টেডিয়ামে।”

দেবাশিষ দত্ত মঙ্গলবারই এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “একটা আইএসএল ম্যাচ যুবভারতীতে আয়োজন করে আমাদের কত টাকা ক্ষতি হয় সেটা জানেন আপনারা? তাও যুবভারতীতেই আয়োজন করি কারণ, সদস্য, সমর্থকরা যুবভারতীতে খেলা দেখতে যে সুবিধেগুলো পান সেটা অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। আইএফএ-ও না হয় শুধু ডার্বির কথা ভেবে ক্ষতি স্বীকার করে নিত।”
আইএফএ সচিবের জবাব, “কমার্শিয়াল পার্টনার কি রাজি হবে যে দু’দলের সমর্থকরা তাদের অ্যাপে সাবস্ক্রিপশন না করে কোনও টিভি চ্যানেলে লাইভ-টেলিকাস্ট দেখুক? এতে তো কমার্শিয়াল পার্টনারের কোনও রোজগার হবে না। তারা কেন চাইবে তাদের ব্যবসা মরে যাক?”
সামগ্রিকভাবে বাংলার ফুটবলের ইকোনমির দিকে তাকালে ছবিটা খুব উজ্জ্বল নয়। অবশ্য সময় বলবে বাংলার ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা এবং তার ব্যবসায়িক পার্টনার ঔজ্জ্বল্য আনতে পারে কি না।







