মাঠের বাইরে বসে সিএসকের ব্যর্থতা দেখতে ভাল লাগে না প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়নার। জাতীয় দলে একসয় ধোনির সতীর্থ ছিলেন। ছিলেন সিএসকের সাফল্যের অন্যতম সাক্ষী। দুবছর আগে খেলা ছেড়ে দিয়ে টিভি ভাষ্যকারের কাজ ব্যস্ত। শুক্রবার চেন্নাইয়ের মাঠে পুরনো দলের খেলা দেখে তিনি হতাশ। টুর্নামেন্টে ৯ ম্যাচের মধ্যে ৭টিতে হার। এ কোন সিএসকে! তাঁদের জমানায় এই দল সাফল্য ছাড়া অন্য কিছু দেখেনি। আর এখন সিএসকে কবে জিতবে তা নিয়ে ফ্যানরাও নিশ্চিত নন। বলছিলেন, ম্যনেজমেন্ট ঠিকভাবে দল গুছিয়ে নিতে পারেনি। অকশন থেকে ভাল ক্রিকেটার তুলে আনার কাজেও তারা ব্যর্থ। তাই দলটি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না।
সিএসকে মানে ধোনি। তাঁকে কোনও কিছু না জানিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধন্ত নেওয়া হয় না। তাই অকশন থেকে ভাল ক্রিকেটার নেওয়া হয়নি, এই কাজের জন্য ম্যানেজমেন্টের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়া যে অর্থহীন। ধোনিকে কেন আড়াল করা হচ্ছে। তাঁর কি এ ব্যাপারে কোনও মত ছিল না! এই প্রশ্নে রায়না বলেন, আমি কোনদিন দেখিনি ক্রিকেটার বাছাইয়ে ধোনির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। নতুন মরশুম শুরুর আগে ধোনি চার বা পাঁচজন ক্রিকেটারের নাম বলত। তাদের কাউকে রিটেন করা হত। এর বাইরে দল গড়া নিয়ে ধোনি আলাদা করে কথা বলত না। দল গোছানোর কাজ হয়ে যাওয়ার পর ধোনির হাতে ক্রিকেটারদের তালিকা দেওয়া হত। তখন যে পরিকল্পনা হত, সেখানে ধোনিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হত। কারন ধোনি একজন ক্রিকেটার। একজন অধিনায়ক। আবার পুরো দলকে কাঁধে নিয়ে চলা একজন ক্রিকেটার। তাই সেখানে ধোনিকে আলাদা করে কাজ করতে হত।
তা হলে ক্রিকেটার বাছাইয়ের কাজ কারা করতেন। এই ম্যানেজমেন্ট বলতে কাঁদের কথা বলা হচ্ছে। এর উত্তরও রায়না দিয়েছেন। বলছেন, সিএসকে দলের সিইও কাশী বিশ্বনাথ স্যর প্রশাসনিক কাজে গত ৩০-৪০ বছর ধরে যুক্ত। এ ধরনের কাজ তিনি টানা করে আসছেন। আরও একজন আছেন- রুপা ম্যাম। তিনি ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাজ দেখেন। ক্রিকেটার বাছাইয়ের কাজ তাঁরা করে থাকেন। সবাই ধোনির কথা বলেন। কিন্তু আমার কথা বিশ্বাস করলে এটাই বলব, ধোনি কোনদিন অকশনে যায়নি। ক্রিকেটার বাছাইয়ের কাজে বেশি কথাও বলেনি। তাই পুরো দোষ ওর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আমিও তো বলছি অকশনকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি সিএসকে ম্যানেজমেন্ট। ভাল ক্রিকেটার তুলে আনা যেত। সেটা হয়নি। তাই দলের অবস্থা এমন।
তবে ম্যানেজমেন্টকেও পুরো দায়ী করতে চান না রায়না। বলছেন, ৪৩ বছর বয়সে ধোনি যা করছে তা অনেক ক্রিকেটারের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। এদের কারোর পিছনে ১৮ কোটি, ১৭ কোটি বা ১২ কোটি টাকা ঢালা হয়েছে। কিন্তু বদলে ক্রিকেটাররা দলকে কি দিয়েছে। কিছুই না। তাই দলের এমন চেহারা দেখতে হচ্ছে। তারা ঠিকভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারলে পয়েন্ট তালিকায় সিএসকে এই জায়গায় থাকত না। এখনও পাঁচ ম্যাচ বাকি। ক্রিকেটারদের নিয়ে নিশ্চয় ধোনি বসবে। কথা বলবে। নিজেদের প্রমান করতে ক্রিকেটাররা এখনও যদি ঝাঁপিয়ে না পডে়, তা হলে কবে তারা ঘুরে দাঁড়াবে। এখন তো নিজেদের বাঁচার লড়াই। সেই লড়াইয়ে জিততে পারলে সিএসকে লিগ টেবিলে ভাল জায়গায় গিয়ে শেষ করতে পারবে।







