শুভাশিস বোস, সুনীল ছেত্রীদের যাওয়া একপ্রকার অনিশ্চিত। ছেলেদের ফুটবল দল নিয়ে ফুটবল ফেডারেশন যখন একরাশ লজ্জার সম্মুখীন। ঠিক সেই সময় ভারতীয় ফুটবলকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত করল মেয়েরা। সুইটি দেবী, মনিষা কল্যাণ, রিম্পা হালদাররা তুলে ধরল ভারতীয় ফুটবলকে এশিয়ার দরবারে। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। দুটি দলের কাছেই ছিল এএফসি এশিয়ান কাপে যাওয়ার ভিসা জোগাড় করার উপায়। যে দল জিতবে তারাই যাবে এএফসি এশিয়ান কাপে। থাইল্যান্ডের মাঠে থাইল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে জিতে নিল ভারত। সেই সঙ্গে চলে গেল এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে। দুটি গোলই করেন সঙ্গীতা বাসফোর। ২৯ মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হওয়ার দু-মিনিটের মধ্যে গোলশোধ করে দেয় থাইল্যান্ডের পান্থোই। জয়সূচক গোল করে ভারত ৭৪ মিনিটে। হ্যাটট্রিক করতে পারতেন সঙ্গীতা। ভারত প্রচুর গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। কল্যাণীর মেয়ে সঙ্গীতা। দীর্ধদিন ধরে কলকাতা লিগে খেলেছেন। সীমান্ত সুরক্ষা বলের হয়ে খেলেন। সেই ভারতীয় ফুটবলকে পৌছে দিলেন সঠিক ঠিকানায়। ২৩ বছর পর ভারতের মেয়েদের দল ইতিহাস গড়ল । বাংলাদেশ আগেই যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে। ভারতেও এবার ঢুকে পড়ল সেই পংক্তিতে।

গোল পেয়ে এভাবেই উদযাপন করেছে ভারতীয় মেয়েরা। (ফাইল চিত্র)।
ভারতীয় ফুটবলে এখন ছেলেদের সংখ্যা তেমন নেই বললে চলে। শুভাশিস বোস ছাড়া তেমন কাউকে এখন চোখে পড়ে না। অথচ মেয়েদের দলে একগুচ্ছ বাংলার মেয়ে। রিম্পা হালদার, সঙ্গীতা বাসফোর-সহ আরও অনেকে। সবচেয়ে বড় কথা ভারতীয় দল ২৩ বছর পর ইতিহাস গড়ার প্রধান কারিগর হয়ে থাকলেন সঙ্গীতা বাসফোর। একজন বঙ্গ ললনা। সীমান্ত সুরক্ষা বলের হয়ে কলকাতা লিগে খেলেন। সেনা বাহিনির চাকরি। তাই অন্যকোনও দলে যোগ দেওয়ার উপায় নেই। সেই কারণে সঙ্গীতাকে আটকে পড়তে হয়েছে সেনা দলের মধ্যে। নাহলে তঁাকে নেওয়ার জন্য মেয়েদের আই লিগের প্রতিটি দল মুখিয়ে আছে। সেই সঙ্গীতা দুটো গোল করে ভারতকে পৌছে দিলেন এএফসির মূলপর্বে।
বাংলাদেশ আগেই চলে গিয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছে এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার। ভারত অতীতে খেললেও দীর্ঘদিন এএফসি এশিয়ান কাপে যেতে পারছিল না। এবার সেই সুয়োগ করে দিলেন সঙ্গীতা। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে আরও বেশি গোল জিততে পারত ভারত। অাটকে পড়ল ২-১ গোলের মধ্যে।







