পরপর দু-দিন অঘটন ঘটে যাওয়ার ঘটনা থেকে রেহাই পেল না তৃতীয় দিনেও। মহিলাদের দ্বিতীয় বাছাই কোকো গফ হেরে বসলেন। পুরুষদের খেলায় নোভাক জকোভিচ জিতলেও শারীরিক সমস্যার তঁাকে ম্যাচ চলাকালীন পড়তে হয়েছে। পরে সামলে নেন। জিতেও যান। পরিস্থিতি যে জটিল জায়গায় চলে যাচ্ছিল তাতে সার্বিয়ান তারকা হয়তো ম্যাচ ছেড়ে দিতে বাধ্য হতেন।
২৪ ঘন্টা আগে জানিক সিনার অনায়াসে জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে গিয়েছেন। কার্লোস আলকারাজ কঠিন লড়াই লড়ে প্রথম রাউন্ডের বাধা অতিক্রম করতে পেরেছেন। তৃতীয় বাছাই আলেকজান্ডার জাভেরেভ তো প্রথম ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি। হেরে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সেই জায়গায় নোভাক জকোভিচ শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে পৌছে গিয়েছেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। ক্রীড়াসূচী অনুযায়ী যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে তাহলে সিনার-জকোভিচের সেমিফাইনালে দেখা হওয়ার কথা। বুধবার প্রথম রাউন্ডের খেলায় জকোভিচ হারিয়ে দিয়েছেন ফরাসি খেলোয়াড় আলেকজান্দ্রো মুলারকে। খেলার ফল ছিল ৬-১, ৬-৭ (৭-৯), ৬-২, ৬-২। এই জয়ের সাথে সাথে অনেকে ভাবতে শুরু করেছেন, ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করলেন জকোভিচ।
তৃতীয় সেট শুরু হতেই জকোভিচ শারীরিক সমস্যায় পড়ে যান। দেখা যায় ঠিক মতো দঁাড়াতে পারছেন না। পরে তিনি জানান,“সমস্যা দেখা গিয়েছিল পেটে। শারীরিক দিক দিয়ে ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছিলাম না।” মেডিকেল টাইম আউটের পর ফের খেলতে নামেন তিনি। দেখা যায় ১২ গেমের মধ্যে ১০টা জিতে নিয়েছেন। সেই পুরোন জকোভিচ মেজাজ ফিরে পান। খেলার পরে সেকথা স্বীকার করে নেন জকোভিচ। বলেন, “প্রথম দেড় সেট যেভাবে খেলছিলাম তাতে কোনও সমস্যা ছিল না। পরবর্তীকালে দেখলাম সুস্থ শরীর অসুস্থ হয়ে গেল। প্রায ৪৫ মিনিটের জন্য ঠিকমতো দঁাড়াতেই পারছিলাম না। পরে ধীরে ধীরে হারানো শক্তি ফিরে পাই। সবচেয়ে বড় কথা শেষাবধি ম্যাচটা আমি খেলতে পেরেছি।”

হেরে যাওয়ার পর মাথায় হাত দিয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েন কোকো গফ।
বুধবার উইম্বলডনে সবচেয়ে বড় অঘটন হয়ে থাকল মেয়েদের দ্বিতীয় বাছাই কোকো গফের বিদায়। তিনি হেরে গেলেন ইউক্রেনের ডায়ানা ইয়াস্ত্রেমস্কার কাছে। যিনি বিশ্ব ক্রমতালিকায় রয়েছেন ৪২তম স্থানে। ডায়ানা জিতে যান ৭-৬ (৭-৩) ও ৬-১ ব্যবধানে। ফরাসি ওপেন জেতায় এবার ফেবারিটের তালিকায় তিনি ছিলেন সকলের উপরে। ক্রমাগত ডাবল ফল্ট ও আনফোর্সড এরর করতে থাকায় ম্যাচ থেকে হারিয়ে গেলেন। বিদায় নিতে হল প্রথম রাউন্ডেই। খেলার শেষে দেখা যায় কোকো গফকে কঁাদতে। নিজস্ব হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারছিলেন না। পরেরবার অল ইংল্যান্ড ক্লাবে খেলতে এলে যে টেকনিক্যালি কিছু পরিবর্তন ঘটিয়ে আসবেন তাও জানিয়ে দিলেন তিনি। খেলার শেষে কোকো গফকে বলতে শোনা যায়, “আমার খেলার স্টাইলে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। জানি এই পরিবর্তনের কাজ মোটেই সহজ হবে না। খুবই কঠিন কাজ। তবু না করে উপায় নেই। যদি পরিবর্তন ঠিকঠাক করতে পারি তাহলে এখানে ভাল কিছু করা আমার পক্ষে অসম্ভব হবে না। সত্যি বলতে কী, ভাল কিছু করাই আমার এখানে লক্ষ্য।” ঘাসের কোর্ট থেকে যে সরে দঁাড়াবেন না তাও জানিয়ে দিয়েছেন গফ। তঁার মতে, ঘাসের কোর্টের মধ্যে থেকেই নিজেকে ফের তুলে ধরতে পারবেন। “টেনিস ক্যারিয়ার সবে আমার শুরু হয়েছে। শুরুর দিকে ঘাসের কোর্ট ছেড়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আমার নেই। অবশ্যই ঘাসের কোর্টে খেলব। বুঝে গিয়েছি, সফল হতে গেলে এখানে আমার খেলায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।” আমেরিকান মহিলা তারকা জেসিকা পেগুলা ২৪ ঘন্টা আগে বিদায় নিয়েছিলেন। তিনি আবার হারেন বিশ্বের ১১৬ স্থানে থাকা এলিজাবেটা কোকসিয়ারেটোর কাছে। তারপর কোকো গফ হেরে বসায় মেয়েদের টেনিস লন্ডনের মাটিতে অনেকটা বিবর্ণ হয়ে গেল।







