অবশেষে অপেক্ষার অবসান। টানা এক বছর শুধু ভেবে গিয়েছেন, কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটে একজন সফল বোলার হওয়া যায়। তীরে এসেও যেন তরী ডুবে যাচ্ছিল। বারবার চেষ্টা করেও পারছিলেন না ৫ উইকেটের গন্ডি ছাপিয়ে যেতে। অবশেষে এজবাস্টনে এসে পেরেছেন। বিশেষ করে যশপ্রীত বুমরার অনুপস্থিতিতে যেভাবে মহম্মদ সিরাজ নিজেকে তুলে ধরেছেন তা এককথায় অবিশ্বাস্য। তাই ৬ উইকেট পাওয়া শিকারি খেলার শেষে জানিয়ে দিলেন, তঁার অপেক্ষার অবসান ঘটলো।
৭০ রানে ৬ উইকেট সিরাজ নেওয়ার পর ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ৪০৭ রানে। একটা সময় ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান জেমি স্মিথ (২০৭ বলে ১৮৪ রানে অপরাজিত), হ্যারি ব্রুক (২৩৪ বলে ১৫৮ রান) ভারতীয় বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন। অথচ শেষ পঁাচটা উইকেটের মধ্যে চারটে নিয়ে সিরাজ আশ্বস্ত করেন অধিনায়ক শুভমন গিলকে। চতুর্থ দিনের শুরুতে ভারত ৬৪ রানে এক উইকেট যাওয়া স্কোর নিয়ে খেলতে নামবে। সব মিলিয়ে ভারত এই মুহূর্তে এগিয়ে আছে ২৪৪ রানে। সবকিছু সম্ভব হয়েছে সিরাজের জন্য। “অবিশ্বাস্য অনুভূতির সাক্ষী থাকলাম। বিশ্বাস করুন এক বছরের বেশি এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সবসময় চেষ্টা করে গিয়েছি ভাল বল করার। উইকেট পাচ্ছিলাম না। সকালের মুহূর্তটা ভালোই লাগছিল। তবু উইকেট আসছিল না। তাই আমার কাছে এই ছয় উইকেট অনেক বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্লো ছিল পিচ। তাই ভাবছিলাম, আমাকে কিছু একটা করতে হবে। দায়িত্ব পালন করা আমার কর্তব্য।” খেলার শেষে বলেন সিরাজ।

৬ উইকেট নেওয়ার পর এভাবেই উচ্ছ্বাসে ভাসলেন সিরাজ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ দুটি টেস্টে পেস বোলিং বিভাগকে নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। বিশেষ করে যশপ্রীত বুমরার অনুপস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কোনও ফাস্ট বোলার যে হাতে নেই তা বারবার সংবাদ মাধ্যম বলে এসেছে। এজবাস্টনে যশপ্রীত বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটে ম্যাচের মধ্যে একটা না দুটো খেলবেন তাও এখনই জোর দিয়ে কিছু বলা অসম্ভব। স্পেলের কথা স্মরণ করে সিরাজকে বলতে শোনা যায়, “চেষ্টা করছিলাম, সঠিক জায়গায় বলটা যাতে ফেলতে পারি। উইকেট খুব স্লো ছিল। আক্রমণভাগের দায়িত্ব যদি আপনার কঁাধে এসে পড়ে তখন আপনা হতেই প্রতিপক্ষকে কীভাবে ঘায়েল করবেন তার চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়ে যায়। সেই কাজটাই সঠিক ভাবে করে গিয়েছি। হঁাকপাক করিনি। শুধু একটাই লক্ষ্য রেখেছিলাম, সঠিক জায়গায় যাতে বলটা ফেলে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলতে পারি।”
দলের বাকি দুই পেসার আকাশ দীপ ও প্রসিদ্ধের বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। আকাশের সম্ভবত ৩-৪ ম্যাচ চলছে। একই পথের পথিক প্রসিদ্ধও। সিরাজ তাই নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন। “তিনটে বা চারটে টেস্ট ম্যাচ খেলছে আকাশ ও প্রসিদ্ধ। দুজনের অভিজ্ঞতা তেমন নয়। চেষ্টা করে গিয়েছি, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগোতে। সেই সঙ্গে চাপ তৈরি করে তাদের চিন্তায় ফেলা ছিল আমার লক্ষ্য। তবে একই স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলা যায়না। কিছু কিছু আলাদা চিন্তা-ভাবনা মাথায় নেই তাতো নয়। তবে ধারাবাহিক হতে হবে।” বলেছেন সিরাজ। আরও উপভোগ করেছেন বুমরা না থাকায় তঁার উপর বাড়তি চাপ এসে পড়ায়। এই চ্যালেঞ্জ নিতে বরাবর ভালোবাসেন তিনি। তাই সিরাজ বলছিলেন, “৩৮টা টেস্ট খেলেছি। একটা স্থিতিশীলতা আনা আমার কাছে জরুরী ছিল। বোর্ডে আমাদের ছিল ৬০০ রান। তাই উইকেট পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করার চেষ্টা করিনি। লক্ষ্য ছিল একটাই, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। দায়িত্ব নিতে আমি ভালোবাসি। ভালোবাসি চ্যালেঞ্জ নিতে। জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে। কঁাধে বোঝা থাকলে দেখেছি, সেরা পারফর্ম আমার বেরিয়ে আসে।” বলেন সিরাজ।







