কথায় বলে নাচতে না জানলে উঠোন বঁাকা। ঠিক একইরকম ভাবে এই আপ্তবাক্য প্রযোজ্য হয় যখন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস বলছেন, উপমহাদেশের মতোই এজবাস্টনে পিচ হয়ে গিয়েছিল। তারই ফায়দা নিয়েছে ভারত। আবার ইংল্যান্ড দলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম মনে করছেন, টসে জিতে ইংল্যান্ডের উচিত হয়নি বোলিং বেছে নেওয়া। এজবাস্টনে হারার অজুহাত খঁুজে বেড়ানোর কাজ শুরু করে দিল ইংল্যান্ড।
ভারতের কাছে ইংল্যান্ড এজবাস্টনে বিশাল ৩৩৬ রানে পরাজয়ের পর প্রবল সমালোচনার সামনে পড়ে গিয়েছেন বেন স্টোকস এন্ড কোং। সকল বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের সামনে বিন্দুমাত্র মাথা তুলতে পারেনি ম্যাককালামের ছেলেরা। ২০০৫ সালের পর থেকে এজবাস্টনের পিচকে চতুর্থ ফ্ল্যাট উইকেটের সমতুল্য বলে ধরা হয়েছে। এখানে টসে হারলেও ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫৮৭ রান তোলে। জবাবে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করে ৪০৭ রান। পরবর্তীকালে ভারতের ব্যাটারদের কাছে ইংলিশ বোলাররা পরাভূত হয়। বিশেষ করে শুভমন গিল দেখিয়ে দিলেন, একটা টেস্ট ম্যাচে বোলারদের সামনে কীভাবে বিধ্বংসী মেজাজে খেলা সম্ভব। দু-ইনিংস মিলিয়ে তিনি তোলেন ৪৩০ রান। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে একটা টেস্টে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের অংশীদার হয়ে গেলেন। গড়ে ফেললেন ইতিহাস।
ভারত দেখিয়ে দিতে পেরেছে, শুধু রান নয়, একটা টেস্ট ম্যাচে ২০টা উইকেট অনায়াসে সংগ্রহ করা সম্ভব। তারচেয়েও আরও বড় কথা, বৃষ্টির জন্য খেলা অনেকটা সময় বন্ধ ছিল। বিশেষ করে পেস আক্রমণে ভারতীয়রা যে ইংল্যান্ডকে টেক্কা দিয়ে গিয়েছে তা পরিষ্কার। আগে এই জায়গায় বরাবর টেনে আনা হত অস্ট্রেলিয়াকে। ভারত সেই জায়গায় ঢুকে পড়ল দ্বিতীয় দল হিসেবে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারতীয় পেসাররা মোট ১৭টা উইকেট নেন। উল্টোদিকে মাত্র আটটা উইকেট নেন ইংল্যান্ডের পেসাররা।
এজবাস্টনের পিচ নিয়ে স্টোকসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়ে দেন, ভারতে যেমন পিচ বানানো হয়, ঠিক সেই রকম ছিল এজবাস্টনে। “সত্যি বলতে কী খেলার সময় যত গড়িয়েছে ততই এজবাস্টনের পিচ উপমহাদেশের মতো হয়ে গিয়েছে। শুরুর দিকে পিচ ঠিকঠাক কাজ করছিল। তাই শুরুতে আমরা ধাক্কা দিতে পেরেছিলাম ভারতকে।” দৃষ্টান্ত হিসেবে স্টোকস তুলে ধরেন, ভারতের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট চলে গিয়েছিল ২১১ রানে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে খেলতে নেমে ৫ উইকেট খোয়ায় ৩৭৬ রানে। পরের দিকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যে রানের পাহাড়ে চড়ে বসতে পেরেছিল তার কারণ এজবাস্টনের পিচ। তেমনই মনে করছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। গিল যেমন তঁার ক্যারিয়ার সেরা স্কোর (২৬৯ রান) করেন। পাশাপাশি রবীন্দ্র জাদেজা (৮৯) ও ওয়াশিংটন সুন্দর (৪২ রান) দারুন রান করে ভারতকে প্রথম ইনিংসে নিরাপদ জায়গায় পৌছে দিতে পেরেছিলেন।“সময় যত গড়িয়েছে ততই পিচটা সমস্যায় আমাদের ফেলে গিয়েছে। ধীরে ধীরে কঠিন পরিস্থিতির সামনে আমরা দঁাড়িয়ে যেতে বাধ্য হই। উল্টোদিকে ভারত এই পরিবেশে কেমন খেলা উচিত তা ভালমতো বুঝতে পারছিল। যেহেতু তারা এমন পরিবেশে খেলতে অভ্যস্থ। তাই বলে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি এখনও আসেনি। আমরা ঠিক ঘুরে দঁাড়াতে পারব। চলতি সপ্তাহে তার প্রমাণও পেয়ে যাবেন।” বলেন স্টোকস।
ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম জানিয়ে দিলেন, তঁাদের শুরুতেই ভুল হয়ে গিয়েছে। সেই ভুলের মাশুল তাই দিতে হল। “খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা বুঝতে পারছিলাম, শুরুতেই ভুল করে বসেছি। টসে জিতে উচিত হয়নি বোলিং নেওয়া। আমরা কখনও ভাবিনি উইকেটের চরিত্র এভাবে বদলে যাবে। একটা কথা নিশ্চয় মানবেন, টসে জিতে যখন আপনি বোলিং নিচ্ছেন তখন নিশ্চয় আশা করতে পারেন না প্রতিপক্ষ দল ৫৮০ রান করবে। সেই জায়গা থেকে আমরা পেছনের সারিতে চলে যাই।” বৃহস্পতিবার থেকে লর্ডসে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট। সেইদিকে পাখির চোখ করতে চাইছে ইংল্যান্ড।







