অবাক হলেও সত্যি। বৃহস্পতিবার নাম তুলেছিলেন এভারেস্ট জয়ী হিসেবে। অথচ শুক্রবার দুঃসংবাদ এল তিনি আর নেই। যা কখনও কল্পনা করা যায় না। এমন ঘটনা নজিরবিহীন।
এই অকল্পনীয় ঘটনার যিনি শিকার তিনি হলেন সুব্রত ঘোষ। রানাঘাট তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বছর ৪৫ সুব্রত বাগদা ব্লকের কাপাসটি মিলনবিথি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। শুধু সুব্রত নন, একইসঙ্গে এভারেস্ট জয় করার দুর্লভ সম্মান অর্জন করেছিলেন রুম্পা দাসও। দুজনেই ছিলেন রানাঘাট কুপার্স ক্যাম্পের বাসিন্দা। রুম্পাও রানাঘাট কুপার্স ক্যাম্প স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক। অথচ রুম্পা বাড়ি ফিরে আসার পথে পা বাড়ালেও নিথর শরীর আসছে সুব্রতর। যা মেনে নিতে পারছেন না সুব্রতর পরিবার। সম্পূর্ন ভেঙে পড়েছেন দাস পরিবারের সদস্যরা।
পর্বতারোহিরা সাধারণত ভোরের দিকে অভিযানের পথে পা বাড়ান। কিন্তু সুব্রত ও রুম্পা আবহাওয়া খারাপ থাকায় দেরিতে অভিযান শুরু করেন। আবহাওয়া ছিল প্রচন্ড প্রতিকূল। তাই খারাপ অবস্থার মধ্যে কোনওরকমে অভিযান শেষ করে তঁারা নেমে আসছিলেন। নেমে আসার সময় ঘটনাটি ঘটে। যা শোনা যাচ্ছে তাতে দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু রুম্পা অসুস্থ অবস্থায় কোনওমতে ক্যাম্পে ফিরে আসেন। কিন্তু সুব্রত আর ফিরতে পারেননি। খোলা আকাশের নিচে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তঁার চলন শক্তি সেই সময় আর ছিল না। এক শেরপা পাশে থাকলেও তঁার পক্ষে সুব্রতকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসা ছিল অসম্ভব। তখনই বোঝা যায় অঘটন ঘটতে চলেছে। সেই আশঙ্কা যে এভাবে বাস্তবের মাটিতে এসে পড়বে তা ছিল অকল্পনীয়। শুক্রবার সকালে সেই মর্মান্তিক খবর আসে রানাঘাটে।
মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব কৃষ্ণনগর-এর অন্যতম কর্তা বসন্ত সিংহরায়ের অনুপ্রেরণায় রুম্পা, সুব্রত, অসীমরা গিয়েছিলেন এভারেস্ট অভিযানে। ৫২ বছরের অসীম আবহাওয়ার অবনতি ঘটায় তিনি চতুর্থ ক্যাম্প থেকে নিচে নেমে আসেন। রুম্পা ও সুব্রত সেই খারাপ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে এভারেস্ট অভিযানে পাড়ি দেন। রুম্পা ফিরে এলেও আসতে পারলেন না সুব্রত। বঙ্গ তনয়াদের মধ্যে রুম্পা হলেন পঞ্চম এভারেস্ট জয়ী। এর আগে শিপ্রা মজুমদার, ছন্দা গায়েন, টুসি দাস, পিয়ালি বসাক এভারেস্ট জয়ে নিজেদের নাম তুলেছেন। পুরুষদের মধ্যে বসন্ত সিংহরায়, দেবাশিস বিশ্বাস, মলয় মুখোপাধ্যায়ের পর সফল অভিযাত্রীর তালিকায় নাম তুলেছিলেন সুব্রত। কেন এমন ঘটনা ঘটল তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এভারেস্ট জয়ী মলয় মুখোপাধ্যায় বলছিলেন, “ক্লান্তির জন্যই মৃতু্যর মুখে ঠেলে দিল সুব্রত বিশ্বাসকে। দেরিতে অভিযান শুরু করে। শুনছি প্রায় চার-পঁাচ ঘন্টা বাদে তারা অভিযানে যায়। এর মানেই হল, অন্যান্যদের থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়া। অভিযানে যারা যায় তাদের কাছে মস্তবড় ঝুঁকি হল ক্লান্তি। একে সামলানো খুব চ্যালেঞ্জের। তবে প্রকৃত ঘটনা আমরা এখনও কেউ জানিনা। রুম্পা না ফিরলে পরিষ্কার ছবিটা পাওয়া যাবে না। আসলে যত দেরি করবেন ততই আপনার অস্কিজেন খরচ হয়ে যাচ্ছে। তাই জীবনের ঝক্কি অনেক বেড়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই কিন্তু বাস্তব।”

একাধিক রেকর্ড গড়ে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে বিরাট জয় ভারতের
Shareব্যাট, বল হাতে দুরন্ত হার্দিক পান্ডিয়া। সেইসঙ্গে অকুণ জেটলি স্টেডিয়ামে একাধিক রেকর্ড গড়ে নামিবিয়ার বিরদ্ধে বিরাট জয় তুলে নিল ভারত।






