বিরাটের পর কুম্বলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ গেইলেরও

অনিল কুম্বলে ডিক্টেটর(Anil Kumble)! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই গুরুতর অভিযোগ এবার তুললেন ক্যারিবায়ন তারকাও। ভারতীয় দলে অনিল কুম্বলে(Anil Kumble) কোচ হওয়ার পর থেকেই একটা চাপা অসন্তোষ শুরু হয়েছিল। সেই সময় ভারতী দলের অধিনায়ক ছিলেন বিরাট কোহলি। ড্রেসিংরুমে কুম্বলে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন বলেই অভিযোগ এনেছিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। এবার দেশের গন্ডী ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও কুম্বলের বিরুদ্ধে সেই একই অভিযোগ। আর অভিযোগ করলেন খোদ ক্যারিবিয়ান বস ক্রিস গেইল(Chris Gayle)। পঞ্জাব কিংস নাকি অনিল কুম্বলের জন্যই চাড়তে হয়েছিল ক্রিস গেইলকে(Chris Gayle)। এতদিন এই প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ না খুললেও শেষপর্যন্ত সেই মুখ আর বন্ধ রাখতে পারলেন না ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডের এই তারকা ক্রিকেটার। কুম্বলের কোচিংয়ে অত্যন্ত অসম্মানিত বোধ করেছিলেন তিনি। শুধুমাত্র তাই নয় গেইলের আক্ষেপ তাঁর সঙ্গে নাকি একেবাপেই সিনিয়র ক্রিকেটার সুলভ আচরও করা হয়নি। কুম্বলের বিরুদ্ধে গেইল(Chris Gayle) মুখ খোলার পর থেকেই কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে নানান আলোচনা। ক্রিস গেইল(Chris Gayle) জানিয়েছেন, “আমি সত্যিই সেই সময় ভেঙে পড়েছিলাম। বিশেষ করে অনিল কুম্বলের সঙ্গে কথা বলার পর। তাঁকে নিয়ে যেমন হতাশ ছিলাম, তেমনই ফ্র্যাঞ্চাইজি যেভাবে চলছিল তাতেই বেশ হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। রাহুল আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে পরের ম্যাচেই আমাকে খেলানো হবে কিন্তু আমিই শেষপর্যন্ত বেড়িয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম”। গেইল আরও জানিয়েছেন, “পঞ্জাব কিংসে আমি অত্যন্ত অসম্মানিত বোধ করেছিলাম। সেখানে একেবারেই একজন সিনির ক্রিকেটারের মতো ব্যবহার আমি পাইনি”। অনিল কুম্বলের বিরুদ্ধে আগেও এই একই অভিযোগ করেছিলেন বিরাট কোহলি। বিশেষ করে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হারের পরই কুম্বলের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিলেন সেই সময় ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিরাট। এরপর অবশ্য ভারতীয় দলের কোচের পদ ছেড়েছিলেন অনিস কুম্বলে। এবার সেই একই পথে হেঁটেছেন ক্রিস গেইলও। এর ফলে একাধিক প্রশ্নও কিন্তু উঠতে শুরু করে দিয়েছে। তবে কী কুম্বলের বিরুদ্ধে আসা সমস্ত অভিযোগ গুলো একেবারেই সত্যি? শুরু হয়েছে নয়া জল্পনা। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটাই দেখার।
বুমরাকেই ফের অধিনায়ক দেখতে চান কুম্বলে

টেস্ট ক্রিকেট থেকে রোহিত শর্মা জমানা শেষ। এবার তা হলে কে! কে দলকে নেতৃত্ব দেবেন! শোনা যাচ্ছে, শুভমান গিলকে নাকি টেস্ট অধিনায়ক করা হবে। টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা চাইছেন, একজন কম বয়সী ক্রিকেটারকে টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়কের চেয়ারে বসাতে। একবার তিনি সেট হয়ে গেলে আগামি দশ বছর আর চিন্তা থাকবে না। তাই শুভমানের নম অধিনায়কের তালিকায় চলে আসছে। তা হলে সেদিকেই হাঁটছেন বোর্ড কর্তরা! হতে পারে। ভারতীয় দলের ইংল্যান্ড সফরে শুভমান গিল টেস্টে অধিনায়ক হতে পরেন। কিন্তু জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক অনিল কুম্বলে এই নীতিতে বিশ্বাসী নন। তাঁর ভোট বুমরার দিকে। তিনি বলছেন, ইংল্যান্ড সফরে বুমরাকে অধিনায়ক করা হলে ভারতীয় দল ঠিকভাবে নিজেদের টেনে নিয়ে যেতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতীয় দলের সফরে রোহিত অধিনায়ক হলেও বুমরা ছিল সহ অধিনায়ক। পারিবারিক কারনে রোহিত প্রথম টেস্ট খেলতে পারেনি। বুমরা পারথ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেয়। এবং ভারত সেই টেস্ট ম্যাচ জেতে। দ্বিতীয় টেস্টে রোহিত দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর বুমরাকে চেয়ার ছেড়ে দিতে হয়। টানা তিন টেস্টে অধিনায়ক রোহিতকে আমরা দেখতে পই। শেষ টেস্টে রোহিত নিজে থেকে সরে যাওয়ায় বুমরা আবার অধিনায়কের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়। সেই টেস্টে বুমরার চোট না লাগলে ভারত জিতেও যেতে পারত। একজন বোলার কম নিয়ে খেলতে নেমে ভারত সুবিধা করতে পারে না। সিরিজে ৩২টি উইকেট নিয়ে বুমরা বুঝিয়ে দেয় যে বিদেশের মাঠেও তাঁকে খেলা সহজ নয়। চোট সারিয়ে বুমরা আবার ফিরে এসেছে। ত হলে ওকে অধিনায়ক করতে অসুবিধা কোথায়! কুম্বলে বলছেন বটে, তবে সবে চোট থেকে উঠে এসেছেন। তাই বাড়তি কোন ঝুঁকি নিয়ে চাইছেন না বোর্ড কর্তারা। শোনা যাচ্ছে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কথা মাথায় রেখে বুমরাকে সিরিজে সব টেস্ট খেলানো নাও হতে পারে। তাই অধিনায়ক বেছে নেওয়ার লড়াইয়ে বুমরা বাদ পড়ে যাচ্ছেন। এমন কথাও উঠে আসছে যে বুমরা নাকি নিজেও অধিনায়ক হতে চান না। তা হলে কী হবে। এই কী হবের আলোচনায় ঢুকে জাতীয় দলের আর এক প্রাক্তন ক্রিকেটর হরভজন সিং বলছেন, অধিনায়ক রোহিতের জায়গা নিতে পারে একমাত্র বুমরা। ওকে ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কাউকে অধিনায়ক হিসেবে দেখছি না। আমার ভোট দিতে হলে বুমরাকেই দেব। এক আলোচনায় হরভজনের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটর আকাশ চোপড়া। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বুমরার চোটের কথা মাথায় রাখতে হবে। পুরো সিরিজ বুমরাকে পাওয়া যাবে কিনা ত নিয়ে সন্দেহ আছে। বুমরা ফিট থাকলে ওকে ছাড়া অন্য কাউকে অধিনায়ক করার কথা ভাবতাম না। কিন্তু বুমরা ফিট নয় বলে অন্য নম নিয়ে আসতে হবে। তিনজনের কথ শোনার পর এটাই বলা যেতে পারে যে বুমরার বাইরে অন্য কারোর কথা তাঁর ভাবতে পারছেন না। বুমরা না হলে কে! তার উত্তরও পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচকরা এখনও পর্যন্ত কারোর নাম বলেননি। তবে হাওয়ায় উড়ছে শুভমান গিল। হয়তো তিনি শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হয়ে যাবেন। আইপিএলে দারুন পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলের কোচের চেয়ারে বসে পড়েছেন গৌতম গম্ভীর। আবার আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক অদিনায়ক শুভমানকে নিয়ে এসে টেস্ট অধিনায়ক করা হবে। তিনি এখনও তেমন সাফল্য পাননি। সাদা বলের ফরম্যাটে ডেপুটি হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁকে কোন যুক্তিতে টেস্ট অধিনায়ক করা হবে! এর উত্তর পাওয়া যাবে না। ভারতীয় ক্রিকেটে অনেক কিছুই হয়। বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা মেলে না। আর কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। তাঁরা যা বলবেন, তাই হবে। বুমরা না চাইলে সম্ভবত শুভমানকে অধিনায়ক করে ইংল্যান্ড পাঠানো হবে। এর বাইরে অন্য কারোর মুখ তো দেখা যাচ্ছে না।
ঋষভ পন্থকে নিয়ে ল্যাঙ্গার ও জাহিরের তুমুল সমালোচনা শ্রীকান্ত-কুম্বলের

রেগে লাল ক্রিস শ্রীকান্ত। হতাশ অনিল কুম্বলে। ঋষভ পন্থ কেন এত পরে ব্যাট করতে আসবেন? এই নিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্ট টিম ম্যানেজমেনটের তুমুল সমালোচনা করলেন এই দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার। ঋষভকে রেকর্ড ২৭ কোটি টাকায় নিলাম থেকে নিয়েছে লখনউ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এবারের আইপিএলে ১০ ম্যাচে তাঁর মোট রান ১১০। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ম্যাচে সাত নম্বরে ব্যাট করতে যান পন্থ। তখন ইনিংস শেষ হতে আর মাত্র দু বল বাকি ছিল। এরপরই গর্জে উঠেছেন ১৯৮৩-র বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না কেন মাত্র দু বল খেলার জন্য আসবে ঋষভ। ল্যাঙ্গার কী করার চেষ্টা করছে? টিম ম্যানেজমেন্ট কী করার চেষ্টা করছে? জাহির খান কী করার চেষ্টা করছে? আমি জানি না কয়েকজন বলছে ঋষভ আগে ব্যাট করতে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু ওরা যেতে দেয়নি। ঋষভ তো অধিনায়ক, ওকে কেন অন্য কারও অনুমতি নিতে হবে? দিনের শেষে এটা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। শুধু কি শ্রীকান্ত, একই সুরে গলা মিলিয়েছেন অনিল কুম্বলেও। প্রাক্তন লেগ স্পিনার বলেন, “ঠিক আছে তুমি যদি ভাব ফ্রি ভাবে খেলবে, কম চাপ নেবে, তাই পরে আসতে চাইছ, কিন্ত এটা বড় বেশি দেরি হয়েছে। তবে ঋষভ যেভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে, তাতে মনে হয়েছে, ও হয়ত আগে ব্যাট করতে যেতে চেযেছিল। এটা কি ওর সিদ্ধান্ত ছিল? নাকি কোচ ল্যাঙ্গারের সিদ্ধান্ত ছিল? না সিদ্ধান্তটা মেন্টর জাহিরের? কারণ ওকে কিন্তু খুব হতাশ দেখিয়েছে। সব মিলিয়ে ঋষভকে নিয়ে যেমন উদ্বিগ্ন সকলে, তেমনি টিম ম্যানেজমেন্টকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেও দ্বিধা করছেন না।