মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে রিচা ঘোষকে সোনার ব্যাট উপহার সিএবি-র

শনিবার ইডেনে চাঁদের হাট। বাংলার ক্রিকেটার, বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার, শিল্পপতি সত্যম রায়চৌধুরী থেকে শুরু করে টলিউডের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। সিএবি-র প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির উপস্থিতিতে বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্যা রিচা ঘোষকে সোনার ব্যাট দেওয়া হল সিএবি-র তরফে। উপহার হাতে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তারপর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রিচাকে দেওয়া হল ৩৪ লক্ষ টাকার একটি চেক। বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩৪ রান করেছিলেন রিচা। সিএবি-র তরফে প্রতিশ্রুতি ছিল রান পিছু এক লক্ষ টাকা দেওয়া। রিচাকে সংবর্ধ্বনা দিতে গিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলির কথায় উঠে এল বাংলার প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটারদের কথা। বললেন, “ঝুলন গোস্বামী তো আছেই। মহিলা ক্রিকেটে ওর অবদান নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। কিন্তু আমি বলতে চাই রুণা বসু, গার্গী ব্যানার্জি, লোপামুদ্রা মিত্রদের কথা। যাদের প্রচণ্ড পরিশ্রমে বাংলার মহিলা ক্রিকেটের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। রিচাকে অজস্র শুভেচ্ছা। ও অনেকদুর যাবে।” রিচাও স্বাভাবিকভাবে আপ্লুত, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন, সিএবি-র প্রতি, সৌরভের প্রতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি।
সিএবির তরফ থেকে রিচাকে সোনার ব্যাট ও বল, সংবর্ধনা দেবে ইস্টবেঙ্গলও

সৌরভ, ঝুলনরা যা পারেননি সেটাই করে দেখিয়েছেন বাংবার রিচা ঘোষ। প্রথম বাঙালি হিসাবে জিতেছেন বিশ্বকাপ। তাঁকে নিয়েই এখন উচ্ছ্বসিত গোটা বাংলা। অপেক্ষায় রয়েছে সিএবিও। রিচা ফিরলেই তাঁর জন্য বিরাট সংবর্ধনার ব্যবস্থা করছে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা। সোনার ব্যাট ও বল উঠতে চলেছে বাংলার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ীর হাতে। এখন শুধুই তাঁর বাংলায় ফেরার অপেক্ষায় সকলে। শুধুমাত্র সিএবিই নয়, রিচা ঘোষকে সংবর্ধনার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও। শুধুমাত্র রিচা ঘোষ নয় সেইসঙ্গে দীপ্তি শর্মাকেও সংবর্ধনা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। একসময় বাংলার হয়ে খেলেছেন তিনি। সেই দীপ্তিই বিশ্বকাপের সেরা হয়েছেন। এই দুই তারকাকে সংবর্ধনা জানাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও। সিএবির তরফে রিচা ঘোষকে সংবর্ধনার বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁর হাতে উঠবে সোনার ব্যাট ও বল। তুলে দেবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং ঝুলন গোস্বামী।
সভাপতি সৌরভ, অসন্তোষ থাকলেও সচিব বাবলু কোলেই

ঘোষণা হওয়াটা শুধু এখন সময়ের অপেক্ষা। সিএবির(CAB) সভাপতি পদে ফের বসতে চলেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়(Sourav Ganguly)। কার্যত তালিকা প্রস্তুত। আগামী রবিবার নিয়ম মাফিক জমা পড়বে প্যানেল। সূত্রের খবর সভাপতি সহ অন্যান্য কোনও পদেই বিরোধি শিবির তরফে কোনওরকম মনোনয়ন পড়ছে না। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরই নতুন সভাপতি হিসাবে নাম ঘোষণা হবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের(Sourav Ganguly)। একইসঙ্গে সচিব হিসাবে বসবেন বাবলু কোলে, কোষাধ্যক্ষ হচ্ছেন সঞ্জয় দাস এবং সহ সভাপতি হবেন অনু দত্ত। এই প্যানেলে শুধু বাবলু কোলের(Bablu Koley) নাম নিয়েই খানিকটা অসন্তোষ ছিল। অনেকেই নাকি প্রশ্ন তুলছিলেন তাঁর সচিব পদে মনোনয়ন ঘিরে। তবে সেই অসন্তোষ শেষপর্যন্ত আর টেকেনি। সূত্রের খবর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা ভেবেই নাকি শেষপর্যন্ত এই প্যানেলকে সম্মতি দিচ্ছেন সকলে। অসন্তোষ থাকলেও শেষপর্যন্ত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সচিব পদে বসবেন বাবলু কোলে। স্পোর্টস বিল এলেও তা এখনও পর্যন্ত আইন হিসাবে হয়নি। সেই কারণে এবারও সিএবির নির্বাচন লোঢা কমিটির নির্দেশিকা মেনেই হচ্ছে। তবে স্পোর্টস বিল আইন আকারে আসার পর এই চিত্রটা বদলাতেও পারে। সেক্ষেত্রে নতুনভাবে যদি ফের পরবর্তী মরসুমে নির্বাচন হয়, সেখানে একটা দুটো পদে নতুন নাম দেখা গেলেও যেতে পারে। তবে আপাতত লোঢা নির্দেশিকা মেনেই সবকিছু হচ্ছে। এছাড়াও শোনা যাচ্ছে স্পোর্টস বিল অনুযায়ী পরবর্তীতে যদি নির্বাচন হয়, সেই সময় নাকি কয়েকটি নতুন পদও তৈরি হতে পারে। আপাতত ১৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সিএবি সভাপতি হিসাবে এবার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার পথে তিনি।
টিকিট বণ্টন বিতর্ক এবার ওম্বুডসম্যানের কাছে, ভূদেব-মামলার রায় নিয়ে অস্বস্তিতে সিএবি

নির্বাচনের ঠিক আগে ভূদেব মুখোপাধ্যায় বনাম সিএবি’র মামলাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়ে গেল বাংলার ক্রিকেট সংস্থা সিএবি-তে। ২০২৩ বিশ্বকাপের টিকিট বণ্টনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। চব্বিশ ঘণ্টা আগে সেই মামলার রায় দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। রায়ের লিখিত কপিতে লেখা, সিএবি ওম্বুডসম্যান পুরো বিষয়টা দেখছেন। নিয়মিত শুনানি হচ্ছে। আগামী শুনানির দিন হিসেবে ১ নভেম্বরকে ধার্য করা হয়েছে। তাই বাদীপক্ষ নিজেদের সমস্ত বিষয় ওম্বুডসম্যানের কাছে পেশ করতে পারেন। সিএবি’র প্রাক্তন যুগ্ম-সচিব দেবব্রত দাসের জমা করা নথিপত্রের ভিত্তিতে ওম্বুডসম্যানের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। যেখানে অভিযোগ করা হয়, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় অ্যাপেক্স কাউন্সিল বৈঠকে ছয় হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ছাপানোর কথা বলা হয়। লোধা আইন দেখিয়ে। যে আইন বলে, মাঠের সমগ্র দর্শকাসনের দশ শতাংশের বেশি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ছাপানো যাবে না। কিন্তু অভিযোগ, ছ’হাজার টিকিটের কথা বলে টিকিট ছাপানো হয় ১৭ হাজার। অথচ সিএবি’র আজীবন সদস্যরা তাঁদের প্রাপ্য কমপ্লিমেন্টারি টিকিট পাননি। যা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে দেন সিএবি’র আজীবন সদস্য ভূদেব মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। আদালত সেই আবেদনকে ওম্বুডসম্যানের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, রিট পিটিশন ‘ডিসপোজড অফ’ করে দেওয়া হল। শাসকগোষ্ঠীর বক্তব্য, আদালতে ধাক্কা খেলেন দেবব্রত। আবার সম্মানহানি হল ‘অপসারিত’ সিএবি যুগ্ম সচিবের। কারণ, তাঁর মামলাটাই খারিজ হয়ে গেল। বাদীপক্ষের কেউ যা শুনে আবার পালটা বললেন, লিখিত রায়ের কপিতে কোথায় লেখা রয়েছে দেবব্রতর নাম? মামলাটা তো ভূদেব মুখোপাধ্যায় বনাম সিএবি! দ্বিতীয়ত, কোথায় লেখা রয়েছে যে বাদীপক্ষরা মামলা হেরে গিয়েছে? লেখা রয়েছে, রিট পিটিশন ডিসপোজড অফ করা হল। যার অর্থ, মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেল। যাকে খারিজ হওয়া বলে না। বাদীপক্ষের কেউ এ-ও বলছেন এতে সুবিধে হল। কারণ, মহামান্য আদালত মামলাকারীদের সমস্ত বিষয় ওম্বুডসম্যানের কাছে পেশ করতে বলে দিয়েছেন। তাই নিজেদের ‘প্রাক্তন’ দেখিয়ে পরে আর কেউ ‘দায়মুক্ত’ হতে পারবেন না!
তিন কোচকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত সিএবি-র, প্রশ্ন উঠছে সৌজন্যবোধের অভাব নিয়ে!

প্রণব রায়, শিবসাগর সিংহ ও চরণজিৎ সিংহ। বাংলার তিন প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং বর্তমান কোচ। এই তিন কোচকে আগাম কোনও বার্তা না দিয়েই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএবি-র বর্তমান পরিচালন সমিতি। নজিরবিহীনভাবে এই কোচেরা সিএবি-র এই সিদ্ধান্তের অনুমান করছেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে আচমকা অপসারিত হওয়ার পর! তাঁদের পরিবর্ত কে হবেন, সেই নামও কার্যত চূড়ান্ত। যে খবর বেশ কয়েকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে ময়দানে। তিন কোচই মুখে কিছু বলেননি এখনও পর্যন্ত। কিন্তু যেভাবে বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা তিন অভিজ্ঞ কোচকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে তারা যে অপমানিত হয়েছেন সেই নিয়ে সন্দেহ নেই। জানা গিয়েছে ঘনিষ্ঠমহলে ক্ষোভ, হতাশাও প্রকাশ করেছেন। প্রণব রায় ছিলেন গত মরশুমে ছিলেন বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ দলের হেড কোচ। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর সঙ্গে সিএবি-র চুক্তি রয়েছে ৩১ জুলাই অবধি। প্রাক্তন বাঁহাতি স্পিনার শিবসাগর ছিলেন বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ মহিলা দলের দায়িত্বে। আর অনূর্ধ্ব ১৯ মহিলা দলের কোচ ছিলেন চরণজিৎ। প্রণব রায়কে যে বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ পুরুষ দলের দায়িত্বে রাখা হবে না, সেই ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। সেই জায়গায় দেখা যেতে পারে ঋদ্ধিমান সাহাকে। গত মরশুমে অবসর নেওয়ার পর ঋদ্ধিমান পুরোদস্তুর কোচিংয়ে আসতে চলেছেন। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে তিনি সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের মেন্টর ছিলেন। প্রণবের পাশাপাশি সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিবসাগর ও চরণজিৎকেও। তাঁদের পরিবর্তে মহিলাদের অনূর্ধ্ব ১৯ ও ২৩ দলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে রুমেলি ধরকে। বাংলার ক্রিকেট মহলের প্রশ্ন, এই অসৌজন্য কি প্রাপ্য ছিল তিন কোচের? পদ্ধতিতে স্বছ্বতা আনা যেত নে? তিনজনের সঙ্গে সিএবি-র তরফ থেকে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। ব্যক্তিগত স্তরেও কেউ কথাবার্তা বলেননি। বলা হয়নি যে, ধন্যবাদ। আপনাদের আর রাখা হচ্ছে না। তিন কোচই অপসারণের খবর জানতে পেরেছেন কোচ ও পদাধিকারীদের নিয়ে তৈরি সিএবি-র হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সোমবার তাঁদের আচমকা সরিয়ে দেওয়ার পর। শোনা গেল, সিএবি-র চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার চিন্ময় নায়েক তাঁদের গ্রুপ থেকে ‘রিমুভ’ করে দিয়েছেন। তিনজনের কাছে অপসারণের কোনও খবর ছিল না। অন্যদের ফোন পেয়ে তাঁরা গ্রুপ খুলে দেখেন। এবং আবিষ্কার করেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গল প্রো টি-২০ টুর্নামেন্টে গতবার চ্যাম্পিয়ন লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্সের মহিলা দলের কোচ ছিলেন চরণজিৎ। শিবসাগর ছিলেন হারবার ডায়মণ্ডস মহিলা দলের কোচ। যে দল এবার সেমিফাইনালে খেলেছে। বাংলার মহিলাদের অনূর্ধ্ব ২৩ দলের দায়িত্বে শিবসাগর ছিলেন ২ বছর। তার মধ্যে একবার বোর্ডের ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে খেলেছে বাংলা। টি-২০ টুর্নামেন্টে একবার কোয়ার্টার ও একবার প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে বাংলা। সিএবি-র একাংশ বলছে, পারফরম্যান্স চোখধাঁধানো না হলেও হেলাফেলা করার মতোও নয়। তিন কোচকে যে সরিয়ে দেওয়া হতে চলেছে, সোমবার এপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকে তা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। সিএবি থেকে যদিও বলা হচ্ছে, তিন কোচেরই চুক্তি ফুরিয়েছিল বেঙ্গল প্রো টি-২০ টুর্নামেন্টের আগেই। সেই চুক্তি আর নবীকরণ না করা হলে তাতে নিয়মে বাধা নেই। তবে বাংলার ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কর্তা থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেটার – একটা বিষয়ে সকলেই কার্যত একমত। কোচত্রয়ীর বিদায় আরও একটু সম্মানের হতে পারত।
নির্বাসনের শাস্তি পেতে চলেছেন লিগ ফাইনালের অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা, শো কজ দুই ক্লাবকে

লিগ ফাইনালে অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের কঠোর শাস্তি দিতে শাস্তি দিতে চলেছেন বাংলার ক্রিকেট কর্তারা। অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা হলেন ইস্টেবঙ্গলের সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল, ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায়, এবং আকাশ ঘটক। ভবানীপুরের শাকির হাবিব গান্ধী। বিতর্কিত কলকাতা লিগ ফাইনালের ঝামেলায় দোষী সাব্যস্ত এই চার ক্রিকেটার। তাদের কড়া শাস্তি হচ্ছে। সোমবার অ্যাপেক্স কমিটির মিটিংয়ে সবাইকে ডকা হয়েছিল। ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছিলেন দুদলের ক্রিকেট কর্তরা। সেখানে তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়। কোন পরিস্থিতিতে তাঁরা এই ধরনের আচরণ করেছেন, তা বোঝার চেষ্টা করে বাংলার ক্রিকেট কর্তারা। প্রেসিডন্ট স্নেহাশিষ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শাস্তির বিযয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে তা দুদিন পর জানানো হবে। সূত্রের খবর, ক্রিকেটাররা লেভেল থ্রি পর্যায়ের অপরাধ করেছেন। তাঁদের চার থেকে ছয় ম্যাচের নির্বাসনের শাস্তি হতে পারে। শাস্তিপ্রাপ্ত ক্রিকেটররা সামনের মরশুমে লিগের সেই সব ম্যাচ খেলতে পারবেন না। তবে এবার বেঙ্গল প্রো লিগে তাঁদের খেলায় কোনো বাধা থাকবে না। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দুই ক্লাবকে কারন দর্সানোর চিঠি দেওয়া হচ্ছে। ক্লাব দুটির জবাবে সিএবি সন্তুষ্ট হতে না পারলে তাদের আর্থিক জরিমানা করা হবে। আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট হাতে আসার পর ক্রিকেটারদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। সিএবি প্রথম ডিভিসন লিগ ফাইনাল ঘটনাবহুল। যা ক্রিকেটকে কলুষিত করেছে। ইস্টবেঙ্গল ও ভবানীপুর দোষারেপের খেলায় মাতলেও সিএবি প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষএাভ প্রকাশ করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, নিজের ক্রিকেট কেরিয়রে তো নয়ই, এমনকি বাংলার ক্রিকেট কর্তার দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি এই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি কখনও হননি। তাই কড়া শাস্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হলেও লিগ ফাইনাল শেষ হল না। লিগের শেষদিনে দুই দলের কর্তাদের নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি আরও দৃষ্টিকটু হয়ে দাঁড়ায়। তাই সিএবি কর্তারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এতো গেল কর্তাদের কথা। তাঁরা ভুল করলে শাস্তি পাবেন। কিন্তু সিএবি কর্তার কি নিজেদের ঠিক পথে চালিত করেছেন। তাঁদে নিয়মের জাঁতাকলে নিজেরই জড়িয়ে পড়েছেন। তাই মাঠ গরম হয়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি। প্রথমদিন পাঁচ ঘন্টা খেলা বন্ধ থাকেএ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এসে মিটমাট করে দিতে খেলাশুরু হয়। আসলে সৌরভের মতো চরিত্রের মানুষ খেলা চলাকালীন মাঠে ছিলেন না বলে এমনটি হয়েছে। সৌরভ থাকলে এটা কিছুতেই হত না। কর্তাদের ভুল কে ধরিয়ে দেবেন। সেখানে তো আম্পায়ার বা ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে কিছু থাকবে না। তা হলে..!
ঘরোয়া লিগ ক্রিকেটের ফাইনালে গোলমাল, সৌরভের হস্তক্ষেপে পাঁচ ঘন্টা পর খেলা শুরু

বাংলার ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে কজনের মাথাব্যথা আছে! কতজন রনজিতে খেলা বাংলার ১১ জন ক্রিকেটারের নাম বলতে পারবেন! কেউ পারবেন না। আসলে ফুটবলের মতো বাংলার ঘরোয়া ক্রিকেট জনপ্রিয় না হওয়ায় এমনটা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার দুপুরে সেই ক্রিকেট নিয়েই গোল বাঁধল। খেলা বন্ধ হল। শুরু করতে এগিয়ে আসতে হল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। পাঁচ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হল। এমন ঘটনা বাংলার ক্রিকেটে আগে হয়েছে কিনা অনেকেই মনে করতে পারলেন না। এটাই হয়তো ময়দানে ক্রিকেটকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এল। ঘটনাটি কি হয়েছে। সেদিকে তাকানো যেতে পারে। লিগ ফাইনাসল শুরু হয়েছে রবিবার। দিনরাতের ফাইনাল গোলাপি বলে খেলা হয়। দুপুর একটায় খেলা শুরু। প্রথমদিনের শেষে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভবানীপুর করে ৩ উইকেটে ২৫৭ রান। সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন শাকির হাবিব গাধীঁ। তিনি ১০২ রান অপরাজিত ছিলেন। সোমবার দুপুরে তাঁকে ঘিরেই গোল। প্রথম ওভারে দ্বিতীয় বলে কনিষ্ক শেঠের বোলিংয়ে গাধীঁ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। আম্পায়ার অভিজিত ভট্রাচার্য ( যিনি এবার আইপিএল ম্যাচ করেছেন) আউটের সিদ্ধান্ত দেন। তাঁর সিদ্ধান্ত জানার পর গাধীঁ প্যাভিলিয়েনের দিকে হাঁটা শুরু করেন। পরের ব্যাটসম্যান বিবেক সিংও মাঠে ঢুকে পড়েন। বাউন্ডারি লাইনের বাইরে আসার আগে গাধীঁকে আটকে দেন প্যাভিলিয়েনের বাইরে বসে থাকা ভবানীপুরের ক্রিকেটার ও কর্তারা। তাঁদের বক্তব্য গাধীঁ আউট নন। রিপ্লেতে দেখা গিয়েছে ক্যাচ ঠিকভাবে ধরা হয়নি। তাঁদের অভিযোগে তৃতীয় আম্পায়ার টিভিতে ঘটনাটি দেখেন। তিনি দেখে বোঝেন ক্যাচটি ঠিকভাবে ধরা হয়নি। এনিয়ে গোল বাঁধে দুই দলের মধ্যে। ভবানীপুরে জানায় গাধিঁকে আবার ব্যাট করতে না দিলে তার খেলবেন না। পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলও এক কথা জানায়। এই টাপান উতোরে খেলা বন্ধ হয়ে য়ায়। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় মাঠে এসে দুই দলের কর্তাদের সঙ্গে বলেন। কিন্তু সেই কথায় কাজ হয় না। ফলে আম্পায়াররা খেলা বন্ধ করে মাঠের বাইরে চলে আসেন। এটাই লিগ ফাইনালকে আলোচনায় নিয়ে আসে। খবর যায় সৌরভের কাছে। সোমবার বিকেলে সিএবিতে অ্যাপেক্স কমিটির মিটিং ছিল। তার জন্য সৌরভ বিকেলের দিকে ইডেনে আসেন। এসে পুরো ঘটনা শোনেন। দুই শিবির তাঁর সঙ্গে কথা বলে। তাঁদের কথা শুনে সৌরভ যান আম্পায়ার্স রুমে। সেখানে আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানিয়ে দেন গাধীঁ আবার ব্যাট করবেন। কারন টিভি রিপ্লেতে দেখা গিয়েছে গাধীঁর ক্যাচ ঠিকভাবে ধরা হয়নি। এতেই সব মিটে যায়। সন্ধ্যে ৬টা ১০ মিনিটে আবার খেলা শুরু হয়। খেলা বন্ধ হয়েছিল দুপুরে ১টা ৫ মিনিটে। এর অর্থ পাঁচ ঘন্টা খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হল। এখন প্রশ্ন, সৌরভ শহরের বাইরে থাকলে কি হত! খেলা কি শুরু করা যেত! মাঠের কেউ কেউ বলছেন প্রচন্ড গরমের জন্য নাকি ক্রিকেটাররা খেলতে চাইছিলেন না। তাঁরাও মনে করেছিলেন খেলা বন্ধ থাকলে ভাল হয়। ঘটনা বাস্তব কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে এটাও ঘটনা যে দুপুরে প্রচন্ড গরম ছিল। এই তাপদাহে খেলা সম্ভব নয়। দিনরাতের খেলা। তাহলে বিকেল তিনটেয় শুরু করলে অসুবিধা কোথায়! ফ্লাড লাইটে খেলা হবে। সেটা তো করাই যায়। এটা ভেবে দেখতে পারেন বাংলার ক্রিকেটার কর্তারা।
পিচ বিতর্কের জের, হর্ষ ভোগলে ও সাইমন ডুলকে ইডেনে ব্যান করার দাবি জানাল সিএবি

আইপিএলের পিচ বিতর্কে এবার কড়া অবস্থান নিল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। হর্ষ ভোগলে ও সাইমন ডুল – এই দুই ধারাভাষ্যকারকে ইডেনের ম্যাচে যাতে ব্যান করা হয়, তার জন্য বিসিসিআইয়ের কাছে দাবি জানাল সিএবি। এই দুজন মন্তব্য করেছিলেন, ইডেনের পিচে যদি হোম অ্যাডভান্টেজ না পাওয়া যায়, তাহলে কেকেআরের উচিত ইডেন ছেড়ে অন্য কোথাও নিজেদের হোম বেস তৈরি করা। এই মন্তব্যেই বেজায় চটেছে সিএবি। সে কারণেই বোর্ডের কাছে হর্ষ ও ডুলকে ব্যান করার দাবি। যদিও বিসিসিআই এখনও কোনও কিছু জানায়নি তবে সূত্রের খবর সোমবার ইডেনে কেকেআরের ম্যাচে ধারাভাষ্য দেয়ার জন্য হয়ত থাকবেন না হর্ষ ভোগলে ও সাইমন ডুল। ঠিক কী বলেছিলেন ডুল? তিনি মন্তব্য করে ছিলেন, হোম টিমের চাহিদার কথা কিউরেটর ভাবছেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টেডিয়ামের ভাড়া দেয়। যা যা খরচ সবই মেটায়, তবু যদি হোম টিমের চাহিদার কথা না ভাবা হয়, তাহলে তাদের এই স্টেডিয়াম ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া উচিত। হর্ষ ভোগলেও ডুলের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলেছিলেন, যদি কেউ হোম গ্রাউন্ডে খেলে তাহলে তাদের সুবিধামত পিচ পাওয়া উচিত। সিএবি অবশ্য কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে, কারণ তারা মনে করে বিসিসিআইয়ের নির্দেশই পালন করেছেন কিউরেটর। পিচ কেমন হবে, সে ব্যাপারে কোনও ফ্রঞ্চাইজিই হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই বিতর্কের জেরেই হয়ত ইডেনে সাইমন ডুল ও হর্ষ ভোগলেকে ধারাভাষ্য দিতে দেখা যাবে না, যদিও এখনও তেমন কোনও সরকারি নির্দেশ এসে পৌঁছোয়নি।