ভারতীয় দলের মেন্টর হবেন ধোনি? প্রস্তাবের ভাবনা বোর্ডের

নতুন দায়িত্ব পেতে পারেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। আগামী বছর ভারতের মাটিতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই প্রতিযোগিতায় ধোনিকে বড় দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাঁকে মেন্টর হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে কি গম্ভীরের উপর ভরসা হারাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড? ‘ক্রিকব্লগার’ এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ধোনিকে মেন্টর হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এক আধিকারিক বলেন, “ধোনিকে আরও এক বার মেন্টর হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বোর্ড মনে করছে, ওর মস্তিষ্ক, পরিকল্পনা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ভারতীয় দলের সুবিধা করে দেবে। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ধোনি দলের সম্পদ হতে পারে।” এই খবর সামনে আসার পরেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি একা গম্ভীরের উপর ভরসা রাখছে না বোর্ড। ছোট ফরম্যাটে গম্ভীর সফল। চলতি বছরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছেন তিনি। তা হলে কেন ধোনিকে মেন্টরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে? হতে পারে, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি না থাকায় ক্রিকেটারদের মাথার উপর ধোনির মতো কাউকে রাখতে চাইছে বোর্ড। কোনও সমস্যা হলে যাতে ক্রিকেটারেরা ধোনির কাছে যেতে পারেন, পরামর্শ নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে চাইছে বিসিসিআই। ধোনি এর আগেও ভারতীয় দলের মেন্টরের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তাঁকে মেন্টর করা হয়েছিল। সেই সময় অধিনায়ক ছিলেন বিরাট কোহলি। রবি শাস্ত্রী ছিলেন দলের প্রধান কোচ। কিন্তু সে বার সাফল্য পাননি ধোনি। বিশ্বকাপের নক আউটে উঠতে পারেনি ভারত। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ১০ উইকেটে হারতে হয়েছিল। বিশ্বকাপের পরেই দায়িত্ব ছাড়েন ধোনি। এ বার আবার ধোনিকে প্রস্তাব দিলেও তিনি তা গ্রহণ করবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, অবশ্যই গম্ভীর। দু’জন একই সময়ে ভারতীয় দলে খেলেছেন। ধোনিকে ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন গম্ভীর। কিন্তু তাঁদের পরিকল্পনা মেলে না। আগেও অনেক বার ধোনির সমালোচনা শোনা গিয়েছে গম্ভীরের মুখে। এই অবস্থায় দু’জনে এক দলে থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সে কথা ভেবে ধোনি বোর্ডের প্রস্তাব না-ও মানতে পারেন।
তোমাকে বলিউডের হিরো বানাতে চাই, ধোনির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে শিখর

আত্মকথা নাকি স্মৃতি কথা! কোনটা সঠিক! যেটাই হোক, দ্য ওয়ানঃ ক্রিকেট মাই লাইফ অ্যান্ড মোর, বইটিতে অনেক অজানা কথা তুলে এনেছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান। অকপট এবং আন্তরিকতার সঙ্গে লেখা বইয়ে ক্রিকেট মাঠের ভিতরে ও বাইরের অনেক অজানা কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। অবিস্মরণীয় স্মৃতিকথায় শিখর নিজের জীবন, ক্রিকেট, সম্পর্ক, এমন নানা ঘটনা সামনে এনেছেন। কেউ কি জানতেন শিখর প্রথমে একজন উইকেটকিপার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। দিল্লির প্রতিযোগিতমূলক ক্রিকেট পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিখর পরে একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে তৈরি করেন। তিনি ভারতের হয়ে ৩৪টি টেস্টে ২৩১৫ রান করেছেন। ১৬৭টি ওয়ান ডে ম্যাচে রান করেছেন ৬৭৯৩। টি২০ ক্রিকেটে ৬৮টি ম্যাচে রান ১৭৫৯। তারপর যখন বুঝে গিয়েছেন এরপর এগিয়ে গেলে ভুল হবে। তখন নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। সেই তিনি প্রথম ধোনিকে দেখার পর কি বলেছিলেন! সেটা এতদিনে কেউ জানতেন না। শিখর বইয়ে সেকথা টেনে এনেছেন। তাঁর লেখা বইয়ের কথা শোনা যাক- যখন ভারতীয় দলে ঢোকা চেষ্টা করছিলাম, তখন মিডিয়ার এমন দাপট ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়া তখন কোথায়! ফলে ক্রিকেটারদের উপর নজরদারি বেশি ছিল না। তখন বলতে গেলে টিভি, সংবাদপত্র, কিছু মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের লোকেদের ছাড়া কাউকে দেখা যেত না। মোটামুটিভাবে বলতে গেলে আজকের মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড় সেদিন ছিল না। আজকের সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন ক্রিকেটারকে রাতারাতি হিরো থেকে জিরোতে নামিয়ে আনে। সেই সময় এতটা কঠিন ছিল না মিডিয়া। তাই গল্প তৈরি করতে বেশি সময় লাগত। ভারতীয় ড্রেসিংরুমে তাঁর প্রবেশর কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখছেন, ২০১০ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া ভারতে আসে। তবে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ ছিল না। একটি সংক্ষিপ্ত সফর বলা যেতে পারে। তখনই আমি ভারতীয় সিনিয়র দলে খেলার জন্য ডাক পাই। মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের ঘটনা মজার। আমি তাকে বলেছিলাম, তোমাকে আমি বলিউডের হিরো বানতে চাই। লম্বা চুল, হাল্কা হাসির কারনে তাকে একজন চলচ্চিত্র নায়কের মতো দেখাচ্ছিল। আমরা অনুপ্রেরণা নিয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ অস্পষ্টভাবে বলে উঠি আমি ভারতের হয়ে খেলতে চাই। আর তোমাকে বলিউডের নায়ক বানাতে চাই। সে মাথা ঘুরিয়ে আমাকে একবার দেখে হেসে ফেলল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ান ডে সিরিজে সুযোগ পেলেন শিখর। কিন্তু কপাল মন্দ। তিনটির মধ্যে দুটি বৃষ্টির জন্য ভেস্তে গেল। তাই কোচি মারগাঁওয়ে খেলা হল না। শিখর লিখছেন, কোচি ম্যাচের আগে আমি মানসিক দিক থেকে প্রচন্ড চাপের মধ্যে পড়ে যাই। সারা রাত ঘুম হল না। সকালে উঠে দেখি প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। আমার আশায় কেউ যেন জল ঢেলে দিল। সেদিন আর কিছু করার ছিল না। তারপর বিশাখাপত্তনমে দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচের আগের রাতে নিজেকে চাঙ্গা করতে একটা ঘুমের ওষুধ খাই। মনে হয়েছিল কোচিতে রাতে ঘুম হয়নি। এখানে ভাল করে ঘুমোতের পারলে অবেক চাঙ্গা হয়ে মাঠে নামতে পারব। ভারত টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠাল। ওরা ২৮৯ রান করল। জবাব দিতে মুরলি বিজয়কে সঙ্গে নিয়ে আমি মাঠে নামলাম। কিন্তু প্রথম ওভারে ম্যাকের দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে গেলাম। মুখে হাসি নিয়ে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসি। কিন্তু মনের ভিতর কি হচ্ছিল, সেটা শুধু আমিই জানি। এতক্ষণ ভেবে এসেছিলাম, কভার দিয়ে দারুন একটা শট খেললাম। দলের হয়ে বিশাল রান করছি, কোথায় কি। বাস্তব বড় কঠিন। সেদিন বাস্তবকে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে খুব কঠিন ছিল।
পকেটমারের চেয়েও ধোনি ভয়ংকর বললেন শাস্ত্রী

ধোনিকে ইঙ্গিত করে বোঝাতে চাইছেন রবি শাস্ত্রী। (ফাইল চিত্র)
আইসিসির হল অফ ফেম-এ জায়গা পেলেন ধোনি

ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র ধোনির মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত হল। এবার তিনি হল অফ ফেম-এ জায়গা পেলেন। ৪৪ বছরে পা দেওয়ার এক মাস আগে (৭ জুলাই) তাঁকে এই সন্মান দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি। সোমবার বেশি রাতে এই খবর জানা গিয়েছে। ধোনি হলেন ভারতের ১১ নম্বর ক্রিকেটার যিনি এই সন্মান পেলেন। পাঁচ বছর আগে ১৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেক অবসরের কথা ঘোষণ করেছিলেন ধোনি। তবে তার একবছর আগে তিনি জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছিলেন। ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারার পর ধোনি জাতীয় দলের হয়ে কোনও ম্যাচ খেলেননি। তার ঠিক একবছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নেন ধোনি। জাতীয় দলে ২০০৪-এ প্রথম ধোনিকে খেলতে দেখা গিয়েছিল। শুরুর পথ চলা মোটেও সহজ ছিল না। গোটা চারেক ম্যাচে তিনি কিছুই করতে পারেননি। একসময় ভেবেছিলেন জাতীয় দল থেকে হয়তো তিনি বাদ পড়বেন। কিন্তু বিশাখাপত্তনমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর ১৪৮ রানের ইনিংস জাতীয় দলে জায়গা সিমেন্ট করে দেয়। তারপর থেকে সাফল্যের চাকা গড়গড়িয়ে ছুটেছে। ২০০৭ সালে প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হয়ে ধোনি যান দক্ষিন আফ্রিকায়। শুরুতেই বাজিমাত। ভারতী চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফেরে। টেস্ট ক্রিকেটে রাহুল দ্রাবিড়ের জমানা তখন চলছে। তারপর অনিল কুম্বলে আসেন। অধিনায়কের চেয়ার থেকে এই দুজন সরে যাওয়ার পর ধোনির কাঁধে দায়িত্ব পড়ে। তিনি সাফল্যের সঙ্গে দলকে টেনে নিয়ে যান। তাঁর জমানায় টেস্ট ক্রিকেটে ভারত একনম্বর জায়গা পায়। ধোনির সব থেকে বড় সাফল্য ২০১১ ঘরের মাঠে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে। প্রথম ঘরের মাঠে কোনও দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভারত বিজয়ী হয়। এখানেই শেষ নয়। ২০১৫ বিশ্বকাপে ভারত হারে সেমিফাইনালে। ২০১৬ সালে ভারত এশিয়া কাপ জেতে। ওয়ান ডে ক্রিকেটে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ওয়ান ডে ক্রিকেটে প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ান হন ধোনি। তিন ফরম্যাটে এমন সাফল্য পাওয়ার পর আইসিসির হল অফ ফেম-এ জায়গা পাওয়া মোটেও কঠিন হয়নি ধোনি। এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। তবে শেষ ভাল যার সব ভাল তার। এটাই ধোনিকে আরও উঁচুতে টেনে নিয়ে গেল। ধোনির আগে যে ১০ ক্রিকেটার আইসিসির হল অফ ফেম-এ জায়গা পেয়েছেন তাঁরা হলেন, সুনীল গাভাসকর, ভিনু মানকড়, বিষেন সিং বেদি, কপিল দেব, শচীন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলে, বীরেন্দ্র শেহবাগ, মহেন্দ্র সিং ধোনি, ডায়না এডুলজি, নীতু ডেভিড।
মঙ্গলবার ধোনিকে ছোঁয়ার হাতছানি শ্রেয়সের সামনে

সোজাসুজি কথাটি বলা যাবে না। বললে ভুল হবে । তবু মঙ্গলবার রাতে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে পারেন পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তবে মুম্বইকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট হাতে পাওয়ার পর এক অনন্য নজির গড়ে ফেলেছেন শ্রেয়স। তিনিই একমাত্র অধিনায়ক, যিনি তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে তুলেছেন। ২০২০ দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। দিল্লি ফাইনাল খেলেছিল। গতবছর কেকেআরকে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। আর এবার পাঞ্জাবকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে তুললেন। এখনও পর্যন্ত আইপিএলে কোনও অধিনায়কের এমন রেকর্ড নেই। আর পাঞ্জাবকে ট্রফি দিতে পারলে ধোনির পাশে নাম লিখিয়ে তিনি আরও একটা রেকর্ড গড়বেন। এখনও পর্যন্ত আইপিএল জেতেনি পাঞ্জাব। ২০১৪ সালে শেষবার ফাইনালে উঠেছিল। তারপর ১১ বছর পার। আবার ফাইনালে পাঞ্জাব। এবং সেটা সম্ভব হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারের হাত ধরে। কদিন আগে প্লে অফে বিশ্রিভাবে তারা হেরেছে আরসিবির কাছে। ট্রফি জিততে হলে সেই বিরাটদের হারাতে হবে। পারবেন শ্রেয়সরা! শুরুতে বলেছি, ফাইনাল জিতলে ধোনিকে ছুঁতে পারবেন শ্রেয়স। কীভাবে! সেটা বরং একবার দেখে নেওয়া যেতে পারে। ২০১০ ও ২০১১ আইপিএল জিতেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। অধিনায়ক ধোনির হাতে ট্রফি দেখা গিয়েছিল। তারপর কোনও অধিনায়ক টানা দুবার ট্রফি জিততে পারেননি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সিএসকেও তাই। কিন্তু কোনও অধিনায়ক ধোনির মতো নয়। এবার জিতলে শ্রেয়স জায়গ পাবেন ধোনির পাশে বসার। তবে এখানে একটু গরমিল আাছে। ২০২৪ আইপিএলে কেকেআরকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন শ্রেয়স। এবার তিনি পাঞ্জাবের অধিনায়ক। দল বদলেছে। কিন্তু নেতা একজনই। এই জায়গায় ধোনিকে ছুঁতে পারবেন শ্রেয়স! মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে সেরার পুরস্কার হতে নিয়ে পাঞ্জাব অধিনায়ক বলছিলেন, ফাইনাল নিয়ে এখনই ভাবছি না। ফাইনাল নিয়ে ভাবার সময় আছে। সোমবার পুরোটা আমরা হাতে পাব। তারপর মঙ্গলবার প্রায় পুরো দিন। তাই ফাইনল নিয়ে ভাবনার সময় আছে। আগে এই জয় দলের সতীর্থরা আনন্দ করে কাটাক। রাতটা এভাবে কাটার পর সবাইকে নিয়ে আমরা আলোচনায় বসব। ব্যস এটুকু। আর বেশি কথা বললেন না শ্রেয়স। মাঝরাতে কথা বলার অবস্থায় তিনি ছিলেন না। তখন ঘড়ির কাঁটা রাত দুটোর ঘর পার করে গিয়েছে। রাতটা ভাল করে ঘুমিয়ে ফাইনাল নিয়ে ভাবার সময় তিনি পাবেন। তাঁর ৪১ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংস (৫টি বাউন্ডারি ও ৮টি ওভার বাউন্ডারি) দলের হাতে ফাইনালের টিকিট তুলে দেওয়ার পর ডাগ আউটে উল্লাসের ছবি কি তিনি হারিয়ে ফেলতে পেরেছিলেন। দলকে জিতিয়ে মাঠের বাইরে আসতে না আসতেই কোচ রিকি পন্টিং জড়িয়ে ধরলেন। ততক্ষণে গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে এসেছেন মালকিন প্রীতি জিন্টা। তিনিও জড়িয়ে ধরলেন শ্রেয়সকে। এমন ছবিই স্বাভাবিক। কারন ১১ বছর পর পাঞ্জাব যে আইপিএল ফাইনালে। এমনই তো হওয়ার কথা। মু্ম্বইয়ের বিরুদ্ধে ফাইনল জেতার মন্ত্র কি! নানা জনে নানা কথা বলছেন। প্রাক্তন ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেহবাগ বলছিলেন, ১১ থেকে ১৫ ওভার, এই পাঁচ ওভারে ম্যাচ ঘুরিয়েছে পাঞ্জাব। শ্রেয়স ও নেহাল জুটি ৪৯ রান যোগ করে। ১০ ওভারে পাঞ্জাবের রান ছিল ৩ উইকেটে ৯৮। ১৫ ওভারে গিয়ে দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৪৭। তখন জেতার জন্য দরকার পাঁচ ওভারে ৫৭ রান। ফর্মে থাকা শ্রেয়স ও নেহাল উইকেটে। এই জায়গা থেকে ম্যাচ বের করা কঠিন নয়। মুম্বই ১১ থেকে ১৫ ওভারে করেছিল ৪৪ রান। কিন্তু তাদের দুটি উইকেট পড়ে গিয়েছিল। ফারাক এখানেই। জয়ের মন্ত্র এই জায়গা থেকে পেয়ে গিয়েছে পাঞ্জাব। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার টম মুডি ব্যপারটা মেনে নিলেও তিনি বলেন ১৩ রানের মাথায় নেহালের সহজ ক্যাচ ফাইনলেগে ফেলে দেয় বোল্ট। এমন ক্যাচ ১০০ বারের মধ্যে ৯৯ বার ক্রিকেটার ধরবে। জীবন পেয়ে নেহাল তারপর ৩৫ ( ম্যাচে করে ৪৮ রান) রান করে। এখানেই ম্যাচ ঘুরে যায়। আমি বলছি না, নেহাল আউট হলেও পাঞ্জাব ম্যাচ বের করতে পারত না। হয়তো পারত। কিন্তু সেটা সহজ হত না। একজন নতুন ব্যাটসম্যান এসে কঠিন সময়ে ম্যাচকে টেনে নিয়ে যেতে পারত না। এমন সব ঘটনা ম্যাচে হয়েই থাকে। ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারে ৫৭ রান মানে ওভার প্রতি প্রায় ১২ রান। সেটাও সহজ নয়। বোলাররা লাইন ধরতে পারলে কাজটা কঠিন ছিল। শেষ দুওভারে দকার ছিল ২৩ রান। অশ্বিনী এসে সব শেষ করে দিলেন। তাঁর ওভারে শ্রেয়স নিলেন ২৬ রান। এর মধ্যে চারটি ওভার বাউন্ডারি। আর কি! মুম্বই সাবরমতীর জলে ভেসে গেল। এবং সব থেকে অদ্ভুত ব্যাপার এটাই যে মুম্বই হারল একজন মুম্বইকরের কাছে। মালকিন নীতা আম্বানি কি আফসোস করছিলেন। ইস, অকশন থেকে শ্রেয়সকে তুলে নিতে পারলে এমন দিন দেখতে হত না।
তরুনদের কাছে ধোনির বার্তা, প্রত্যাশার চাপে পড়লে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলো

বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রে, বেভিস। এখানেই শেষ নয়। তালিকায় আরও অনেকে আছেন। যাঁরা এবারের আইপিএলে নজর কেড়েছেন। সেই সব তরুন ক্রিকেটারদের কাছে মহেন্দ্র সিং ধোনির বার্তা পৌঁছে গেল। মঙ্গলবার রাতে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে ৬ উইকেটে হারার পর পুরস্কার মঞ্চে এসে অনেক কথাই বললেন ধোনি। যা শুনে আইপিএলে খেলা তরুন ক্রিকেটারদের কাজে দেবে। এমনিতে সিএসকের খেলা থাকলে একটা ছবি প্রায়শই দেখা যায়। ধোনিকে খুঁজে নিয়ে ক্রিকেটাররা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেখানে শুধু তরুন ক্রিকেটার নয়, সিনিয়ররাও ভিড় করেন। কাউকেই ফিরিয়ে দেন না ধোনি। সবাইকে সময় দেন। তাঁদের সমস্যার সমাধান করে দেন। রাজস্থানের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে একই ছবি। বৈভব সূর্যবংশী এগিয়ে গেলেন ধোনির কাছে। হাত মেলালেন না। পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করলেন। কিংবদন্তী ধোনি দুহাত বাড়িয়ে তাঁকে তুলে নিলেন। কথাও বললেন। বৈভবের সঙ্গে ধোনির কি কথা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে পুরস্কার মঞ্চে এসে তাঁদের নিয়ে অনেক কথাই বললেন ধোনি। প্রত্যাশার চাপে পড়ে গেলে কি করতে হবে। কাদের সাহায্য নিতে হবে। এমন অনেক কথাই তিনি বললেন। তো কি বললেন ধোনি। সেটা বরং শুনে নেওয়া যেতে পারে। এবারের আইপিএলে তরুনরা নজর কেড়েছে। ওরা গোটা টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এগোতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু সব সময় ২০০ স্ট্রাইক রেট রেখে এগোতে গিয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায় না। ওরা প্রত্যাশার চাপে পড়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলে। কারন, এটা সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। যে কোনও মুহূর্তে ওভার বাউন্ডারি মারার ক্ষমতা ওদের আছে। তাদের আমার একটা কথাই বলার আছে। চাপে পড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেল না। কারন তোমাদের উপর প্রত্যাশার চাপ বাড়বে। তখন তোমার একটাই কাজ, সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলো। কোচের সঙ্গে বসে পড়। সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে সময় দাও। এভাবে নিজেদের খেলাকে পড়ে নিতে হবে। তরুনদের কাছে এটাই আমার বার্তা। উপদেশও বলা যেতে পারে। নিজের দল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ধোনি বলেন, ব্রেভিস আমাকে চমকে দিয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে খেলে। বড় রানের ইনিংস খেলতে গেলে কিছুটা ঝুঁকি তো নিতেই হবে। সেই সময় আমরা নিজেদের ভাল জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি। রান রেট বেড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু একটা সমস্যাও হয়েছিল। আমরা শুরুতে বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম। সেটাই মিডলঅর্ডারদের চাপে ফেলে দেয়। এটা না হলে আমরা বোর্ডে আরও বএশি রান দেখাতে পারতাম। কামবোজও ভাল করছে। দিন যত এগোচ্ছে, ওর খেলার প্রতি বৈচিত্র দেখতে পাচ্ছি। বলকে ভাল মুভ করাতে পারে। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এভাবে ওরা এগিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতে উন্নতি করতে পারবে।
আবার হার, ইতিহাসের পাতায় নাম লিখতে চলেছেন ধোনিরা

সিএসকে: ৮ উইকেটে ১৮৭ (২০ ওভার) রাজস্থান রয়্যালস: ৪ উইকেটে ১৮৮ (১৭.১ ওভার) আইপিএল ইতিহাসে সম্ভবত এবার নিজেদের নাম লিখতে চলেছে চেন্নাই সুপার কিংস। রবিবার লিগের শেষ ম্যাচ তারা খেলবে গুজরাট টাাইটানসের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে তাদের জয় অতি বড় সিএসকে সমর্থকও দেখতে পাচ্ছেন না। সেটাই যদি সত্যি হয়, তা হলে লিগ টেবিলে একেবারে শেষে জায়গা পাবেন ধোনিরা। দশ দলের লড়াইয়ে তারা দশ নম্বরে থাকবেন। এমন হলে সেটাই হবে সিএসকে-র কাছে আইপিএল ইতিহাসে নাম তোলা। এর আগে তরা কখনও শেষ বেঞ্চে বসেননি। এবর হয়তো সেটাই হতে চলেছে। সত্যি কি বিচিত্র ক্রিকেট। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের এমন বেহাল অবস্থা দেখে সকলেই হতবাক। এমনও হতে পারে। বাস্তব তাই বলছে। যারা প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে পথ চলা শুরু করেছিল, তারাই দশ নম্বরে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করছে। কি অদ্ভুত ঘটনা! তাই না! সিএসকে ম্যানেজমেন্ট কদিন আগে জানিয়েছিল সামনের মরশুমে তারা তরুন ক্রিকেটারদের দিকে তাকিয়ে দল তৈরি করবেন। কিন্তু সেই কথাকে প্রায় উড়িয়ে দিয়ে কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং বলছেন, না এভাবে দল তৈরি করা যায় না। সিনিয়র ও জুনিয়রদের নিয়ে আমরা এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছি। কে সত্যি বলছেন তা বোঝা মুশকিল। এটাও ঘটনা যে সিএসকে বরাবর সিনিয়র ক্রিকেটারদের উপর নির্ভর করে এসেছে। আর তাতেই সাফল্য এসেছে। তাই তাদের ড্যাডিস আর্মি বলা হয়। সামনের মরশুমে কি নতুন করে চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলবেন। এখনও সে কথা বলার সময় আসেনি। যেমন আসেনি সামনের মরশুমে ধোনি ক্রিকেটার হিসেবে দলের সঙ্গে থাকবেন কিনা। তিনি বলেই দিয়েছেন, এখনও সাত, আটমাস সময় আছে। ভাবার সময় পাচ্ছি। তখন দেখা যাবে আমি খেলার জন্য কতটা ফিট। ফিট থাকলে খেলব, না হলে অন্য কথা ভাবতে হবে। সে যাই হোক, এবার বরং রাজস্থান ম্যাচের কথায় আসা যাক। রাজস্থানের হয়ে বৈভব সূর্যবংশী যেমন চমক দিচ্ছেন, তেমনই আয়ুষ মাত্রে সিএসকে দলের হয়ে ওপেন করতে নেমে নজর কেড়ে নিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে দিল্লির মাঠে তেমনই দেখা গেল। মাত্র ২০ বল খেলে মাত্রে করলেন ৪৩ রান। আর উল্টোদিকে বৈভব ৩৩ বলে করলেন ৫৭ রান। এই দুজনকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে কথা শুরু হয়ে গিয়েছে। একজন ১৪ তো আর একজন ১৭। আজ না হয় কাল, ওরা জাতীয় দলের হয়ে মাঠ কাপাবেন। যেমন কাঁপিয়ে দিলেন দিল্লিতে গুরুত্বহীন ম্যাচে। রাজস্থান প্রথম পর্বের ম্যাচে সিএসকে-কে হারিয়েছিল। আবার হারাল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিএসকে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে। এই রান জয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ম্যাচ জিততে হলে বোলারদের ভাল বোলিং করতে হবে। কি করলেন বোলাররা! খলিল ৩ ওভারে দিলেন ৩৫ রান। তুলনায় কামবোজ ভাল করলেন। আর স্পিনারদের কথা যত কম বলা তত ভাল। অশ্বিন শেষ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নিজের বোলিং গড় খারাপ করলেন। তিনি ৪ ওভারে দিলেন ৪১ রান। দুটি উইকেট অবশ্য পেয়েছেন। নুর ৩ ওভারে ৪২ ও জাদেজা ২ ওভারে ২৭। এমন বোলিংয়ের পাশে উজ্জ্বল রাজস্থানের আকাশ মাডওয়াল। ম্যাচের সেরা আকাশ ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেলেন। এর মাঝে বেভিস (২৫ বল খেলে ৪২), দুবে (৩২ বল খেলে ৩৯) দলকে সামলালেন। না হলে ১৮৭ রানে যায় না সিএসকে। আর ধোনি! তিনি আট নম্বরে ব্যাট করতে নামলেন। তার আগে অশ্বিন, জাদেজারা মাঠে নেমে আউট হয়ে ফিরে এলেন। ধোনি ১৭ বল খেলে করলেন ১৬। কেন! এই কেন-র উত্তর নেই। রাজস্থানকে জেতাল বৈভব ও স্যামসনের জুটিতে বড় রান। তারা ৯৮ রান যোগ করে দিয়ে দলের জয়কে সহজ করে দিলেন। শেষদিকে ধ্রুব জুরেল (৩১) হাওয়ায় ব্যাট ঘুরিয়ে রাজস্তানের জয় এনে দিলেন। অবশেষে রান তাড়া করতে নেমে রাজস্থান ম্যাচ জিতল। কথায় আছে যার শেষ ভাল, তার সব ভাল। এটা কি রাজস্থানের পাশে লিখে দেওয়া যায়!
বৈভবের একটা ওভারই প্রায় ছিটকে দিল কেকেআরকে, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় সিএসকের

সিএসকে ইনিংসের একাদশতম ওভার। পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে গিয়ে চোয়াল চেপে লড়াই চালাচ্ছেন ব্রেভিস ও শিবম দুবে। ক্রমশ চাপ চাপ বাড়াচ্ছেন বরুণ চক্রবর্তী। সেই সময়ই এক ওভারে ৩০ রান দিয়ে ম্যাচ সেখানেই শেষ করে দিলেন বৈভব অরোরা। ম্যাচের শেষে নাইট অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে যতই বলুন, এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে এমনটা হতেই পারে,ব্রেভিস-শিবমরা আসলে ভাল ব্যাট করেছে, তবু প্রশ্ন তো কিছু ওঠেই! টি টোয়েন্টিতে ওভারে একটা-দুটো চার ছয় যে কোনও সময়, যে কোনও বোলারই খেয়ে যেতে পারেন, কিন্তু গোটা ওভার জুড়ে যদি শুধু চার-ছয়ের বন্যা বয়ে যায়, তাহলে কি সেই বোলারের মানসিকতা, টেম্পারমেন্ট, স্কিল নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না? ইডেনের উইকেট খুব সহজ ছিল না। তবু ৬ উইকেট ১৭৯ রান করেছিল কেকেআর। মূলত রাসেলের ২১ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংসের সৌজন্যে। নুর আহমেদ ৩১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বোঝালেন এই উইকেটকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়। এরপর ফিল্ডিং করতে গিয়ে পাওয়ার প্লেতেই ৬০ রানে চেন্নাইয়ের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে কেকেআর। তা রান রেট তখনও যতই ভাল থাকুক না কেন! তারপরই ওই ঘটনা। ব্রেভিস-দুবের লড়াই এবং একটা ওভারে ৩০ রান! শুধু ম্যাচটাই বেরিয়ে গেল না, কেকেআরের প্লে অফের স্বপ্নও প্রায় শেষ। প্রায় কথাটা বলতে হচ্ছে নিছক অঙ্কের কথাটা মাথায় রেখে। ব্রেভিস আউট হয়ে গেলেও ধোনি-দুবে ঠান্ডা মাথায় ক্যালকুলেটিভ ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন চেন্নাইকে। জয় নিশ্চত করার পরই ৪৫ রান করে আউট হন দুবে। বরুণ এদিনও অসাধারণ। ১৮ রানে নিলেন ২ উইকেট। কিন্তু উল্টোদিক দিয়ে ম্যাচ বেরিয়ে গেলে তিনি আর কী করবেন! কতকগুলো প্রশ্ন এদিন বড় হয়ে উঠল। এক, নারিনের অ্যাপ্রোচ। শুধু ক্যাজুয়েল মানসিকতার জন্য নিজের উইকেটটা দিয়ে এলেন। বলটা মিস করার পর তাঁর পায়ে আটকে গড়িয়ে গড়িয়ে ধোনির দিকে যাচ্ছিল। তিন শুধু দেখছেন। শরীরী ভাষায় একটা জড়তা। য়খন ধোনি বলটা ধরে উইকেট ভাঙতে চলেছেন, তখন যেন সম্বিত ফিরল। তড়িঘড়ি ফেরার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। দুই ফিল্ডিংয়ে নাইটদের এত ক্যাজুয়েল মানসিকতা কেন? রিঙ্কু আর রাহানে ছাড়া সেই কামড়টাই কারও নেই। মানসিকতা, লড়াই, তাগিদ – এগুলো রিঙ্কুর কাছ থেকে বাকিরা শিখতে পারেন। তিন, আড়াইটে বোলার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ জেতা যায় না, এটা কি আবার বুঝল কেকেআর? একটা বরুণ, একটা নারিন আর অর্ধেকটা রানা, ব্যাস! আগের ম্যাচ থেকেই নিজের ছন্দটা খুঁজে পেয়েছেন দ্রে রাস। এদিন ম্যাচ জিতলে হয়ত তাঁকে নিয়েই আলোচনা হত। কিন্তু ডি কককে বসিয়ে রেখে গুরবাজকে খেলিয়ে যাওয়া কেন, এটা নিয়ে আলোচনা হবে না? সবচেয়ে বড় কথা গৌতম গম্ভীর নাইট শিবির থেকে সেই খুনে মানসিকতাটাও বোধহয় সঙ্গে করে নিয়ে চলে গিয়েছেন। নাহলে ওখান থেকে এই ম্যাচ কেউ হারে! দিনের শেষে তাই মনে হচ্ছে, তফাৎ গড়ে দিচ্ছে গম্ভীরের থাকা আর না থাকাটাই!
আবেগ নয়, ঐতিহ্যকেও সঙ্গে নিয়ে ছুটছে সিএসকে: সিমন্স

এটাই ঘটনা। এটাই বাস্তব। চেন্নাই সুপার কিংসের বোলিং কোচ এরিক সিমন্স মিডিয়র সামনে এসে যা বলে গেলেন, তার সঙ্গে সবাই একমত। ধোনিদের দলের সঙ্গে আবেগ কাজ করে না একথা বলা যাবে না। তবে সেটাই শেষ কথা নয়। দলের একটা ঐতিহ্য আছে। সেটা আবার আবেগের থেকে বড় ব্যাপার। তাই কোনও ম্যাচই তারা হাল্কাভাবে নেয় না। জিততে হবে, এটাই লাস্ট বেঞ্চে বসে থাকা দলের প্রত্যেকের টার্গেট। শেষ ম্যাচে বেঙ্গলুরুর বিরুদ্ধে যে লড়াই তারা করেছিলেন, তা কেকেআরের সামনে মেলে ধরলে রাহানেদের কপালে দুঃখ আছে। তাই সিমন্স বলছিলেন, আমরা এখন নির্ভর করছি, ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের উপর। সেটা ঠিক হলে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে না। এখনও পর্যন্ত দুটি ম্যাচ জিতেছে সিএসকে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তারা হারিয়েছিল মুম্বইকে। তখন কে ভেবেছিলেন, এরপর এই দল মুখ থুবড়ে পড়বে। শেষপর্যন্ত সেটাই হয়েছে। হারতে হারতে যেন ক্লান্ত সিএসকে। একটা জয় তাদের অনেক কিছু ফিরিয়ে দেবে। একসময় ভারতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন বোলিং কোচ সিমন্স। তারপর ঢুকে পড়েন আইপিএলে। তিনি ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের সেন্টিমেন্ট ভাল মতো জানেন। আর জানেন বলেই বলতে পারছেন এই সব ঐতিহ্যর কথা। আইপিএলের ইতিহাসে সিএসকের এত বাজে পারফরম্যান্স আগে কখনও দেখা যায়নি। গতবছরও তারা প্লে অফে যেতে যেতে ছিটকে গিয়েছে। আরসিবি ম্যাচ জিততে পারলে প্লে অফ খেল সুবিধা হত। কিন্তু তা আর হয়নি। আর এবার! দশ দলের টুর্নামেন্টে তারা এখন দশ নম্বরে। কী বলবেন ধোনি! না বলার মতো ভাষা নেই। নিজের ঘাড়ে ব্যর্থতার দায় নিলেও কে আর তাঁকে টার্গেট করেন। একা ধোনি নন, পুরো দলকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে চলেছে। সিমন্স বলছিলেন, ধোনি কখন নিজেকে নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবে না। দলের তরুন ক্রিকেটারদের দিকে ওর নজর থাকে। তাদের সামনে চলার পথ সহজ করে দেয়। এই যেমন আয়ুষ মাত্রে। ছেলেটিকে নিয়ে ধোনি ধারুন আশাবাদী। এমন অনেক ছেলেকে দেখা যাবে, যারা প্রথমবার দলে এসে ধোনিকে কাছে পেয়ে ছুটে যায়। ওর সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করে। এতে অবশ্য ওদের কাজ সহজ হয়ে যায়। সিমন্সের কথা মেনে নিলেও বলতে হবে যে তরুনদের নিয়ে সিএসকে চলার কথা ভাবলেও উরভিল প্যাটেলের কি হল। ভন্স বেদি আরসিবি ম্যাচে দলে প্রায় ঢুকে পড়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হাঁটুতে চোট পেয়ে সরে যেতে হয়েছে। এমনকি এই মরশুমে তিনি খেলতে পারবেন না। তাঁর বদলি হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে ২৬ বছরের গুজরাটের উরভিল প্যাটেলকে। তিনি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তঁকে কেন কলকাতায় নিয়ে এল না সিএসকে। তাঁর তো সই হয়ে গিয়েছে। দলের অন্যতম কর্তা কাশী বিশ্বনাথ বলেই দিলেন এই দলের সঙ্গে উরভিল ট্রাভেল করছে না। কেন! এর উত্তর মেলে নি। এখানে তো উরভিলকে খেলিয়ে দেখে নিতে পারত সিএসকে। সেটা না হওয়ায় আশা করা যেতে পারে যে রাহানের সঙ্গে ইডেনে টস করতে নামবেন ধোনি স্বয়ং। ট্রায়ালে ডাকা ক্রিকেটারদের পছন্দ হলে এবারের আইপিএলে খেলিয়ে যাচাই করার সুযোগ ছিল। সেটা করতে দেখা গেল না সিএসকে-কে। দলের সঙ্গে এসেছেন অশ্বিন। তিনি খেলবেন কিনা তা জানা যায়নি। এটা কেমন হল! এর উত্তর কে দেবেন। আসলে এই মরশুমে সিএসকে এভাবেই চলছে। আর চলছে বলে রেজাল্ট দিতে পারছে না। এখন দেখা যাক ইডেনে সিএসকে কি করে।
ঋষভকে শেহবাগ, পুরনো ভিডিও দেখার পাশাপাশি কথা বল ধোনির সঙ্গেও

ঋষভ পন্থের কি হল! কোনও কিছু ঠিকভাবে করতে পারছেন না। দলের সাফল্য নেই। তাঁর ব্যাটে রানও নেই। কেন এমন হচ্ছে! তবে কি ভাল খেলার খিদে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেটাই বা হবে কীভাবে! এই ফরম্যাটে তাঁর দাপট দেখে অকশন থেকে তুলে নিয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টাস। ভেবেছিল এবার বাজি জেতা যাবে। আইপিএলে আসার পর লখনউ দারুন কিছু করে দেখাতে পারেনি। এমন কি গৌতম গম্ভীর দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করার সময়ও সাফল্য দেখা দেয়নি। কিন্তু এবার অনেক আগে থেকে আলাদা করে পরিকল্পনা করে তারা এগিয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাদের উপর কেউ বাজি লাগাতে ভরসা পাচ্ছেন না। রবিবার রাতে পাঞ্জাব কিংসের কাছেও হেরে গেল লখনউ। অধিনায়ক ঋষভ আবার ব্যর্থ। তিনি করলেন ১৮ রান। কেন এমন হচ্ছে ঋষভের! লখনউ সুপার জায়ান্টাসের অন্যতম কর্নধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা হতাশ দলের অধিনায়ক ঋষভ পন্থের পারফরম্যান্সে। ২৭ কোটি টাকা খরচ করে অকশন থেকে নিয়েছিলেন ঋষভ পন্থকে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ১০ ম্যাচে করেছেন ১২৮ রান। গড় ১২.৮০। স্ট্রাইক রেট-৯৯.২২। রোল মডেল ধোনির থেকেও ঋষভের পারফরম্যান্স খারাপ। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বীরেন্দ্র শেহবাগ বলছেন, জানি না, অ্যাক্সিডেন্টের ঘটনা মাথা থেকে বের করে দিতে পেরেছে কিনা ঋষভ। অনেক সময় এগুলি মাথায় ঘুরপাক খায়। তাই নিজের সেরাটা বের করে আনতে পারে না। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে ঋষভের উচিত ওর আগে খেলা ভাল ইনিংসগুলির ভিডিও নিয়মিত দেখা। এই ভাল ইনিংসগুলি দেখলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। সেই রানগুলি তো ঋষভ নিজেই করেছে। সেদিন পারলে এখন কেন নয়! সব থেকে বড় ব্যাপার ভি়ডিও দেখলে আজকের ভুলগুলি সামনে ভেসে উঠবে। এগুলি কেউ শুধরে দিতে পারবে না। বড় জোর দেখিয়ে দেবে। তবে বাকি কাজটা ঋষভের নিজের। আরও একট কাজ করতে পারেন ঋষভ। সেটাও বলে দিয়েছেন শেহবাগ। তাঁর মতে হাতের সামনে মোবাইল আছে। সব ক্রিকেটারদের নাম্বারও আছে। যাকে খুশি ফোন করতে পারে। আলোচনা করতে পারে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে। আমার মনে হয় সবাই ওকে সাহয্য করবে। ওর যদি মনে হয় নিজের রোল মডেল ধোনির সঙ্গে কথা বললে সব ঠিক হয়ে যাবে, তা হলে দেরি করছে কেন! এখনই ধোনিকে ফোনে সব কিছু খুলে বলা। ধোনি ওকে পথ বাতলে দেবে। কিন্তু এভাবে দিনের পর দিন পারফরম্যান্স হতে থাকলে ঋষভ সমস্যায় পড়বে। সত্যি কথা বলতে কি অ্যাক্সিডেন্ট থেকে ফিরে ক্রিকেট মাঠে নামর পর ওর কাছ থেকে ভাল ইনিংস দেখা যাচ্ছে না। অনেক ম্যাচ হয়ে গেল। এখনও রান না পেলে কেউ ওর কথা মনে রাখবে না। ঋষভকে মনে রাখতে হবে প্রচন্ড দেরি করে ফেলেছে। আরও আগে উচিত ছিল ওর বন্ধু ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলা। এখন যে কট ম্যাচ আছে, সেখানে রান করুক। এই মরশুমে একটা হাফ সেঞ্চুরি ইনিংস খেলেছে ঋষভ। এবার একটা বড় ইনিংস খেলে দিলে পুরনো ফর্মে ফিরতে দেরি হবে ন।