ওডিআই ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষে রোহিত, গড়লেন রেকর্ড

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজ শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন রেকর্ড রোহিত শর্মার(Rohit Sharma)। কেরিয়ারে প্রথমবার ওডিআই ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষস্থানে পৌঁছলেন রোহিত শর্মা(Rohit Sharma)। শুধু তাই নয় বয়স্ক ক্রিকেটার হিসাবে তিনিই প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে শীর্ষস্থানে নিজের নাম লেখালেন। অস্ট্রেলিয়ার(Australia) বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পরই এই নতুন পুরস্কার পেলেন রোহিত শর্মা। ওডিআই(ODI) সিরিজে ভারতের হয়ে অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন রোহিত শর্মা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে শুরুটা ভালোভাবে না হলেও, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ওডিআই ম্যচে দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন রোহিত শর্মা(Rohit Sharma)। শেষ ম্যাচে তো সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। সেই পারফরম্যান্স দেখার পর তেকেই রোহিত শর্মাকে নিয়ে সকলে উচ্ছ্বসিত। সেই সিরিজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই আইসিসির তরফে পুরস্কারও পেয়ে গেলেন বিশ্ব ক্রিকেটের হিটম্যান। আইসিসির ওডিআই ব্যাটারদের তালিকায় প্রথমবার শীর্ষস্থানে পৌঁছলেন তিনি। আইপিএল চলাকালীনই টেস্ট ফর্ম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন রোহিত শর্মা। চিয়ো টোয়েন্টি আগেই অবসর নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই ফের একবার দেশের জার্সিতে নেমেছিলেন তিনি। তবে সেই সিরিজের আগেই আবার তাঁকে অধিনায়কত্ব থেকেও সরানো হয়েছিল। সেই নিয়েও কম জল্পনা হয়নি। আদৌ রোহিত শর্মা বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন কিনা তা নিয়েও একটা জল্পনা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেই সেই জবাবটা দিয়েছিলেন ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার। দ্বিতীয় ম্যাচে ৭৩ রানের ইনিংস। আর শেষ ম্যাচে তো তাঁর সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেননি অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। তাঁর একের পর এক বড় শট পার করেছিল গ্যালারী। অপরাজিত সেঞ্চুরি ইনিংস খেলেছিলেন রোহিত শর্মা। সেই পারফরম্যান্সেরই এবার পুরস্কার পেলেন রোহিত শর্মা। সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার হিসাবে আইসিসির ওডিআই ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষস্থানে নিজের জায়গা পাকা করে ফেললেন তিনি। সেইসঙ্গেই কেরিয়ারে প্রথম এই মাইলস্টোনও ছুঁলেন রোহিত। সামনেই রয়েছে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজ। সেখানেও রোহিতকে এই চেনা ছন্দে দেখা যায় কিনা সেটাই দেখার।
সুপার ফোরেও ভারত-পাক ম্যাচের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট

পাকিস্তানের যাবতীয় দাবি উড়িয়ে সুপার ফোরেও ভারত বনাম পাকিস্তান(INDvPAK) ম্যাচের ম্যাচ রেফরি অ্যান্ডি পাইক্রফটই(Andy Pycroft)। হ্যান্ডশেক বিতর্কে (Handshake Row) এই অ্যান্ডি পাইক্রফটকে (Andy Pycroft) সরানো নিয়েই সরব হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এমনকি আইসিসির(ICC) দ্বারস্থও হয়েছিল তারা। কিন্তু তাদের কোনও কথাই কানে তুলল না বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। বরঞ্চ সুপার ফোরেও সেই পাইক্রফটকেই ভারত-পাক ম্যাচের গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তে যে পাকিস্তানের সরাসরি হার হয়েছে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। এশিয়া কাপের (Asia Cup) গ্রুপ পর্বে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল ভারত ও পাকিস্তান (INDvPAK)। আর সেই ম্যাচের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে গিয়েছিল একটাই বিতর্ক। শুরু থেকে শেষপর্যন্ত পাকিস্তানের কোনও ক্রিকেটারের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয় দলের অধিনায়ক থেকে অন্যান্য ক্রিকেটাররা। আর সেটাই ঠিক হজম করতে পারেনি পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে পাক বোর্ডের কর্তারা। এরপরই শুরু হয়েছিল হৈচৈ। এই ঘটনার জন্য ম্যাচের ম্যাচ রেফারি প্রাক্তন জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটার অ্যান্ডি পাইক্রফটকে (Andy Pycroft) কাঠগড়ায় তুলতে শুরু করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এমনকি তাঁকে অপসারনের দাবি নিয়েও সরব হয়েছিল তারা। যদিও আইসিসি পাকিস্তানের দাবি নিয়ে একেবারেই কর্ণপাত করেনি। বরং আবারও সেই অ্যান্ডি পাইক্রফটকেই ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের ম্যাচ রেফারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ম্যাচে পাইক্রফটের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানকে অপমান করার অভিযোগ জানানো হয়েছিল পিসিবির তরফ থেকে। তবে আইসিসি পাকিস্তানের দাবি মানতে নারাজ ছিল। কারণ সেই ঘটনার পর মিস কমিউনিকেশনের কথা শোনা গিয়েছিল অ্যান্ডি পাইক্রফটের মুখে। একইসঙ্গে তিনি ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছিলেন সেই ম্যাচের পর। যদিও পাকিস্তানের দাবি ছিল তাঁকে অপসারণ এবং ভারতকে শাস্তি দেওয়া। কিন্তু হাত মেলানো বা না মেলানো নিয়ে সেভাবে আইসিসির রুল বুকেই তেমন কিছু নেই। আর সেই কথা মনে করিয়েই পাকিস্তানের সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করেছিল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। এরপর পাকিস্তান এশিয়া কাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। যদিও আইসিসির সঙ্গে আলোচনার পর সেই পথ থেকেও সরে আসতে হয়েছিল পাক ক্রকেট বোর্ডকে। সুপার ফোরে আবারও সেই ভারত-পাক লড়াই। সেখানেও ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট। আইসিসির সাফ বার্তা এই প্রাক্তন জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটারই সামলাবেন ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব। ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে যে এটা পাক শিবিরের কাছে ফের একটা বড় ধাক্কা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শ্রেয়ার গলায় “Bring It Home”, হরমনপ্রীতদের লক্ষ্য প্রথম বিশ্বকাপ

শ্রেয়া ঘোষালের(Shreya Ghoshal) গলায় “ব্রিং ইট হোম”(Bring It Home)। ভারতীয় মহিলা দল কী পারবে প্রথমবার ওডিআই বিশ্বকাপ(Womens Odi World Cup) জিততে। আর মাত্র কয়েকটা দিন, এরপরই ঘরের মাঠে আইসিসির(ICC) মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপ। তারই থিম সং প্রকাশ্যে এনেছে আইসিসি। গান গেয়েছেন এই মুহূর্তের ভারতের সেরা মহিলা গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল(Shreya Ghoshal)। সেই গান সোশ্যাল মিডিয়াতে আসতেই ভাইরাল। সবচেয়ে বেশি ভাইরাল তাঁর গানের একটাই কথা- ব্রিং ইট হোম। এখনও পর্যন্ত একবারও ওডিআই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ভারতীয় দল। সেটাই এবার স্মৃতি মন্ধনারা(Smriti Mandhana) করতে পারেন কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে। ঘরের মাঠে মহিলাদের বিশ্বকাপ(Womens Odi World Cup) ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে মহিলাদের বিশ্বকাপ। সেখানেই উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নামবেন হরমনপ্রীত কৌর(Harmanpreet Kaur), জেমিমা রডরিগেজরা(Jemimah Rodriguez)। ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান হয় কিনা সেই অপেক্ষাতেই এখন সকলে। মিতালী রাজ(Mithali Raj), ঝুলন গোস্বামীরা(Jhulan Goswami) ফাইনালে পৌঁছলেও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। শেষবার অস্ট্রেলিয়ার কাছেই ফাইনালে হারতে হয়েছিল ভারতীয় মহিলা ব্রিগেডকে। এবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। সেখানেই শ্রেয়া ঘোষালের(Shreya Ghoshal) গলায় থিম সং ব্রিং ইট হোম(Bring It Home)। শ্রেয়ার এই গানের কথা যে এখন সমস্ত ভারতীয়রই মনের কথা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই গানের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত রয়েছে নানান চমক। আর শ্রেয় ঘোষালের সুরের জাদু তো রয়েছেই। বিশ্বকাপের (Womens Odi World Cup) থিম সং গেয়ে উচ্ছ্বসিত শ্রেয় নিজেও। তিনি জানিয়েছেন, আইসিসি মহিলাদের বিশ্বকাপের অংশ হতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে মহিলাদের ক্রিকেট ঘিরে সংঘবদ্ধতা, স্পিরিট সবকিছুই আমায় মুগ্ধ করেছে। এমন একটা বিরাট প্রতিযোগিতার অংশ হিসাবে আমার গান যে সুযোগ পেয়েছে, তাতেই আমি গর্বিত। আমি আশা করছি এটা হয়ত সমস্ত ভক্ত, সমর্থকদের মধ্যে একটা আদর্শ হিসাবে হয়ে উঠতে পারবে। ৩০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলার পরই চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে নামবে ভারতীয় মহিলা ব্রিগেড। ৫ অক্টোবর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামবেন স্মৃতি মন্ধনারা। মহিলাদের বিশ্বকাপে ভারতের সূচি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা – ৩০ সেপ্টেম্বর ভারত বনাম পাকিস্তান – ৫ অক্টোবর ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা – ৯ অক্টোবর ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া – ১২ অক্টোবর ভারত বনাম ইংল্যান্ড – ১৯ অক্টোবর ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড – ২৩ অক্টোবর ভারত বনাম বাংলাদেশ – ২৬ অক্টোবর দীর্ঘ ১২ বছরের প্রতীক্ষা শেষ করে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল তাদের প্রথম ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষায় সকলে।
পাইক্রফটকে সরাবে না আইসিসি, নাম তুলে নেবে পাকিস্তান!

পাকিস্তানের দাবী নস্যাত করল আইসিসি(ICC)। আর তাতেই কি এবার এশিয়া কাপের মঞ্চ থেকে নাম তুলে নেবে পাকিস্তান(Pakistan)! অ্যান্ডি পাইক্রফটকে সরানোর দাবি নিয়ে আইসিসির(ICC) দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড(PCB)। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যান্ডশেক কান্ডটা একেবারেই মেনে নিতে পারছে না পাকিস্তান। আর তাতেই ম্যাচ রেফারির বিরুদ্ধে প্রচ্ছন্ন মদতের অভিযোগ তুলে তাঁকে অপসারণের দাবিতে আইসিসির(ICC) কাছে সরব হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড(PCB। কিন্তু তাদের সেই দাবি মানা হবে না বলেই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার তরফে। অর্থাৎ পাইক্রফটকে(Andy Pycroft) সরানো হবে না বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আইসিসির(ICC) তরফে। এরপরই শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে কী এশিয়া কাপ থেকে নাম তুলে নিচ্ছে পাকিস্তান। কারণ সেরকমই তো হুমকি দিয়েছিল তারা। পাকিস্তানের(PCB) বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা(India Cricket Team) হাত মেলানোর সৌজন্য দেখাননি। আর সেটাই যেন মেনে নিতে পারছে না পাকিস্তান। তারা এটাকে ক্রিকেটের নিয়ম উলঙ্ঘন বলেই দাবি করছে এবং এই ঘটনার পিছনে ম্যাচ কমিশনারের মদত থাকারই অভিযোগ তুলেছে। তাদের মতে ভারতীয় ক্রিকেটাররা এমন আচরণ করলেও সেখানে ম্যাচ কমিশনার নাকি কোনওরকম পদক্ষেপ করেননি, বরং মুখ বন্ধ রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়ছিলেন। এরপরই আইসিসির(ICC) দ্বারস্থ হয়েছিলেন পাক ক্রিকেট বোর্ডের(PCB) কর্তারা। পাইক্রফটকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করানোর জন্য। নইলে তারা নাকি এশিয়া কাপ থেকে নাম তুলে নেবে। কিন্তু আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে এমনটা নাকি হবে না। এবার পাকিস্তান কী করে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে। আইসিসির একটি সূত্র তরফে এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কোনওরকম অপসারণই করা হবে না। তার কারণ এমনটা যে হবে তা নাকি এসিসির কর্তারা প্রথম থেকেই জানতেন। আর সেই কমিটিতে পাকিস্তানের সদস্যও ছিলেন। সুতরাং পাকিস্তানের দাবি মানার কোনও সম্ভাবনাই নেই। এমনকি সেখানে পিসিবির ডিরেক্টরও ছিলেন। আর আইসিসির সিদ্ধান্তের জেরে যে পাকিস্তানই সমস্যায় পড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ পাকিস্তান এশিয়া কাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে নামবে পাকিস্তান। প্রশ্ন উঠছে সেই ম্যাচে পাকিস্তান খেলবে তো। এই নিয়ে গুঞ্জন কিন্তু তুঙ্গে। অন্যদিকে এই ঘটনার পরই পিসিবি তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অপারেশন ডিরেক্টরকে সরিয়ে দিয়েছে। পাক ক্রিকেট যে এই ঘটনায় বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে তা বলাই যায়।
ব্রাত্য সিরাজই আইসিসির সেরা খেলোয়াড়

এশিয়া কাপে(Asia Cup) ব্রাত্য। কিন্তু সেই মহম্মদ সিরাজই(Mohammed Siraj) আইসিসির(ICC) তালিকায় এবার সেরা ক্রিকেটার। অগাস্ট মাসে আইসিসির মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেলেন মহম্মদ সিরাজ(Mohammed Siraj)। কিন্তু সেই সিরাজই আবার ভারতের এশিয়া কাপের দল থেকে ব্রাত্য। দল থেকে বাদ পড়ার সেভাবে কখনোই মুখ খোলেননি সিরাজ। এই পুরস্কারটাই যে সিরাজের জবাব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কারটাই পেলেন এবার তিনি। ইংল্যান্ডের(England) বিরুদ্ধে শেষ টেস্টে দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ(Mohammed Siraj)। কার্যত সিরিজ ড্র করার অন্যতম প্রধান কারিগড়ই ছিলেন মহম্মদ সিরাজ। কঠিন সময়ে ব্রিটিশ শিবিরের সেরা তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই সিরিজে ব্যাটেও রান এসেছিল সিরাজের। তাঁর পারফরম্যান্সেরই পুরস্কারটা এবার পেলেন মহম্মদ সিরাজ। আইসিসির(ICC) এই পুরস্কার পেয়ে আপ্লুত মহম্মদ সিরাজ(Mohammed Siraj)। মুখে কিছু না বললেও, এটাই যে সিরাজের জবাব তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। সিরাজ জানিয়েছেন, “আইসিসির মাসের সেরা পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতিটাই আমার কাছে সম্পূর্ণ আলাদা। তেন্ডুলকর-অ্যান্ডারসন ট্রফিটা আমার কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একটা লড়াইয়ের মঞ্চের সদস্য হতে পারাটাও বিরাট ভাগ্যের”। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্টের দুই ইনিংসেই ভারতীয় দলের প্রধান ভরসা ছিলেন মহম্মদ সিরাজ। বুমরার অনুপস্থিতিতে সিরাজের বোলিংয়ের সামনেই বিধ্বস্ত হয়েছিল ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। দুই ইনিংস মিলিয়ে মহম্মদ সিরাজ একাই তুলে নিয়েছিলেন ৯টা উইকেট। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে কঠিন সময়ে ইংল্যান্ডের সেরা তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন তিনি। শেষ দিন ইংল্যান্ডের জেতার জন্য রান একেবারেই বেশি বাকি ছিল না। কিন্তু সিরাজ ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। আর তাতেই সাফল্য। সিরাজের সেই পারফরম্যান্স দেখেই অগাস্টের সেরা টেস্ট ক্রিকেটার হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ। তবে এশিয়া কাপের দলে কিন্তু সুযোগ পাননি তিনি।
ভারতীয় ক্রিকেটে চালু হচ্ছে ‘এসআইআর’, গুরুতর চোটে মিলবে পরিবর্ত

ভারতীয় ক্রিকেটে নয়া নিয়ম। এবার থেকে খেলা চলাকালীন কোনও ক্রিকেটার গুরুতর চোট পেলে তাঁর পরিবর্ত নামানো যাবে। আর সেই পরিবর্ত শুধু ফিল্ডিং নয়, ব্যাটিং এবং বোলিংও করতে পারবেন। আসন্ন লাল বলের মরশুমেই নয়া নিয়ম চালু হচ্ছে। সদ্যসমাপ্ত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে, ম্যাঞ্চেস্টারে ভাঙা পা নিয়ে ঋষভ পন্থের অদম্য, লড়াই দেখেই বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। একইসঙ্গে ভাঙা কাঁধ নিয়ে ক্রিস ওকসের ব্যাট করাও উদাহরণ হয়েছে বোর্ড কর্তাদের কাছে। পন্থ বা ওকসের ঝুঁকি নিয়ে খেলার দরকারই পড়ত না, যদি আইসিসি গুরুতর চোটের ক্ষেত্রে পরিবর্তের সুযোগ দিত। কিন্তু আইসিসির তেমন নিয়ম নেই। আইসিসির নিয়মের গেরো বলছে চোট পেয়ে কোনও ব্যাটার যদি ব্যাট করতে না পারেন তাহলে অন্য কাউকে পরিবর্ত ব্যাটার হিসাবে নামানো যাবে না। একমাত্র ব্যতিক্রম কনকাশন সাব। পন্থের ঘটনার পর বদলি প্লেয়ারের নিয়ম বদলানোর কথা ভাবছে আইসিসি। তবে আইসিসি যেটা ভাবনা চিন্তার স্তরে রেখেছে, সেটাই কার্যকর করে ফেলছে বিসিসিআই। আগামী লালবলের মরশুম থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে শুরু হচ্ছে সিরিয়াস ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট (এসআইআর)। বোর্ড জানিয়েছে, কোনও ক্রিকেটার যদি ম্যাচ চলাকালীন গুরুতর চোট পান তখন তাঁর পরিবর্তে অন্য ক্রিকেটার নামাতে পারবে তাঁর দল। সেই ক্রিকেটার ব্যাট, বল ফিল্ডিং সব করতে পারবেন। তবে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। একমাত্র ম্যাচ রেফারির যদি মনে হয়, কোনও ক্রিকেটারের চোট গুরুতর তবেই ওই রিপ্লেসমেন্টের অনুমতি দেবেন তিনি। আবার ক্রিকেটার যদি ম্যাচ চলাকালীন মাঠে চোট পান তবেই ওই পরিবর্তের অনুমতি দেওয়া হবে। অনুশীলনে বা অন্য কোনওভাবে চোট পেলে পরিবর্ত পাওয়া যাবে না।
শার্দূল না কুলদীপ? সিদ্ধান্ত অধিনায়কেরই, কোচ নয়—সোজাসাপটা গাভাসকর

ম্যানচেস্টার টেস্টে ভারতের বোলিং রণনীতির চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কিংবদন্তি ব্যাটার সুনীল গাভাসকর। শার্দূল ঠাকুরের পরিবর্তে কুলদীপ যাদবকে খেলানো উচিত ছিল বলে মনে করছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি আরও সোজাসাপটা বলেন—“একাদশ নির্বাচনের পূর্ণ দায়িত্ব অধিনায়কের, কোচ নন।” গাভাসকরের মতে, “দিনের শেষে দায়ভার অধিনায়কের। ওটাই তাঁর দল। ওর সিদ্ধান্তেই চলা উচিত। যদি শুভমান গিল কুলদীপকে খেলাতে চাইতেন, তাহলে সেটাই হওয়া উচিত ছিল।” তাঁর আরও সংযোজন, “আমি জানি এইসব বিষয় বাইরের লোকজনের সামনে আসে না। সবকিছু ঠিকঠাক আছে দেখানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সত্যিটা এড়ানো যায় না—দলের নেতৃত্ব ক্যাপ্টেনই দেন, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁরই থাকা উচিত।” এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা চলাকালীন ইংল্যান্ডের ওপেনাররা যখন ভারতীয় বোলিংকে উড়িয়ে দিচ্ছেন, তখনও শার্দূলকে মাত্র পাঁচ ওভার ব্যবহার করেন গিল। তিন-চার দিন মিলিয়ে শার্দূল বল করেছেন মাত্র ১১ ওভার—৫৫ রান খরচ করে একটি উইকেটও পাননি। অথচ কুলদীপের মতো বৈচিত্র্যময় স্পিনার বেঞ্চেই বসে রইলেন। গাভাসকর আরও বলেন, “ধোনি, গাঙ্গুলির মতো ক্যাপ্টেনরা দলকে বদলে দিয়েছিলেন। কারণ ওরা নিজের সিদ্ধান্তে চলতেন। কোচের উপর ভরসা নয়, নিজের সাহসে নেতৃত্ব দিতেন। ক্যাপ্টেনকে যদি শুধু পোস্টার বয়ের মতো বসিয়ে রাখা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সংস্কৃতি ধ্বংস হবে।” গাভাসকরের এই মন্তব্য শুধু গম্ভীরের কোচিং কৌশল নয়, বরং গোটা টিম ম্যানেজমেন্টের রণনীতিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল। ওল্ড স্কুল হলেও আজও গাভাসকর এর মতো সরল, ধারালো বিশ্লেষণই ক্রিকেটের আসল স্পাইন।
লড়াইয়ের দিন ফেলে বিসিসিআই-এর এখন বছরে রোজগার প্রায় ১০ হাজার কোটি!

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও গরিব ছিল! আজ, ২০২৫-এ এই কথা বিশ্বাসযোগ্য না-ও হতে পারে। কিন্তু ৪০ বছর আগে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) ভাঁড়ারে দিন আনি দিন খাওয়ার মতই অবস্থা। ১৯৮৭-র বিশ্বকাপ আয়োজন করতে অনেক লড়াই করতে হয়েছিল বোর্ডকে। সেই বিশ্বকাপ স্পনসর করেছিল রিলায়েন্স। নামও যথারীতি পালটে গিয়ে হয়েছিল রিলায়েন্স কাপ। কিন্তু বিনিময়ে বোর্ডের আর্থিক প্রাপ্তি? ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে মাত্র ৬ কোটি টাকার কাছাকাছি! রিলায়েন্সের সঙ্গে এই টাকাতেই চুক্তি হয় বোর্ডের। দারিদ্র্য প্রথমবার ঘোচে ১৯৯২-এ। ২১ বছর পর নির্বাসনের শাপমুক্তি হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ইডেন গার্ডেন্সে তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে আসা ছিল উপলক্ষ। এই সিরিজের আয়োজন করে যে বিরাট অর্থ প্রাপ্তি হয়েছিল বোর্ডের তা কিন্তু নয়। ম্যাচ প্রতি মাত্র ৪০ হাজার ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার বিনিময়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডকে টিভি রাইটস বিক্রি করে বিসিসিআই। কিন্তু সোনার খনি আবিষ্কারের রাস্তা দেখিয়েছিল ওই সিরিজ। কীভাবে টিভি রাইটস বিক্রি করতে হবে আর কীভাবে তার দাম বাড়িয়ে নিজেদের আর্থিক সমৃদ্ধি তৈরি করতে হবে সেই রাস্তা পেয়ে যায় বিসিসিআই। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি বোর্ডকে। বর্তমানে ভারতীয় বোর্ড ম্যাচ প্রতি ৬৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা আয় করে, শুধুমাত্র ব্রডকাস্টিং রাইটস বিক্রি করে। কোটি কোটি টাকা তারা শুধু মিডিয়া রাইটস বিক্রি করে উপার্জন করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৭৪১ কোটি টাকায়। এই ভারতীয় বোর্ড আইসিসি থেকেও বিরাট পরিমাণ অর্থ নিয়ে আসে। গত অর্থবর্ষে প্রায় ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা বিসিসিআই পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের থেকে। যা আইসিসির মোট লভ্যাংশের ৩৮.৫ শতাংশ। ভারতের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের অংশ যথাক্রমে ৬.৮৯ শতাংশ ও ৬.২৫ শতাংশ। আর এর পিছনেও রয়েছে একটা বড় কারণ। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ক্রিকেট থেকে আইসিসির আয়ের বেশিরভাগটাই আসে যদি ভারতের ম্যাচ থেকে। স্পনসর থেকে টিভি রাইটস, উপার্জনের সমস্ত ক্ষেত্রে ভারত থাকলে অনেক বেশি লাভ হয় আইসিসির। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের স্টেটমেন্ট বলছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাদের উপার্জন হয়েছে ৩১০ মিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের উপার্জন ৯ হাজার ৭০০ কোটির বেশি। ২০১৩ সালের এনডিটিভির একটি রিপোর্ট বলছে ভারত যদি দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে না যায়, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডের দৈনিক ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হবে। ২০২১ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, ভারতের সঙ্গে ৫ টেস্টের সিরিজে ইংল্যান্ডের লাভ হয় প্রায় ১৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১ হাজার ১৮১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। ওই সিরিজের শেষ ম্যাচ না খেলায় ব্রডকাস্টিং রাইটস ও টিকিট বিক্রি থেকে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের ২০ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ২৩২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই ক্ষতি ছুঁয়েছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। ফলে, কোনও ছোট দেশ ভারতের সঙ্গে একটা সিরিজ খেললে যে পরিমাণ অর্থ তারা উপার্জন করে, তাতে হয়তো সেই দেশের কয়েক বছরের খরচ চলে যায়। আর এই কারণেই, একাধিক ছোট ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ ভারতের সঙ্গে তাদের দেশে একদিনের ম্যাচের বা টি-২০ সিরিজ খেলতে চায়। এছাড়াও ২০০৮-এর পর থেকে বিসিসআই-এর রোজগারের একটা বড় অংশের উৎস আইপিএল! ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উপার্জনের প্রায় ৫৯ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা এসেছিল আইপিএল থেকেই। আর এই ভাবেই পৃথিবীর অন্যতম ধনী ক্রীড়া সংস্থায় পরিণত হয়েছে বিসিসিআই।
এবার চার দিনের টেস্ট করার পথে হাঁটতে চলেছে আইসিসি

পাঁচ দিন থেকে কমে এবার টেস্ট ম্যাচ হতে চলেছে চারদিনের। ২০২৭-২০২৯ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সাইকেলে এই নিয়ম চালু হবে। তবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড নিজেদের মধ্যে পাঁচ দিনের টেস্টই খেলবে। চার দিনের টেস্টের ক্ষেত্রে বাড়ানো হবে দিনের খেলার সময়। এখনকার দিনে ৯০ ওভারের নিয়মের পরিবর্তে চার দিনের টেস্টে দিনে ৯৮ ওভার বল করা বাধ্যতামূলক। আইসিসি এই ব্যাপারে অনুমোদন দিতে চলেছে বলেই খবর। এর ফলে ছোট দেশগুলি বেশি টেস্ট খেলার ও দীর্ঘ সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে। লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল চলাকালীন জয় শাহর নেতৃত্বে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানেই এই ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে। তবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড নিজেদের মধ্যে যে টেস্ট সিরিজ খেলবে সেই অ্যাসেজ, বর্ডার গাভাসকর ট্রফি ও তেন্ডুলকর-অ্যান্ডারসন ট্রফির টেস্টগুলি হবে পাঁচ দিনেরই। আইসিসি প্রথম চার দিনের টেস্টকে অনুমোদন দেয় ২০১৭ সালে। ইংল্যান্ড ২০১৯ ও ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে চার দিনের টেস্ট খেলার পর জিম্বাবোয়ের সঙ্গেও চারদিনের টেস্ট খেলল। এই নিয়ম এলে ছোট দেশগুলির অনেকটাই সুবিধা হবে। ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাইকেলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অবশ্য পাঁচদিনেরই হবে। মঙ্গলবার থেকে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে টেস্ট সিরিজ দিয়ে যা শুরু হল।
আইসিসির হল অফ ফেম-এ জায়গা পেলেন ধোনি

ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র ধোনির মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত হল। এবার তিনি হল অফ ফেম-এ জায়গা পেলেন। ৪৪ বছরে পা দেওয়ার এক মাস আগে (৭ জুলাই) তাঁকে এই সন্মান দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি। সোমবার বেশি রাতে এই খবর জানা গিয়েছে। ধোনি হলেন ভারতের ১১ নম্বর ক্রিকেটার যিনি এই সন্মান পেলেন। পাঁচ বছর আগে ১৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেক অবসরের কথা ঘোষণ করেছিলেন ধোনি। তবে তার একবছর আগে তিনি জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছিলেন। ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারার পর ধোনি জাতীয় দলের হয়ে কোনও ম্যাচ খেলেননি। তার ঠিক একবছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নেন ধোনি। জাতীয় দলে ২০০৪-এ প্রথম ধোনিকে খেলতে দেখা গিয়েছিল। শুরুর পথ চলা মোটেও সহজ ছিল না। গোটা চারেক ম্যাচে তিনি কিছুই করতে পারেননি। একসময় ভেবেছিলেন জাতীয় দল থেকে হয়তো তিনি বাদ পড়বেন। কিন্তু বিশাখাপত্তনমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর ১৪৮ রানের ইনিংস জাতীয় দলে জায়গা সিমেন্ট করে দেয়। তারপর থেকে সাফল্যের চাকা গড়গড়িয়ে ছুটেছে। ২০০৭ সালে প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হয়ে ধোনি যান দক্ষিন আফ্রিকায়। শুরুতেই বাজিমাত। ভারতী চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফেরে। টেস্ট ক্রিকেটে রাহুল দ্রাবিড়ের জমানা তখন চলছে। তারপর অনিল কুম্বলে আসেন। অধিনায়কের চেয়ার থেকে এই দুজন সরে যাওয়ার পর ধোনির কাঁধে দায়িত্ব পড়ে। তিনি সাফল্যের সঙ্গে দলকে টেনে নিয়ে যান। তাঁর জমানায় টেস্ট ক্রিকেটে ভারত একনম্বর জায়গা পায়। ধোনির সব থেকে বড় সাফল্য ২০১১ ঘরের মাঠে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে। প্রথম ঘরের মাঠে কোনও দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভারত বিজয়ী হয়। এখানেই শেষ নয়। ২০১৫ বিশ্বকাপে ভারত হারে সেমিফাইনালে। ২০১৬ সালে ভারত এশিয়া কাপ জেতে। ওয়ান ডে ক্রিকেটে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ওয়ান ডে ক্রিকেটে প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ান হন ধোনি। তিন ফরম্যাটে এমন সাফল্য পাওয়ার পর আইসিসির হল অফ ফেম-এ জায়গা পাওয়া মোটেও কঠিন হয়নি ধোনি। এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। তবে শেষ ভাল যার সব ভাল তার। এটাই ধোনিকে আরও উঁচুতে টেনে নিয়ে গেল। ধোনির আগে যে ১০ ক্রিকেটার আইসিসির হল অফ ফেম-এ জায়গা পেয়েছেন তাঁরা হলেন, সুনীল গাভাসকর, ভিনু মানকড়, বিষেন সিং বেদি, কপিল দেব, শচীন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলে, বীরেন্দ্র শেহবাগ, মহেন্দ্র সিং ধোনি, ডায়না এডুলজি, নীতু ডেভিড।