শিবিরে ‘ছেলেদের’ সঙ্গে প্রস্তুতি-ম্যাচ আর উজবেকিস্তান সফর এই সাফল্যের নেপথ্যের নায়ক, বলছেন পারমিতা সিট

সুদীপ পাকড়াশীঃ পারমিতা সিট। অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েদের জাতীয় দলে সুইডেনের জোয়াকিম অ্যালেকজান্ডারসনের একমাত্র সহকারি কোচ। রবিবার মায়ানমারে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে মায়ানমারকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ওঠার পরই বিরল এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে গেলেন পারমিতা। অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের ফুটবলার হয়ে এশিয়ান কাপের মূলপর্বে তিনি খেলেছিলেন ২০০৪-এ। রবিবার, ২০ বছর পর অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় মহিলা দলের কোচ হয়ে পারমিতা আবার এশিয়ান কাপের মূলপর্বে উঠলেন! সেই উচ্ছ্বাস তার কথায়। “ভাবতে ভাল লাগছে যে, আমি সেই অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের সদস্য ছিলাম যারা ২০ বছর আগে শেষবার চিনে, অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলেছিল। কুন্তলা ঘোষ দস্তিদার কোচ ছিলেন আমাদের। এবার কোচ হয়ে সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলাম, ” পারমিতা বললেন সোমবার ভারতে ফিরে। ২৯ বছর বয়সী কোচ মেনে নিলেন যে মায়ানমারের মাঠে তাদের হারানোর কাজটা সহজ ছিল না। “প্রথমত, দলটা শক্তিশালী। দ্বিতীয়ত, ওদের মাঠ, ওদের সমর্থকদের চিৎকার। মানসিক জোর না থাকলে ওই অবস্থায় লড়াই করার শক্তি থাকে না। তৃতীয়ত, দু’একজন ছাড়া এই দলটায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার ছিল না। তাই মানসিক চাপ একটা ছিল। শেষপর্যন্ত মেয়েরা মনের জোর ধরে রাখতে পেরেছে। ম্যাচটা জিতেছে। সমস্ত কৃতিত্ব ওদের,” পারমিতার পর্যবেক্ষণ। এই ‘পারার’ পেছনের রহস্যটা কী? আইডব্লিউএল খেলা নিতা ফুটবল অ্যাকাডেমির চীফ কোচ জানিয়ে দিলেন, বেঙ্গালুরু সাইয়ে দু’মাসের নিবিড় অনুশীলনে ছেলেদের ফুটবল দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা আর উজবেকিস্তানে ‘এক্সপোজার ট্রিপ’-এই দুইয়ের ফসল এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। “সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ যে বেঙ্গালুরু সাইয়ে অত্যাধুনিক পরিকাঠামোর সহায়তায় দু’মাসের নিবিড় অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। মেয়েরা খুব উপকৃত হয়েছিল স্থানীয় কয়েকটি ছেলেদের ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলায়। শারীরিক শক্তি, টেকনিকের পাশাপাশি, ম্যাচ-টেম্পারামেন্টের অনেক উন্নতি হয়েছিল ওই ম্যাচগুলো খেলে। ফেডারেশনকে আরও ধন্যবাদ আমাদের এক্সপোজার ট্রিপের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। উজবেকিস্তান সফর মেয়েদের খুব কাজে লেগেছিল,” পারমিতার বিশ্লেষণ। থাইল্যান্ডে আগামি বছর এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বের আসর বসবে। সেখানে জাপান, উজবেকিস্তান, জর্ডন, থাইল্যান্ডের মত প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। পারমিতা বলছেন, “কোয়ালিফায়ারের প্রস্তুতির মত সুযোগ যদি পাওয়া যায়, কোনও শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে এক্সপোজার ট্রিপ যদি পায় তাহলে এই মেয়েদের পারফরম্যান্স কিন্তু খারাপ হবে না। কারণ, এই দলেও প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব নেই। সুলঞ্জনা রাউল, মোনালিসা সিং-দের মত ফুটবলার আছে। ওদের প্রয়োজন বড় মঞ্চে খেলার মত তৈরি করে দেওয়া।”
হৃদয়ে ৫ জুলাই গঁাথা হয়ে থাকবে

বাবা শেখর ও মা ফুলঝুরি বাসফোরের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা ফুটবলের গর্ব সঙ্গীতা বাসফোর।
ভারতকে এশিয়ান কাপে তুললেন সঙ্গীতা

২০২৬ অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি এশিয়ান কাপের খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে নামছে ভারতীয় দল। শনিবার থাইল্যান্ডে।
হতাশ সুনীলরা চললেন হংকং

অনুশীলনে ভারতীয় দল। ফাইল চিত্র।
থাইল্যান্ডের মাটিতে সুনীলরা অসহায়

বুধবার থাইল্যান্ড-ভারত ম্যাচের একটা মুহূর্ত।
পিছিয়েও নজর কাড়ছে ভারত

থাইল্যান্ড বিরতিতে এগিয়ে।
হ্যাটট্রিকের সন্ধানে ভারত

কোচ মানোলো মার্কেজের সঙ্গে ছাংতে।
থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে আবু ধাবির সেই ম্যাচই প্রেরণা সুনীলদের

আগামি ৪ জুন ফিফা ফ্রেন্ডলিতে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছে ভারতীয় ফুটবল দল। র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে থাইল্যান্ড, তবে সেটা নিয়ে ভাবতে নারাজ মানালো মার্কুয়েজের ভারত। বরং শেষ দুটি সাক্ষাতে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া, তারমধ্যে ২০১৯-এ আবু ধাবিতে এএফসি এশিয়ান কাপে থাইল্যান্ডকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ছিল ভারত। সেই দুরন্ত জয়টাই এই ম্যাচের আগে প্রেরণা সুনীলদের। সেই ১৯৬২ জাকার্তা এশিয়াডে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেবারও ভারত জেতে ৪-১ গোলে। তারপর অবশ্য সময় বদলেছে। থাইল্যান্ড আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত মোট ২৬ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। থাইল্যান্ড জিতেছে ১২ বার, ভারত জিতেছে ৭ বার এবং ড্র হয়েছে ৭ বার। ২০১৯-এ যে ম্যাচে ভারত ৪-১ গোলে জিতেছিল সেই ম্যাচে সুনীল ছেত্রী দুটি গোল করেছিলেন। সুনীল জানান, “ম্যাচটা বেশ কয়েক বছর আগে হয়েছিল। যতটা মনে করতে পারছি গোটা দল খুব ভাল খেলেছিল। অনিরুদ্ধ থাপা ছিল অসাধারণ। উদান্তা খুব ভাল খেলেছিল। আসিক আমার পাশে ছিল। ভাল খেলেছিল। সেই সময়ও কাগজে কলমে থাইল্যান্ড আমাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে ছিল। তবু আমরা শুধু ৪-১ গোলে জিতিনি, যেভাবে দাপট দেখিয়ে ছিলাম, সত্যিই দুর্দান্ত ব্যাপার ছিল।“ সে কারণেই সেই ম্যাচ থেকে প্রেরণা পাচ্ছেন সুনীল। ভারত যেখানে এই মুহূর্তে ১২৭ নম্বরে আছে, থাইল্যান্ড সেখানে আছে ৯৯ নম্বরে। এমন একটা ম্যাচের আগে নিজের মত জানিয়েছেন ছাংতেও। তিনি জানান, “আমরা অনেকবার থাইল্যান্ডর সঙ্গে খেলেছি। খুব ভাল দল। জেতার জন্য ভীষণ ক্ষুধার্ত। ওরা সে রকমই একটা দল, যারা বল নিয়ে খেলতে ভালবাসে, তবে আমরা নিজেদের নিয়েই ভাবছি। আমরা অনুশীলনে যা করেছি ম্যাচে সেটা করতে পারলে থাইল্যান্ড ও হংকং দুটি ম্যচই জিতব। এএফসি এশিয়ান কাপে হংকংয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূরর্ণ ম্যাচে নামার আগে এই থাইল্যান্ড ম্যাচই সুনীলদের স্টেজ রিহার্সাল।
হংকং ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু ভারতের

হংকংকে হারানোর শপথ নিয়ে প্র্যাকটিশে নেমে পড়েছেন সুনীল ছেত্রীরা।
সাহেলকে নিয়ে চমক মানোলোর

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ভারতের তারকা ফুটবলাররা।