ব্রাজিল বিশ্বকাপ যোগ্যতামানের খেলায় খেঁাড়াতে খেঁাড়াতে উঠেছে। যোগ্যতামানের খেলা চলাকালীন বিদায় জানাতে হয়েছে একাধিক কোচকে। ব্রাজিল দলের খেলা নিয়ে বিশ্ব ফুটবল মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবু অবাক করার মতো তথ্য হল-ক্লাব বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ানদের দাপটে অন্যান্য দেশের তারকারা ম্লান। এমন কী গতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও পারছে না ব্রাজিলকে টক্কর দিতে। তাহলে কী ধরে নিতে হবে, আগামী বিশ্বকাপে ঝড় তোলার অপেক্ষায় রয়েছে ব্রাজিল?
গ্রুপ পর্বের পর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা শেষ। এবার অপেক্ষা কোয়ার্টার ফাইনালকে ঘিরে। কোনও চারটে দল ছিটকে যাবে, বাকি কোন চারটে দল সেমিফাইনালে উঠবে, সেই দিকেই সকলে এখন তাকিয়ে। তার আগে এবারের ক্লাব বিশ্বকাপে খেলে যাওয়া দলগুলোর গোলের সংখ্যা ধরলে দেখা যাচ্ছে, সমস্ত দেশকে টপকে গিয়েছে ব্রাজিল। বহু মহাদেশের সঙ্গে দেশের ফুটবলাররা ক্লাব বিশ্বকাপে খেলছেন। সেইসব ফুটবলাররা যেসব দেশ থেকে এসেছেন তাদের গোলসংখ্যা বিচার করলে দেখা যাবে ব্রাজিলিয়ানরা আপাতত শীর্ষে। গ্রুপ পর্বেই ব্রাজিলিয়ানদের গোল সংখ্যা ছিল ১৮। বিশ্বের নানান ক্লাবের হয়ে ব্রাজিলিয়ানরা খেলে থাকেন। যারা ক্লাব বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ান হিসেবে খেলছেন তঁাদের গোল করার সংখ্যা ধরে এগোন হয়েছে। গ্রুপ পর্বে যদি ১৮টা হয়ে থাকে, শেষ ১৬ ম্যাচে সেই সংখ্যা কমে এসে দঁাড়ায় ৬-এ। দুটো পর্যায়ের খেলা ধরলে সেই গোলসংখ্যা গিয়ে দঁাড়াচ্ছে ২৪। মজার ঘটনা হল, দুইয়ে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আর্জেন্টিনা। তাই বলে যে খুব পিছিয়ে আছে তাও নয়। করেছে কম পঁাচটা গোল। এই অব্দি খেলায় আর্জেন্টাইনরা করেছেন ১৯টা গোল। তৃতীয় স্থান দখল করে ফেলেছে ইংল্যান্ড (১৩)। সামান্য কম গোল করে (১২) চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুগ্ম দেশ ফ্রান্স ও পর্তুগাল। ঠিক একইরকম ভাবে ৯টা করে গোল করেছে জার্মানি ও স্পেন। যদি মহাদেশের বিচার করেন তাহলে ইউরোপ ছাড়া আর কারও ছবি চোখের সামনে ভাসবে না। দেখা যাচ্ছে ইউরোপ মহাদেশের ফুটবলাররা মোট গোল করেছেন ৮২। স্বাভাবিক নিয়মেই দক্ষিণ আমেরিকা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে (৫২)। তৃতীয় স্থানে আফ্রিকা গোল করেছে ১৫।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়ে যাচ্ছে ক্লাব বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ।
এবারের ক্লাব বিশ্বকাপে গোল করার বিচারে অন্যান্য বিশ্বকাপকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বকাপে যেখানে গোল করা দেখার জন্য সকলে মুখিয়ে থাকে, ঠিক উল্টো ঘটেছে ক্লাব বিশ্বকাপে। গোল সংখ্যা বিচার করে দেখা যাচ্ছে, এতদিন ধরে যেসব বিশ্বকাপ হয়েছে তাদেরকে এই মুহূর্তে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে। ভুল গেলে চলবে না, এখনও কোয়ার্টার, সেমি ও ফাইনাল নিয়ে ৭টা ম্যাচ বাকি। তাই ধরেই নেওয়া যায়, বিশ্বকাপে গোল করার যাবতীয় রেকর্ড শুধু ভেঙে দেওয়া নয়, মাইলস্টোন গড়বে এবারের ক্লাব বিশ্বকাপ।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল। প্রথম বিশ্বকাপে মোট ১৩টা দল অংশ নেয়। তারপর থেকে ধীরে ধীরে দেশের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ক্লাব বিশ্বকাপে খেলছে ৩২টা দল। তুলনা করতে গেলে সেই সংখ্যক দেশ কবে থেকে খেলছে সেটা আগে দেখা প্রয়োজন। ১৯৯৮ সালে প্রথম ৩২টা দলকে নিয়ে বিশ্বকাপ হয়েছিল। সেই ধারা এতদিন চলে আসছে। যদিও ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি দেশ যোগ দেবে। ক্লাব বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার তুল্যমূল্য বিচার তাই করা হবে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ থেকেই। গ্রুপ পর্বে ৪৮ ও শেষ ১৬- পর্বে মোট ৮ ম্যাচ খেলা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে এই জায়গায় সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপে গোল যা হয়েছে তা এই মুহূর্তে অতিক্রম করে গিয়েছে ক্লাব বিশ্বকাপের খেলায়। ক্লাব বিশ্বকাপে গোল হয়েছে ৫৬ ম্যাচে ১৭৩টি। অর্থাত্্ ম্যাচ প্রতি গোলের গড় ৩.০৮। অথচ ৩২ দলের যোগদান পর্ব থেকে বিশ্বকাপগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, গোল করার বিচারে ক্লাব বিশ্বকাপ ঠিক কোথায় রয়েছে। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছিল ১৭১। ২০১৪ সাল অব্দি এটাই ছিল এক একটা বিশ্বকাপে গোল করার মধ্যে সর্বোচ্চ। ভাঙে গত বিশ্বকাপে। কাতারে সেই গোল সংখ্যার রেকর্ড ভেঙে যায়। ২০২২ বিশ্বকাপে গোল সংখ্যা এসে দঁাড়ায় ১৭২। ভুলে গেলে চলবে না, এখনও কিন্তু ক্লাব বিশ্বকাপের সাতটা ম্যাচ বাকি। তাহলে বলতেই হবে, ক্লাব বিশ্বকাপ অনেক বেশি গোল করার ফুটবলার পেয়েছে। যা সচরাচর বিশ্বকাপে দেখা যায়না।







