কার্লোস আলকারাজ বোঝালেন এবারও তিনি প্রস্তুত। এবারও তিনি ফরাসি ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য তিনি মরিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে এককথায় উড়িয়ে দিলেন ১২তম বাছাই টমি পলকে। ৫৩ মিনিটের মধ্যে দুটো সেটে এগিয়ে যান। তৃতীয় সেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন প্রতিপক্ষ পল। কিন্তু ততক্ষণে সময় অনেক চলে গিয়েছে। শেষমেশ ৬-০, ৬-১ ও ৬-৪ সেটে আলকারাজ জিতে যান। সেমিফাইনালে তঁাকে লড়তে হবে ২৩ বছরের লরেঞ্জো মুসেত্তির সঙ্গে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুসেত্তি মুখোমুখি হয়েছিলেন ফ্রান্সেস টিয়াফোর। সেই ম্যাচে ৬-২, ৪-৬, ৭-৫ ও ৬-২ গেমে জিতে গিয়েছেন। গতবছর উইম্বলডনের শেষ চারে ওঠার পর আবার মুসেত্তি কোনও গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে উঠলেন।
খেলার শেষে আলকারাজ মজার ছলে দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। কেন? যেহেতু কোয়ার্টার ফাইনাল তঁারা ৯৪ মিনিটের বেশি দেখতে পাননি। অথচ প্যারিসের মাটিতে এবার আগের ম্যাচগুলো খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষরা তঁাকে চার সেটের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। তবে খেলার শুরুতে টমি পল শক্ত চ্যালেঞ্জ ছঁুড়ে দেন। মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হবে। সময় যত গড়িয়েছে ততই ম্যাচের রাশ নিয়ে ফেলেছেন স্প্যানিয়ার্ড। টেনিস মহলের ধারণা, আলকারাজকে মনে হয়না ফাইনালে উঠতে বিশেষ বেগ পেতে হবে। যেহেতু চলতি মরশুমেই ক্লে কোর্টে দুবার হারিয়েছেন মুসেত্তিকে। একবার রোমে সেমিফাইনালে। অন্যটা মন্টে কার্লোর ফাইনালে। মুসেত্তি এবার ক্লে কোর্টে মাত্র তিনটে ম্যাচ হেরেছেন। যারমধ্যে ছিল উপরোক্ত দুটি।

জকোভিচ শেষ চারে ওঠার জন্য মরিয়া।
নোভাক জকোভিচ কি পারবেন কোয়ার্টার ফাইনালে আলেকজান্ডার জাভেরেভকে থামাতে? অস্ট্রেলিয়া ওপেনের সেমিফাইনালে এই দুজন মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই ম্যাচে প্রথম সেট টাইব্রেক হওয়ার পর চোটের কারণে সরে দঁাড়াতে বাধ্য হন সার্বিয়ান তারকা। রোল্যা গঁারোতে তেমন চোট নেই। তাই আশা করা যায়, দুজনে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।্ তবে দুজনের সাক্ষাতে এখনও অব্দি জকোভিচ ৮-৫ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। জাভেরভ বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি জকোভিচকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। নাহলে বলতেন না জাভেরেভ, “পারফরম্যান্সের নিরিখে স্বীকার করতেই হবে, আমার চেয়ে এগিয়ে আছেন জকোভিচ। বিশেষ করে গ্র্যান্ড স্লাম স্তরে। আমরা দুজনে অনেক ম্যাচ খেলেছি। অনেক ম্যাচে আমি যেমন জিতেছি। আবার হেরেওছি। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা টেনিস জগতে ইতিহাস হয়ে আছে। এখন আমি সামনের ম্যাচ খেলার দিকে তাকিয়ে থাকতে চাই।” তবে জকোভিচ ফরাসি ওপেন তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। শেষবার জিতেছেন ২০২৩ সালে। এমন কী গতবার প্যারিসের মাটিতে জিতে গিয়েছেন অলিম্পিকের পদক। কোয়ার্টার ফাইনালে এবার ওঠার আগে তিনি টানা ২১টা ম্যাচ এখানে জিতেছেন। গতবার এখানে কোয়ার্টার ফাইনালে হঁাটুর চোট নিয়ে সরে দঁাড়াতে বাধ্য হন। তাই এবার জকোভিচ চাইবেন অতীতের যাবতীয় বদনাম ঘুচিয়ে এবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্যারিসের মাটি ছাড়তে।







