মোহনবাগান-৪ (সন্দীপ মালিক, লেমেনলুন (আত্মঘাতী), পাশান তামাং, আদিল) কালিঘাট এসএলএ-০
জনবিস্ফোরণ ঘটেছিল। সমর্থকরা ফেটে পড়েছিলেন ক্ষোভে। কোচ কার্দোজাকে দিয়েছিলেন গো-ব্যাক ধ্বনি। বৃহস্পতিবার সেই নৈহাটি স্টেডিয়াম দেখল উল্টো ছবি। যেখানে সমর্থকরা খেলার শেষে মেতে থাকলেন বিজয় উল্লাসে। প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন কোচকে। প্রথম ম্যাচে রেনবোর সঙ্গে ড্র করার পর কালিঘাট এসএলএ-র বিরুদ্ধে যেন পাপস্খলন করল মোহনবাগান। যাবতীয় আশঙ্কাকে দুরে সরিয়ে ৪-০ গোলে জিতে গেল। গোলদাতারা হলেন যথাক্রমে সন্দীপ মালিক, লেমেনলুন, পাশান তামাং ও আদিল। লেমেনলুন আত্মঘাতী গোল করে বসেন।
দু-দলের ফুটবল প্রধান স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে মোহনবাগানের তিনি ফুটবল সচিব আবার কালিঘাট এসএলএ-র সর্বময় কর্তা। বলতে গেলে তঁারই দল। তাই খেলার আগে রটে গিয়েছিল মোহনবাগান জিতবে। ময়দানে অনেক কিছু রটে। ৯০ মিনিট খেলা দেখার পর মনে হচ্ছে, কথাটা বোধহয় ঠিক নয়। মোহনবাগান বৃহস্পতিবার ইতিবাচক খেলা খেলেছে। যা প্রথম ম্যাচে একদমই দেখা যায়নি। রেনবোর বিরুদ্ধে দেখা যাচ্ছিল, উইং প্লে নেই, আক্রমণভাগে লোক বাড়াবার বালাই নেই, মাঝমাঠ হয়ে গিয়েছিল স্থবির। তাছাড়া প্রথম ম্যাচ ছিল লিগের। সবকিছুর মধ্যে কেমন যেন একটা অগোছালো মানোভাব ধরা পড়েছিল। ঠিক উল্টো ঘটলো বৃহস্পতিবার। দুটো উইং সচল থাকায় বারবার সমস্যার সামনে পড়েছে কালিঘাট। বিশেষ করে ডান প্রান্ত ধরে সালাউদ্দিন বারংবার আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন। কিছুটা ভোঁতা ছিল বঁা প্রান্ত। এক প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করা সত্ত্বেও কালিঘাটকে দেখা গেল না সেই দিকটা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে। মাঝমাঠকে রুখে দেওয়ার কোনও চেষ্টা দেখা গেল না কালিঘাটের মধ্যে। দুটি অর্ধে দুটো করে তাই গোল পেয়ে গেল মোহনবাগান।
খেলার শুরুতে হারিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। বিশেষ করে ২১ মিনিট অব্দি। সন্দীপ মালিক ডান দিক থেকে আক্রমণে উঠে এসে একক প্রচেষ্টায় গোল করে গেলেন। ডান প্রান্ত ধরে ঢুকে এসে যে শট নেন সন্দীপ তা কালিঘাটের গোলকিপারের হাতে লেগে গোলে ঢুকে যায়। এই গোলই যেন ব্লটিং পেপারে শুষে নিল কালিঘাটের যাবতীয় উচ্ছাস-আবেগ। যাবতীয় উদ্যমের যবনিকা পড়ল ফের আত্মঘাতী গোল খেয়ে বসায়। মাত্র ৮ মিনিটের ব্যবধানে ফের গোল খেয়ে বসল কালিঘাট। এবার গোলের জন্য মূলত দোষী হয়ে থাকবেন গোলকিপার রুমিত যাদব। দূর থেকে ভেসে আসা বল তিনি ফিস্ট করে বের করতে গিয়ে সারসরি বল মেরে বসলেন নিজেদের ডিফেন্ডার লেমিনলুনের মাথায়। সেই বল লেমিনের মাথায় লেগে গোলে ঢুকে যায়। সেখানেই কালিঘাট যেন ম্যাচে পর্দা টেনে দিল। বিরতির পর খেলা শুরু হওয়ার পঁাচ মিনিটের মধ্যে ফের গোল পেয়ে যায় মোহনবাগান। পাশাং দোরজি তামাং যে গোল করলেন তা সত্যি অসাধারণ। ডান দিক থেকে হওয়া সেন্টারে শরীরকে শূন্যে ভাসিয়ে গোল করে যান শিলিগুড়ির ছেলে পাশাং। শেষ পেরেক মোহনবাগান যখন পুতছে কালিঘাটের কফিনে তখন প্রতিপক্ষ ছন্নছাড়া। বেদম হয়ে পড়েছে। মোহনবাগান অবশেষে ম্যাচ জিতে একদিকে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ার সুযোগ পেল। অন্যদিকে সমর্থকদের মনে ফিরিয়ে আনলো দলের প্রতি আত্মবিশ্বাস।







