ক্যান্টারবারিতে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে ভারতীয় এ দলের বেসরকারি টেস্ট ম্যাচ না থাকলে বিতর্ক মাথা চাড়া দিত না। কিন্তু চারদিনের টেস্ট ম্যাচে একটি ঘটনা বোর্ডকে চাপে ফেলে দিল। বাধ্য হয়ে বোর্ড কর্তারা তাঁদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল। বলে দিল ১৮ নম্বর জার্সি বিরাটেরই। সেটা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও কথা উঠবে না।
টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন বিরাট কোহলি। তারও আগে টি২০ বিশ্বকাপ জেতার পর এই ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পড়ে রয়েছে ওয়ান ডে ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই ফরম্যাটে তাঁকে খেলতে দেখা যাবে। তারই মাঝে এমন কান্ড। তা নিয়ে বিতর্ক বেড়ে চলেছে দেখে বোর্ড এগিয়ে এল।
ঘটনাটি কি! ম্যাচের প্রথমদিন ব্যাপারটি চোখে পড়েনি। কিন্তু দ্বিতীয়দিন ভারতীয় এ দল ফিল্ডিং করতে নামার সময় দেখা যায় যে মুকেশ কুমার ১৮ নম্বর জার্সি গায়ে খেলছেন। সেই ছবির ভিডিও সামনে আসতেই যত গন্ডগোল। কী করে বিরাটের জার্সি গায়ে খেলতে নামেন মুকেশ কুমার। জাতীয় দলের হয়ে মুকেশ খেলেন ৪৯ নম্বর জার্সি গায়ে। তা হলে এই ম্যাচে কেন জার্সি বদলে তিনি ১৮ নম্বর বেছে নিলেন। এতে তো বিরাটকে অপমান করা হয়। তিনি এখনও ওয়ান ডে ক্রিকেট খেলবেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। তার আগে এমন কান্ড কী করে ঘটল!
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ১০ ও ৭ নম্বর জার্সি তুলে নিয়েছে। জাতীয় দলের কোনও ক্রিকেটারকে সেই নাম্বার লেখা জার্সিতে খেলতে দেখা যায় না। তবে এটা নিয়েও ঝামেলা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কায় অভিষেক ম্যাচে শার্দুল ঠাকুর ১০ নম্বর লেখা জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন। প্রথমদিনই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। কী করে শচীনের ১০ নম্বর জার্সি গায়ে শার্দুল খেলেন। তড়িঘড়ি বোর্ড এগিয়ে এসে ব্যবস্থা নেয়। তারপর থেকে জাতীয় দলের কোনও ক্রিকেটারকে ১০ নম্বর জার্সিতে খেলতে দেখা যায়নি। ধোনির ৭ নম্বর জার্সি নিয়েও ঝামেলা হওয়ার পরিস্থিতি হয়েছিল। জাতীয় দলের আসার পর শুভমান গিলের পছন্দ ছিল ৭ নম্বর জার্সি। কিন্তু তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে এই জার্সি তিনি ব্যবহার করতে পারবেন না। তখন গিল ৭৭ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নামেন। বোর্ড জানিয়েছিল, ১০ ও ৭ নম্বর জার্সি জাতীয় দলের কোনও ক্রিকেটার ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু হঠাৎ করে বিরাটের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামলেন কেন মুকেশ!
দুদিন কেটে যাওয়ার পর বোর্ডের এক কর্তা এ নিয়ে মুখ খুললেন। বোর্ডের শীর্যস্থানীয় কর্তা জানিয়ে দিলেন, সাইড ম্যাচগুলিতে জার্সি কখনও ভাবা হয়নি। সেভাবে জার্সি পাঠানো হয়ও না। এবার থেকে এ নিয়ে ভাবব। আশা করি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না। মুকেশ ৪৯ নম্বর জার্সি গায়েই খেলবে।
ভাল কথা। দেরিতে হলেও সুমতি হল। কিন্তু এটা তো প্র্যাকটিস ম্যাচ ছিল না। ভারতীয় এ দলের বেসরকারি টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচে ১৮ নম্বর জার্সি কী করে ইংল্যান্ড পৌঁছে গেল। তবে কি বিরাটের কথা ভেবে এই জার্সি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেটাই বা কি করে হয়। দল রওনা হওয়ার আগেই বিরাট টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন। তার আগে অবশ্য বিরাট ঘনিষ্টমহলে জানিয়েছিলেন, ভারতীয় এ দলের হয়ে তিনি খেলতে চান। দুটি না হলেও একটি বেসরকারি টেস্ট খেলবেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্ট সিরিজের আগে নিজেকে তৈরি করতে এমন ভাবনা ছিল বিরাটের। তার জন্য কি আগে থেকে বিরাটের লাগেজ তৈরি হয়ে গিয়েছিল! সেটাই বা হয় কী করে! অনেক ধোঁয়াশা থেকে যাচ্ছে এই জার্সি নিয়ে। তবে বোর্ড এবার থেকে এমন কিছু হবে না বলে জানিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি অবসর নেওয়ার পর ভারতীয় দলে ১৮ নম্বর জার্সি গায়ে কাউকে খেলতে দেখা যাবে না। ১০, ৭ ও ১৮ বাতিল হয়ে যাবে। সেই জার্সি কোনও ক্রিকেটার নিতে পারবেন না।
আরও আছে। বিরাটের মতো রোহিত শর্মাও টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। তিনিও শুধু ওয়ান ডে ক্রিকেট খেলতে চান। ভারতীয় ক্রিকেটে রোহিতের অবদানের কথা মাথায় রেখে ৪৫ নম্বর জার্সিও তো তুলে রাখা উচিত। এটা ক্রিকেটারদের সন্মানের ব্যাপার। এটাও ভেবে দেখতে পারেন বোর্ড কর্তারা।







