ইস্টবেঙ্গল-১ (টেকা গুইতে) সুরুচি সংঘ-১ (বনসল)
সাত গোল দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে সেই দল কিনা গোলের সন্ধানে ৯০ মিনিট হা-পিত্যেশ হয়ে ঘুরে বেড়াল। আটকে গেল ১-১ গোলে। পারল না প্রথমে গোল করে এগিয়ে গিয়েও তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে। সুরুচি সংঘ নিঃসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছঁুড়ে দিতে পেরেছে। ৬৯ মিনিটে বাবলু ওঁরাও যদি লালকার্ড না দেখতেন তাহলে হয়তো লাল-হলুদ ব্রিগেডকে কঠিন মোকাবিলার সামনে দঁাড় করাতে পারত। তবু তাদের লড়াইকে বাহবা না দিয়ে উপায় নেই। ১০জনে খেলা দলের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ মিনিট খেলেও গোল পেল না বিনো জর্জের দল।
বড় ব্যবধানে জেতা দুটো দল। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করেছে উভয় দলই। তারই প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠতে দেখা গেল নৈহাটি স্টেডিয়ামে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। শুরু থেকে দুটো দল গোল করার জন্য ঝঁাপিয়ে ছিল। তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া লক্ষ্য ছিল লাল-হলুদ কিংবা সাদা জার্সিধারীদের। সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। তবে ইস্টবেঙ্গলের তুলনায় সামান্য হলেও গোল করার সহজ সুযোগ সবচেয়ে বেশি তৈরি করেছে সুরুচি সংঘ। দু-বার তাদের বল পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। তাছাড়া কখনও ফঁাকায় বল পেয়েও গোল করতে পারেনি। ৬৯ মিনিটে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুরুচির বাবলু ওঁরাও। ন্যায্য লালকার্ড। যেভাবে বাবলু ওঁরাও ফাউল করেছেন রেফারি লালকার্ড না দেখালে অন্যায় করতেন। তারপর থেকে সুরুচির আক্রমণ ভাগ অনেকটা ভেঁাতা হয়ে যায়। স্বাভাবিক ১০জনের পক্ষে ইস্টবেঙ্গলের মতো দলকে সামাল দেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু সেই কঠিন কাজটাই করে গেল সুরুচি। ইস্টবেঙ্গলকে আটকে দিল একজন কম খেলেই।

সুরুচির আক্রমণ বারংবার রুখে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ।
দ্বিতীয় ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের খেলায় পরিষ্কার হয়ে গেল, চাপে পড়লে লাল-হলুদের ডিফেন্সে ফঁাক-ফোকর তৈরি হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে যায় প্রত্যেকেই। তারই সুযোগ নিয়ে সুরুচি বারবার আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গল প্রথম গোলটা করে বিরতির আগে ইনজুরি টাইমে। সেই গোল করার পেছনে যতটা না গুইতের কৃতিত্ব তারচেয়ে বেশি হতাশ করেছে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার বলরাম মান্ডি। অনায়াসে বল ক্লিয়ার করতে পারতেন। না করে স্লাইডিং মেরে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফলস গিয়ে বসলেন। বল-পায়ের সংযোগ ঠিক না হওয়ায় সেই বল পেয়ে যান আগুয়ান গুইতে। গোলকিপার শুভম রায়কে একা পেয়ে গোল করতে কোনও সমস্যা হয়নি। বিরতির পর খেলা শুরু হওয়ার চার মিনিটের মধ্যে সুরুচি গোল পেয়ে যায়। ডান দিক থেকে বাড়ানো ক্রস থেকে টোকা মেরে গোল করে যান বনসল। তারপর দুটো দল চেষ্টা করছিল একে অপরকে সমস্যায় ফেলতে। সুরুচি গোলের সুযোগ বেশি পেলেও ইস্টবেঙ্গল যে পায়নি তা নয়। তারাও গোল করার কাছাকাছি এসেও ব্যর্থ হয়েছে। সুরুচির গোল করার ঠিক আগের মুহূর্তে আমন সিকে একমাত্র সুরুচির গোলকিপার শুভমকে পেয়ে আলতো শট নেন। সেই বল গড়িয়ে গড়িয়ে গোলে ঢোকার মুখে তা বঁাচিয়ে দেন বলরাম মান্ডি। পরবর্তী সময়ে সায়ন বন্দে্যাপাধ্যায় ফঁাকায় বল পেয়েও গোলকিপারকে পেয়ে গোল করতে পারেননি। মনতোষ মাজি না থাকাটা হয়তো বড় ক্ষতি করে দিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের।







