ভারতীয় পুরুষ দলের সৌজন্যে অনেকেই দয়ানন্দ গরানিকে বা রঘু রাঘবেন্দ্রকে চেনেন। শ্রীলঙ্কার নুয়ান সেনাভিরত্নও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত মুখ। তিনজনই ‘থ্রো ডাউন স্পেশালিস্ট’।
কিন্তু এদের সঙ্গে ভারতীয় এবং আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে উঠে এল আর এক নতুন ‘থ্রো-ডাউন বিশেষজ্ঞের নাম। তিনি শচীন মণ্ডল। উঠে হয়ত আসত না যদি হরমনপ্রীত কৌরদের ভারত মুম্বইতে গত ২ নভেম্বর প্রথমবার ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হত!
সচিনের বয়স ২৪। বাড়ি বহরমপুর। গত সাড়ে তিন বছর ধরে রিচা ঘোষদের নেটে থ্রো ডাউনের কাজটা করছেন শচীন। বিশ্বকাপে জেমাইমা রডরিগেজ-স্মৃতি মন্ধানাদের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের পিছনে রয়েছে তাঁর পরিশ্রমও। বুধবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে গোটা দল। সেই অনুষ্ঠান শেষে দিল্লি থেকে ফোনে শচীন বলছিলেন, “বিশ্বজয়ের এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অনেকদিন ধরে আমরা এই জয়ের জন্য তৈরি হয়েছি। এবার তার ফল পেলাম। আমি নিশ্চিত, এই জয় ভারতে মহিলা ক্রিকেটের পরিস্থিতি বদলে দেবে।”
ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন প্রথম জীবনে। প্রথমে বহরমপুর এবং পরে জিয়াগঞ্জে বছর তিনেক অনুশীলন ও খেলার পর নিজেই উপলব্ধি করেছিলেন ভবিষ্যতে সফল ক্রিকেটার হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

তখন সিদ্ধান্ত নেন ভবিষ্যতেও ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকবেন, ২২ গজের বাইরে থেকে হলেও। জুনিয়রদের ট্রেনিং দেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল। তাকে সম্বল করে পাঁচ বছর আগে, করোনার পর চলে যান বেঙ্গালুরু। সেখানে কিছুদিন কাটানোর পর সুযোগ পান এনসিএ-তে। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি শচীনকে। প্রথমে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একটা সিরিজে কাজ করেন। তারপর সুযোগ পান জাতীয় মহিলা দলে।
সচিন জানাচ্ছেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মহিলা দলের এক-এক জন সদস্য অনুশীলন সেরেছেন ভিন্ন পথে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর যেমন প্লাস্টিক বলে থ্রো ডাউন নিতেন। তাঁর ডেপুটি মন্ধানাকে আবার থ্রো করতে হত একটু বাড়তি গতিতে। সব মিলিয়ে ক’টা থ্রো ডাউন দিতে হত শচীনকে? এই বঙ্গসন্তানের জবাব, “সেভাবে তো গুনতাম না। তবে প্রতিদিন ছ’শো-সাতশো থ্রো ডাউন দিতে হত। সবচেয়ে বেশি থ্রো ডাউন নেয় ক্যাপ্টেন আর ভাইস ক্যাপ্টেন। এক-একদিন একশোরও বেশি থ্রো ডাউন দিতে হয়েছে ওদের। জেমাইমা আবার নেটে বেশি সময় কাটাতে ভালোবাসে। এমনকী দলের প্রত্যেকের ট্রেনিং শিডিউল ভিন্ন ছিল। প্লেয়ারের ধরন বুঝে সেসব ঠিক করা হত।” আপাতত তিনদিনের জন্য বহরমপুরের বাড়িতে ফিরবেন শচীন। তারপর আবার রওনা দেবেন বেঙ্গালুরুতে। পরবর্তী সিরিজের প্রস্তুতিতে সাহায্য করার লক্ষ্য মাথায় নিয়ে।







