খেলো ইন্ডিয়া থেকে বাংলা দল ফের হুমড়ি খেয়ে পড়ল। এবারও গ্রুপ পর্যায়ের রাস্তা পেরোতে পারল না। তার আগেই বিদায় নিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে বাংলা ফুটবল দলকে। গ্রুপ লিগে তিনটে ম্যাচ খেলেছে বাংলা। যারমধ্যে একটা মাত্র ম্যাচ চন্ডীগড়ের বিরুদ্ধে জিতেছে বাংলার ফুটবলাররা। বাকি দুটো ম্যাচ হেরে বসায় বিদায় নিতে হয়েছে দলকে। প্রথম ম্যাচে হারে ওড়িশার কাছে। পরের ম্যাচটা ছিল চন্ডীগড়। সেই দলকে ৬-০ গোলে হারায়। গ্রুপের শেষ ম্যাচ ছিল মেঘালয়ের সঙ্গে। সেই ম্যাচে বাংলাকে জিততেই হত। অথচ সেই মেঘালয়ের কাছে কিনা ৩-১ গোলে হেরে বসে। ৭৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাংলা। তবু সেই দল হারল তাই নয়, ছিটকে গেল প্রতিযোগিতা থেকে। যদিও মেঘালয় ম্যাচ নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের বক্তব্য হল, বাজে রেফারিংয়ের শিকার হয়ে ছিটকে যেতে হয়েছে। ৬০ মিনিটে ইরফান সর্দার গোল করে বাংলাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৭৭ মিনিটে একটা বিতর্কিত পেনাল্টি দেওয়া হয় বাংলার বিরুদ্ধে। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতায় ফেরে মেঘালয়। তারপর দুজন বাংলার ফুটবলার লালকার্ড দেখে বসে। সেই লালকার্ড নিয়েও বাংলা আদৌ খুশি নয়। ৯ জনের বাংলাকে হারাতে তাই বিশেষ অসুবিধে হয়নি মেঘালয়ের।
প্রশ্ন হল, মাত্র কয়েকমাস আগে যেখানে সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলা দলকে নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। সংবর্ধনার জোয়ারে ভেসে গিয়েছিলেন বাংলার কোচ সমেত ফুটবলাররা। সেই বাংলা দল গিয়ে কেন খেলো ইন্ডিয়ায় গ্রুপ পর্যায় থেকে ছিটকে পড়বে? কেন বাংলা দল বেশিদূর এগোতে পারল না? ভদ্রস্থ রেজাল্ট না করার পিছনে কারণ কি ছিল? প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বাংলার কোচ হয়ে যাওয়া নাসিম আলি জানিয়ে দিলেন, মাত্র চার দিন প্র্যাকটিশ করে দল নিয়ে গেলে তার ফলভোগ পেতেই হবে। আক্ষেপের সুরে মোহনবাগান জুনিয়র দলের প্রাক্তন কোচ নাসিম বলছিেলন, “২১ এপ্রিল আমাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। দল বাছাইয়ের কাজ শুরু করি ২৩ তারিখ থেকে। চার দিন মাত্র প্র্যাকটিশ করে দলকে নিয়ে রওনা দিই। আইএফএ-কে আমি দোষারোপ করছি না। চিঠি দেরিতে পেয়েছে বলেই হয়তো আমাকে কোচ নিয়োগ করেছে পরে। তবে প্ল্যান আগে থেকে করে এগোতে হবে। যেদিন চিঠি আসুক না কেন, দল যেন আমাদের প্রস্তুত থাকে। তাহলে সাত-দশ দিনের একটা প্র্যাকটিশ করেও বেরিয়ে পড়া যায়। তখন দেখবেন বাংলার এই হাল হবে না।” আক্ষেপের সুরে বলছিলেন বাংলার কোচ।
অনুর্ধ্ব-১৮ দল খেলে খেলো ইন্ডিয়ায়। সেই দলগঠন করতে গিয়েও বাংলার সেরাদের তিনি পাননি। বহুদল ইয়ুথ লিগে খেলছে বলে তারা তাদের ফুটবলার ছাড়েনি। সুতরাং দলগঠনেও একটা বাধা থেকে গিয়েছে। আইএফএ, ইস্টবেঙ্গল, ডায়মন্ডহারবার, দুই ২৪ পরগণা, ঝাড়খন্ড-সহ বেশ কিছু জেলার ফুটবলারদের নিয়ে দলগঠন করা হয়েছিল। গ্রুপ পর্যায় থেকে দল ছিটকে গেলেও বাংলার তিন ফুটবলার খেলো ইন্ডিয়ার ক্যাম্পে ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তিনজন হলেন, ইরফান সর্দার, আমন যাদব, শেখ জিয়াবুল হোসেন। শেষোক্ত ফুটবলারটি হলেন বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির। ইরফান বাংলার হয়ে পঁাচটা গোল করেছেন। সন্তোষে বাংলা সফল হওয়ার পর কেন খেলো ইন্ডিয়ায় এই হাল জানতে চাইলে নাসিম আলি বলছিলেন, “প্ল্যানিং করে এগোতে হবে। যদি আপনি প্ল্যান না করে এগোন তাহলে এমনই হাল হবে। সন্তোষ ট্রফি ছিল ওপেন টু অল। সকলে খেলতে পারত। এখানে বয়স একটা বাধা হয়ে আছে। যদি আমরা বয়স ভিত্তিক দল ঠিক না করে রাখি তাহলে কিন্তু সন্তোষ ট্রফিতে গিয়েও ধাক্কা খাবে বাংলা। এবছর আমরা সন্তোষে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। পরে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে আমাদের হয়তো চার-পঁাচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই সাপ্লাই লাইন ঠিক করা চাই।”
ওড়িশার কাছে হেরে যাওয়া প্রসঙ্গে বাংলার কোচ নাসিম বললেন,“গত কয়েকবছর আগেও আমরা ওড়িশার কাছে হেরে যাব ভাবতেই পারতাম না। ম্যাচের শেষে তাদের কোচের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ওড়িশার কোচ বলছিল, আটটা জেলায় তাদের সরকারের নিজস্ব অ্যাকাডেমি আছে। সেইসব অ্যাকাডেমি থেকে ফুটবলার বাছাই করে দলগঠন করেছে। অথচ আমাদের এখানে একটাই মাত্র সরকারের নিজস্ব অ্যাকাডেমি আছে। তাহলে ভেবে দেখুন ওড়িশা কোথায় চলে গিয়েছে।” চন্ডীগড়ের কথাও বলতে গিয়ে নাসিম আলি বলছিলেন, সেই দলটাও নাকি গঠন করা হয়েছে পুরো অ্যাকাডেমি থেকে। অথচ বাংলা দলে একজন এসেছেন বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে। নাসিম তাই জানিয়ে দিলেন, যদি পরিকল্পনা মাফিক না এগোন যায় তাহলে বাংলা বারবার ঠোক্কর খাবে।

পদপিষ্ট হওয়া ১১ সমর্থকের জন্য আজীবন আসন সংরক্ষন RCB-র
Shareগতবছরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এই প্রথমবার আইপিএলের(IPL) ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। কিন্তু এই মাঠে ম্যাচে নামার






