ডুরান্ড খেলতে রাজি হয়ে গেল তিন প্রধান। যদিও মোহনবাগান বাদে বাকি দুই প্রধান আগে থেকে না খেলার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। শুক্রবার ডুরান্ড কমিটির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কলকাতার তিন প্রধান ডুরান্ড কাপ খেলবে। ২৩ জুলাই থেকে পঁাচটা রাজ্যে এবার ডুরান্ড কাপ হচ্ছে। ফাইনাল হবে ২৩ আগস্ট। এবারের ডুরান্ডের বৈশিষ্ট্য হল, এই প্রথম ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনি দল খেলতে আসছে। যা আগে কখনও দেখা যায়নি। শোনা যাচ্ছে, ২৮ জুলাই ডুরান্ড কাপে মহামেডান মুখোমুখি হবে ডায়মন্ডহারবার এফসির। মোহনবাগান খেলতে নামবে সম্ভবত ৩১ জুলাই। প্রতিপক্ষ মহামেডান। তিন প্রধানের মধ্যে সবচেয়ে আগে নামতে পারে ইস্টবেঙ্গল। ২৩ জুলাই উদ্বোধনের দিন ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হবে সাউথ ইউনাইটেড এফসি-র।

ডুরান্ড কাপ। শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপ ট্রফি উন্মোচন হল।
শুধু কলকাতার তিন প্রধান নয়, ডুরান্ড খেলার জন্য আইএসএল খেলা ৬টা দল সম্মত হয়েছে। বাকি তিনটে দল হল, পাঞ্জাব এফসি, নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড ও জামশেদপুর এফসি। গতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। এবার তাদের যোগ দেওয়া স্বাভাবিক। তবে আইএসএল খেলা বাকি দলগুলো না খেলার পেছনে একটাই কারণ, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ডামাডোল। যেহেতু ফুটবল ফেডারেশন সারা বছরের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করলেও তাতে আইএসএল খেলার ব্যাপারে কোনও কিছু উল্লেখ নেই। ডিসেম্বরে এফএসডিএল-এর সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে ফেডারেশনের। যদি এফএসডিএল আইএসএল করতে আর রাজি না হয় তাহলে ফঁাপড়ে পড়ে যাবে এআইএফএফ। তাই ফেডারেশন অন্যান্য প্রতিযোগিতা কবে কোথায় হবে জানালেও নিশ্চুপ থেকেছে আইএসএল নিয়ে। সেইজন্য আইএসএল খেলা দলগুলো দিশেহারা। নইলে ডুরান্ড কাপকে প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে কাজে লাগাত দলগুলো।
ডুরান্ড কাপ সেনাবাহিনি দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন ফুটবল প্রতিযোগিতা। আগে নয়াদিল্লিতে হত। ২০১৯ সালে এই প্রতিযোগিতা কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। ডুরান্ড কাপ তারপর থেকে কলকাতা কেন্দ্রিক হলেও উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিয়েছেন সংগঠকরা। এবারও যেমন ডুরান্ড কাপ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, মণিপুর, মেঘালয় এবং আসামে। যোগদানকারী দলগুলোর মধ্যে আইএসএল খেলা ৬টা দলসহ বাকিরা হল-সাউথ ইউনাইটেড এফসি, ১লাদাখ, ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব, বোডোল্যান্ড এফসি, রিয়েল কাশ্মীর, নামধারী এফসি, ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় নৌবাহিনী, ভারতীয় বিমান বাহিনী, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ, ইন্দোনেশিয়া সেনাবাহিনী, শিলং লাজং এফসি। এছাড়া নেপাল সেনাবাহিনী, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী, ট্রাউনেরোকা দলগুলো খেলতে পারে। মোট ২৪টা দলকে ছয়টা গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। তবে মোহনবাগান জানিয়েছে, ১৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট ফেডারেশনের মামলার উপর রায় দিতে পারে। সেই রায়ের সিদ্ধান্ত জানার পর ডুরান্ড কাপে খেলার উপর শিলমোহর দেবে।

গত ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড দলের উচ্ছ্বাস।
শুক্রবার প্রতিযোগিতার পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়। রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মু নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে ট্রফি উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ডুরান্ড কাপের ট্রফি উন্মোচনের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দিত। এশিয়ার প্রাচীনতম টুর্নামেন্ট হল ডুরান্ড কাপ। এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দলগুলো যোগদান করে থাকে।” সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “এবার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ভারতীয় ফুটবলের সংস্কৃতির বিস্তার যেখানে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। ধৈর্য ও কৌশল শিখিয়ে থাকে ফুটবল। এমন প্রতিযোগিতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
যে ভেনুগুলোতে খেলা হবে সেগুলি হল- যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন, কলকাতা কিশোর ভারতী, জামশেদপুর জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স অথবা মোরহাবাদী স্টেডিয়াম, রাঁচি খুমান লম্পক স্টেডিয়াম, ইম্ফল জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম, কোকরাঝাড় শিলংসাই স্টেডিয়াম।







