সাইনা নেহওয়াল, পি ভি সিন্ধুর পরে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে কি উত্থান হতে চলেছে এক নতুন তারার? বৃহস্পতিবার চিন ওপেনে ১৭ বছরের বয়সি উন্নতি হুডা যে অঘটন ঘটালেন তার পরেই ভারতের ব্যাডমিন্টন সমাজে উঠছে এই প্রশ্ন।
৭৩ মিনিটের তুমুল লড়াইয়ের পরে দু’বারের অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন সিন্ধুকে তিন গেমে হারালেন উন্নতি। ফল ২১-১৬, ১৯-২১, ২১-১৩। যা কোনও সুপার ১০০০ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় উন্নতিকে প্রথম বার কোয়ার্টার ফাইনালে নামার সুযোগ এনে দিল। সেই সঙ্গেই সাত বছর পরে সিন্ধু কোনও ভারতীয় প্রতিপক্ষের কাছে হারলেন।
হরিয়ানার রোহতকের মেয়ে উন্নতি। রোহতকের ছোটু রাম স্টেডিয়ামে যাত্রা শুরু উন্নতির। যে স্টেডিয়ামে এক সময় প্রস্তুতি নিতেন অলিম্পিক্স ব্রোঞ্জজয়ী কুস্তিগির সাক্ষী মালিক। সেখানেই এক ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসেন তিনি। আট বছর বয়সে ব্যাডমিন্টন শুরু হয় উন্নতির। মেয়ের আগ্রহ দেখে বাবা উপকার হুডা ভর্তি করে দেন অ্যাকাডেমিতে। সেই শুরু। এর পরে জেলা, রাজ্য স্তর পেরিয়ে ২০১৮ অনূর্ধ্ব-১৩ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ ও ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। ২০২২ সালে নজর কেড়েছিলেন কনিষ্ঠতম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে সুপার ১০০ পর্যায়ের ওড়িশা ওপেন জিতে। যা আরও বড় এক ধাপ এগিয়ে দিল তাঁকে বৃহস্পতিবার চিন ওপেনে।
তবে ছোটবেলা থেকে সিন্ধুর ভক্ত উন্নতি এই ম্যাচ জিতে নিজেই অবাক। ‘‘আজ যে জিতব ভাবতে পারিনি। তবে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেব এটা মাথায় রেখেই নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সিন্ধুর
বিরুদ্ধে জিতে দারুণ লাগছে।’’ যোগ করেছেন, ‘‘দ্বিতীয় গেমে চেষ্টা করেছিলাম নিয়ন্ত্রণ রাখার। কিন্তু পারিনি। তবে তৃতীয় গেমে ধৈর্য হারাইনি। সেই ফলই পেয়েছি।’’ আর সিন্ধু বলেছেন, ‘‘উন্নতিকে শুভেচ্ছা। ও ভাল খেলছে। ও উঠতি খেলোয়াড়, তাই আবারও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’’







