খেলার বাইরে এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যা ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থেকে যায়। মনের মণিকোঠায় সকলে যেন সযত্নে রেখে দেন। বুঝিয়ে দেন, এই ঘটনা কোনওদিন ভোলার নয়। এমনই একটা ঘটনা ঘটে গেল মঙ্গলবার রাতে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। যেখানে সর্বজ্যোষ্ঠের পা স্পর্শ করে আশীর্বাদ নিলেন সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার। সেই দৃশ্যের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে। হৃদয়গ্রাহী মন্তব্য একের পর এক রাখতে লাগলেন ক্রিকেট প্রেমীরা।
ঘটনার সূত্রপাত অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। মঙ্গলবার খেলা ছিল রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে চেন্নাই সুপার কিংসের। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীন সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। ৩৩ বলে ৫৭ রান করে সকলের আশীর্বাদ বলতে গেলে তখনই পেয়ে গিয়েছেন বিহারের ছোট্ট তারকা। পঁাচবারের চ্যাম্পিয়নদের ৬ উইকেটে হারার পিছনে ছিল সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ব্যাটিং। ১৪ বছরের খেলোয়াড় তখন সকলের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। বাকি ছিল শুধু একজনের। ভারতীয় সংস্কৃতিতে পা স্পর্শ করে প্রণাম করা হল একটা ভদ্রতার রীতি। বয়ঃজ্যোষ্ঠদের কাছে এভাবেই কনিষ্ঠরা আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। সূর্যবংশী হলেন আইপিএলে খেলা সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার। অন্যদিকে ধোনি হলেন সবচেয়ে বেশি বয়সের (৪৩ বছর) একজন ক্রিকেট তারকা। তাই ধোনিকে দেখা মাত্রই বৈভব এগিয়ে গিয়ে পা ছঁুয়ে প্রণাম করতে যান। ধোনিও হাসিমুখে বৈভবকে তুলে ধরে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক দূর যেতে হবে। কথা আর বেশি এগোয়নি দুজনের। এবার দুজনে যে যার গন্তব্যস্থলের দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু এই সামান্য ঘটনা ক্রিকেট দুনিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে মন্তব্য করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এমন ঘটনা আজকালকার দিনে খুব একটা দেখা যায়না। কিন্তু বৈভব যা করেছে তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সকলে তেমনই মনে করছেন।
রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। চেন্নাই-এর স্কোর ১৮৬ রানের বেশি এগোাতে পারেনি। আয়ুষ মাত্রে (৪৩) ও ব্রেভিস (৪২) ছাড়া সিএসকের হয়ে ব্যাটে তেমন প্রভাব ফেলতে কেউ পারলেন না। প্রতু্যত্তরে রাজস্থান রয়্যালস শুরু থেকেই ঝড় তুলে দেয়। বিশেষ করে বৈভব ও যশস্বী জয়সওয়াল দুজনে মিলে রাজস্থানকে বলতে গেলে পৌছে দেন নিরাপদ স্থানে। পরবর্তীকালে দলের হাল ধরেন সঞ্জু স্যামসন। শেষ মুহূর্তে ধ্রুব জুরেল মারমুখী মেজাজ ধরে রেখে অনায়াস জয় এনে দেন রাজস্থানকে। ১৭ বল বাকি থাকতে জয়ের দোরগড়ায় পৌছে যায় সঞ্জু স্যামসন এন্ড কোং। তবে দুটি দলই প্লে-অফ থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছে। তবু বৈভব-ধোনির দৃশ্য যেন এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রেখে দিল। কে জিতল বা কে হারল তা নিয়ে আর কারও মাথাব্যথা নেই। শুধু অন্তরের অন্তস্থলে থেকে গেল বৈভব-ধোনির ঘটনা।

পদপিষ্ট হওয়া ১১ সমর্থকের জন্য আজীবন আসন সংরক্ষন RCB-র
Shareগতবছরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এই প্রথমবার আইপিএলের(IPL) ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। কিন্তু এই মাঠে ম্যাচে নামার






